১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

বীরশ্রেষ্ঠ মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীরের শহীদ দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ ১৪ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর যুদ্ধরত অবস্থায় শহীদ হয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে কারা কোরামে কর্মরত থাকাকালীন ১৫ দিন ছুটি নিয়ে রিসালপুরে ফিরে যান। একদিন পর শিয়ালকোট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মোহদীপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগ দেন। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে যুদ্ধের দায়িত্ব দেয়া হয়।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর একাত্তরের এই দিনে ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধে ক্রমাগত সফলতায় মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে। বরিশালের টগবগে তরুণ সামরিক অফিসার জাহাঙ্গীরের সর্বক্ষণ একটাই চিন্তা মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করা। তিনি ছিলেন ৭নং সেক্টরের মোহদীপুর সাব সেক্টর কমান্ডার। ওই সময় ৭নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন লে. কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান।

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ ডাকবাংলোয় যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ, কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারা এক সভায় মিলিত হন। সে সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর দখলের রণনীতি প্রস্তুত করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর তাঁর বাহিনী নিয়ে কয়েকটি নৌকায় করে মহনন্দা নদী পার হয়ে শহরের রেহাইচরে অবস্থান নেন।

মহানন্দা নদীর দক্ষিণ পাশে বর্তমান সেতুর প্রান্ত সীমায় ছিল পাকিস্তান সেনাদের ঘাঁটি। সেখানে সম্মুখ যুদ্ধে পরদিন ১৪ ডিসেম্বর মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর শহীদ হন। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সোনামসজিদ চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীরযোদ্ধা শহীদ মেজর নাজমুল হকের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয় ।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ জাহাঙ্গীরের ৪৭তম মৃত্যুদিবস পালনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয় প্রশাসন দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল, দোয়া, আলোচনা সভা ও গরিবদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ। বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ পৃথক কর্মসূচীর মাধ্যমে দিনটি পালন করবে। এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হওয়ার স্থানটিতে স্মৃতিসৌধকে ঘিরেও আলাদা কর্মসূচী পালিত হবে।