২০ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ হাসিনা সরকারকেই পুনর্নির্বাচিত করা উচিত

  • কাজী সেলিম

(গত বুধবারের পর)

প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিঘœ যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে মানব ও মাদক পাচারের সকল কার্যক্রম ও তৎপরতাকে কঠোরভাবে দমন করে, প্রতিবেশী ভারতের সাথে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান যুগের সৃষ্ট সীমানা বিরোধসহ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের চলমান জটিল জলসীমানা সংক্রান্ত বিরোধ, অত্যন্ত দক্ষতা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করে এক বিশাল ও ঐতিহাসিক সফলতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের জলসীমানার ওপর এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তের বাংলাদেশের প্রাপ্ত ভূখন্ড ভারতের কাছ থেকে উদ্ধার করে তার নিরাপত্তা, মালিকানাকে ধীর স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার সর্বাত্মক ব্যবস্থা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে, দেশমাতৃকার ও জাতির স্বার্থে তিনি নিরলসভাবে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার দৃঢ় সঙ্কল্পের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ, প্রচেষ্টা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রণীত বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, শান্তি স্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী জঙ্গী মুক্ত দেশ কায়েম করার মহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করার এক কঠিন দৃঢ় সঙ্কল্প ও তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্ব শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী সুশৃঙ্খল চৌকস, সামরিক, নৌ ও বিমানবাহিনীর অফিসার এবং সদস্য সংবলিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত গর্ব ও দক্ষতার সঙ্গে দশটি দেশের মিশনে কাজ করছে। তাদের পেশাগত দায়িত্ব, দক্ষতা ও সাহসিকতা, শৃঙ্খলা আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। সমভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন, জাতিসংঘের অধীনে বিভিন্ন দেশে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশ পুলিশ কন্টিনজেন্টের পুরুষ ও মহিলা শান্তিরক্ষী অফিসার ও সদস্যরা। দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহকে বর্তমান বিশ্বে চাহিদা ও প্রয়োজনীয় উপযোগী, আধুনিক প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতার মান উন্নতি বৃদ্ধি করে, সামরিক, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র, বিমান ও নৌবাহিনীর উন্নয়ন সাধনে দুটি সাবমেরিন সংযুক্তকরণসহ, সর্বাত্মক আধুনিকীকরণের সব ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দেশপ্রেমিক অফিসার ও সৈনিকগণ নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আমাদের পতাকা ও সঙ্গীতকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার মহান সঙ্কল্পের অটুট মনোবল নিয়ে আজ দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত। যে কোন অভ্যন্তরীণ ও বহির্শত্রুর আক্রমণ আঘাতের হাত থেকে দেশ ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষার ইস্পাতদৃঢ় চেতনা ও মনোবলে উদ্বুদ্ধ হয়ে আজ অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সজাগ এবং তৎপর। বাংলাদেশ বিশ্ব জলবায়ু বা ক্লাইমেটিক্যাল পরিবর্তনে সর্বাধিক ঝুঁকির সম্মুখীন প্রথম দশটি দেশের অন্যতম একটি দেশ। আমাদের ভূপ্রকৃতি ও জনসংখ্যার আধিক্য বাংলাদেশকে অন্যতম ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেই উদ্দেশ্যে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে কঠোরভাবে তার ও দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা ঘোষণা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের এক-শতাংশ ইতোমধ্যেই ব্যয় করা শুরু করে প্রতিশ্রুত ঘোষণার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে। একই সঙ্গে জলবায়ু সহায়ক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তনও করা হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের তৃতীয় শাক-সবজি, চতুর্থতম চাল উৎপাদনকারী এবং তৃতীয়তম মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশ যেহেতু একটি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, তাই বাংলাদেশকে একটি জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য আক্রমণ ও দুর্যোগের সম্ভাবনাকে প্রতিহত ও মোকাবেলা করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন বিজ্ঞ, দূরদর্শীসম্পন্ন দেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেশের ভবিষ্যত ও জনজীবনকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ‘ডেল্টা প্লান ২১০০’ নামক ৮২ বছরের টেকসই বাস্তবসম্মত একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ঘোষণা করেছেন। একমাত্র বাংলাদেশেই বিশ্বের একটি দীর্ঘমেয়াদি এই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ যেহেতু একটি ডেল্টা বা ব-দ্বীপ সম্মিলিত নদীমাতৃক দেশ, যে কারণে নদী ভাঙ্গন, সমুদ্র তলদেশের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় বন্যা, মাটি ও পানির লবণাক্তা বৃদ্ধি এবং খড়ার ফলে খাদ্য, মৎস্য, শাক সবজি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ফলে উপকূলীয় সাগর তীরের অঞ্চলের জনগণ গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং পর্যায়ক্রমে সর্বহারা হয়ে দরিদ্র হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যকে সুরক্ষা করা, উন্নততর হাওর ব্যবস্থাপনা, নদীরক্ষা করে বাঁধ নির্মাণ, নদী ও উপকূলীয় জনবসতি সুরক্ষার কর্মসূচী, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসহ সব প্রাণী ও উদ্ভিদের সংরক্ষণ, দেশের বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষার অধীনে ভবিষ্যতের এক বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবেই এবং বাংলাদেশে বর্তমান ধাবমান চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে মানবসৃষ্ট সমস্যার জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি টেকসই মহাকর্মপরিকল্পনার বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ আশুকরণীয় পদক্ষেপ হিসেবে এই কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। দেশ ও জাতির বিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে, দেশের মানুষের ভবিষ্যত দুঃখ-কষ্ট লাঘবের একটি উপায় বা আগাম প্রস্তুতি ও পদ্মার মহাপরিকল্পনা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক, মানুষ দরদি, বিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিয়েছেন। দেশের জনগণ, সম্পদ, পশুপাখি, নদনদী খালবিল, মৎস্য সম্পদ ও পানি সুরক্ষার এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের ঐকান্তিক সদিচ্ছার প্রতিফলন হলো, বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রণীত ও গৃহীত এই সুদূরপ্রসারী প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে একটি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও অবাধ সকলের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করে ও একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টি করার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করে তার সহনশীলতা, রাজনৈতিক, দূরদর্শিতা ও সৌজন্যবোধ, সততা ও মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন। যেমন তার মহত্ত্ব ও উদার সৌজন্যবোধের পরিচয় দিয়েছিলেন ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে তখনকার বিরোধী দলের প্রধান ও বর্তমানে বিদেশ থেকে প্রাপ্ত এতিমদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত দন্ডিত ও কারাদন্ড ভোগকারী খালেদা জিয়াকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারী বাস ভবন, গণভবনে নৈশভোজে দাওয়াত দিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করার জন্য দাওয়াত দিয়েছিলেন গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সৌজন্য, শিষ্টাচার হিসেবে। চলবে...

নির্বাচিত সংবাদ