২৪ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোগীর ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষা লিখে দালালের প্রতারণা

  • যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে দালাল চক্রের নতুন প্রতারণা শুরু হয়েছে। তারা রোগীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে নিজেরাই লিখে দিচ্ছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম। পরে পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। প্রতিদিন কেউ না কেউ এই চক্রের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করেই চলছে তাদের প্রতারণা।

গত মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য আসেন বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া গ্রামের ইনছার আলীর স্ত্রী আয়াতুন্নেছা (৬৫)। তার আত্মীয় মেহেদি হাসান হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে চাকরি করেন। সেই সুবাদে তিনি আয়াতুন্নেছাকে নিয়ে যান কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে। আউটডোর না থাকলেও সম্পর্কের জেরে এই চিকিৎসক ব্যক্তিগতভাবে ব্যবস্থাপত্র দেন। আয়াতুন্নেছা জানান, চিকিৎসকের কথামতো তিনি পরবর্তী চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার এই হাসপাতালে আসেন। করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দাঁড়াতেই এক যুবক তার কাছে এগিয়ে এসে বলে ডাক্তার দেখাবেন। তিনি সাড়া দেয়ার সঙ্গেই হাতে থাকা ব্যবস্থাপত্রটি নিয়ে পাশের একটি কক্ষে যান। এসেই বলে এই পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলো করেছেন? তখন তিনি বলেন না ডাক্তারতো তাকে পরীক্ষার বিষয়ে কিছু বলেননি। এই সময় ওই যুবক তাকে বলে এখানে কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেয়া আছে। এগুলো না করালে ডাক্তার কিন্তু পরবর্তী চিকিৎসা দেবে না। আমার সঙ্গে চলেন কম টাকায় করানোর ব্যবস্থা করে নেব। তিনি সরল মনে যুবকের সঙ্গে যান লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। তাকে সেখানে রেখেই ওই যুবক চলে আসে। পরে তিনটি পরীক্ষা বাবদ তার কাছ থেকে নেয়া হয় ৬শ’ ৭০ টাকা। মেহেদি হাসান জানান, তার দাদির ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক কোন পরীক্ষা করতে বলেননি। তিনি পরবর্তী চিকিৎসা নিতে এসেই দালালের খপ্পরে পড়েছেন। দালাল নিজেই ব্যবস্থাপত্রের ওপর সিপি, ইসিজি ও আরবিএস লিখে দিয়েছে। ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের লেখা ও দালালের লেখা সম্পূর্ণ আলাদা তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

চুড়ামনকাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, একইভাবে তাকেও বোকা বানিয়েছে এক দালাল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রতারণায় তিনি ১ হাজারের বেশি টাকা খুইয়েছেন। দৌলতদিহি গ্রামের বিজলী খাতুন জানান, গত মঙ্গলবার পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে তিনি পরবর্তী চিকিৎসার জন্য গেলে ডাক্তার তাকে বলেন এসব পরীক্ষা আপনাকে করতে বলেছে কে। তখন বুঝতে পারেন তিনি দালালের খপ্পরে পড়েছেন। প্রতিদিন এভাবে দালালে আকৃষ্ট হয়ে অনেকই অর্থ খুইয়ে বাড়ি ফিরছেন। সূত্র জানায়, দালাল চক্রের সদস্যরা চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অবস্থান করে। কেউ কেউ আবার রোগীর টিকিটও জমা নেয়। তাদের দেখে বোঝার উপায় থাকেনা তারা প্রতারক। সরল মানুষ হাসপাতালের কর্মচারী ভেবেই তাদের হাতে টিকিট তুলে দেন। এই সুযোগে তারা ব্যবস্থাপত্রে লিখে ফেলছে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার নাম। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

এই মাত্রা পাওয়া