২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার বৃদ্ধ মায়ের যন্ত্রণা ঘুচালেন ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ চৌগাছার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা গ্রামের মৃত আব্দার রহমানের স্ত্রী রিজিয়া খাতুন (৭০)। তাঁর তিন ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। অস্বচ্ছল তিন ছেলের পরিবারে খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করেন বৃদ্ধ রিজিয়া। ১৮ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা ভেঙ্গে যায় তাঁর। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাড় জোড়া লাগাতে ঢুকানো হয় রড। কিন্তু দীর্ঘ আঠারো বছর পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে সেই রড বের করা সম্ভব হয়নি। পায়ের যন্ত্রণা নিয়ে ঘুরছিলেন নানা জায়গায়। কিন্তু চিকিৎসা করানোর গতি হয়নি কোথাও। অবশেষে দেখা পেলেন এক মহানুভব ব্যক্তির। তিনি আর কেউ নন যশোর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। তার দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিজে কাঁধে তুলে নিলেন। করিয়েছেন চিকিৎসা। এখন বাড়ি ফিরে সুস্থ হয়ে হাঁটার অপেক্ষায় দিন গুনছেন রিজিয়া। রিজিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ১৮ বছর ধরে পায়ের যন্ত্রণায় ছটফট করেছি। চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরেছি। কেউ আমার কান্নার দাম দেয়নি। এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নেতাদের কাছেও গিয়েছি কিন্তু তারা এক-দুইশ’ টাকা দিয়ে বিদায় দিয়েছে।

তিনি জানান, একদিন ভ্যানে উঠে ভ্যানওয়ালার কাছে কষ্টের কথাগুলো বলছিলাম। ওই লোক আমাকে ডিসি সাহেবের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে গত ১২ ডিসেম্বর ডিসি সাহেবের কাছে সমস্যার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উনি আমার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। এখন আমার পায়ে আর যন্ত্রণা করবে না। ঠিকমতো হাঁটা-চলা করতে পারব।