২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে মহামারী আকারে হেপাটাইটিস-বি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ১৩ ডিসেম্বর ॥ সদর উপজেলার ফকদনপুর গ্রামে হেপাটাইটিস-বি রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ১০-১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ওই গ্রামে এখন টিকা (ভেকসিন) নেয়ার হিড়িক পড়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে টিকা নিতে পারছেন না দরিদ্র পরিবারের লোকজন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অর্থ বরাদ্দ ও লোকবল সঙ্কটের মাঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন। জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রহিমানপুর ইউনিয়নের ফকদনপুুর গ্রাম। কৃষিনির্ভর এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর। ক্ষুধামন্দা থেকে পেট ফুলে যাওয়া এবং পরবর্তীতে জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি ওই গ্রামের ফুলকুমার (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ফুলকুমারের মৃত্যুতে তার স্ত্রী জসোদাবালা দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। গ্রামবাসী জানতে পেরেছে ফুলকুমার হেপাটাইটিস-বি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। প্রথমে পেট ফুলে যাওয়া ও পরে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন ভোগার পর মারা যাওয়ার ঘটনা এ গ্রামে এর আগে আরও ঘটেছে।

মাস খানেক পূর্বে ওই গ্রামের স্বাধীন ওরফে সাবু (৩৫) এবং কিছুদিন পর তার স্ত্রী মিনতি রানী (২৬) একই রোগে মারা যায়। তাদের একমাত্র সন্তান এখন লালন পালন হচ্ছে তার নানির বাড়িতে। সাবু মারা যাওয়ার বছর খানেক পরে মারা যায় অবিবাহিত যুবক সাজু (৩০)। একইভাবে মথুরাপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র বর্মণ (৩৮) ও ভম্বল দাসের স্ত্রী শুরু বালা (৪০), গজেনের স্ত্রী শুরুবালা (৩৬)’র মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক মারা যাওয়ার ঘটনায় ওই গ্রামে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ গরিব ও দিনমজুর শ্রেণীর হওয়ায় তারা টাকার অভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারছেন না।

এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের দাবি যেন সরকারী খরচে ওই গ্রামে মেডিক্যাল টিম বসিয়ে গ্রামবাসীর পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়।