১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

৩০ ডিসেম্বর আপনারা আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবেন : তোফায়েল

৩০ ডিসেম্বর আপনারা আবার আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবেন :  তোফায়েল

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা ॥ ভোলা-১ আসনের আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী,আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, গত ১০ বছর ধরে বিএনপি প্রর্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় আসেনি। হঠাৎ ভোটের জন্য মানুষের কাছে গেলে তাদের কাছে খারাপ লাগবে। মানুষ প্রশ্ন করতে পারে তাই জণরোষের ভয়ে তারা এলাকায় না গিয়ে ঢাকায় বসে বিবৃতি দিচ্ছে। কিন্তু আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় নিয়মিত এলাকায় এসেছি।

তিনি আরো বলেন, যিনি গরিব দু:খি মেহনতি মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎস করেছেন, যার পিতা জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে আগামী ৩০ ডিসেম্বর আবার মানুষ আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবেন । তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল করেছে। তিনি আন্তর্জাতিক বিশ্বে মর্যাদাশীল নেতা হয়েছেন। তাকে মানবতার মা বলা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এক পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। এদিকে আওয়ামী লীগের এই পথ সভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই জাঙ্গালীয়া গ্রামে এক ধরনের ভোটের উৎসব বিরাজ করে। দলে দলে বিভিন্ন এলাকা থেকে শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই নয় কয়েক হাজার সাধারন নারী পুরুষও অংশ নেয়।

পথ সভা শুরুর আগেই কানায় কানায় জাঙ্গালীয় স্কুলের মাঠপূর্ন হয়ে যায়। সভার শুরুতেই বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদেও হাতে ফুল দিয়ে বিএনপি ও বিজেপির প্রায় দেও শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদেন।

মন্ত্রী বলেন, ভোলায় প্রচুর গ্যাস রয়েছে। সে গ্যাস দিয়ে অনেক শিল্প কলকারখানা হবে। ভোলা হবে দেশের শ্রেষ্ঠ জেলা। ভোলা হবে বাংলাদেশের সিঙ্গাপুর। পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নকে মডেল ইউনিয়নে রুপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, অসহায় মানুষের জন্য ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়। বৃদ্ধ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অনেক সুজোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এতে করে মানুষের অনেক উপকার হচ্ছে। জীবন মান পূর্বের চেয়ে উন্নত হয়েছে।

নির্বাচনের পরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ কাজ আরম্ভ হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন

তোফায়েল বলেন, আজকে যেই স্কুলের মাঠে সভা হচ্ছে সেটি এমপিওভুক্ত করেছি আমরা। এই কলেজ ভবন আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। এই গ্রামের কাঁচা রাস্তা আমরা পাকা করে দিয়েছি। অন্ধকার গ্রামে বিদ্যূৎ এনে দিয়েছি। মেঘনার নদীর ভাঙ্গন রোধসহ অনেক উন্নয়ন হয়েছে তার সরকারের গত ১০ বছরে।

মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে আমাদের উপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। ভোলা-৩ আসনের আব্দুল মালেক নামের এক লোকের দুটি চোখ তুলে নেয়া হয়েছে। মায়ের সামনে মেয়েকে পাশ্ববিক নির্যাতন করেছে। আওয়ামী লীগের মিটিং এ মরিচের গুরা মেরে পন্ড করে দিয়েছে। মিলাদ পড়তে দেয়া হয়নি। কিন্তু আমরা ১০ বছরের ক্ষমতায় একজন মানুষের উপরেও অত্যাচার করিনি। পারলে তাদের সাহায্য করেছি।

ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছগির আহমেদ মাষ্টারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল মমিন টুলু, সদও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: মোশারেফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম বিপ্লব,মো: ইউনুস, সদও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম,ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন প্রমুখ।