২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি
  • মোরসালিন মিজান

মুক্তিযুদ্ধ আসলে কী? না, আজকের প্রজন্ম জানে না। দেশের জন্য অস্ত্র হাতে লড়াই করা বীরদের চিনে না তারা। সিনেমার নায়ক নিয়ে কত গল্প। আসল হিরোরা আড়ালে। দুর্বল শরীর নিয়ে কোন রকমে বেঁচে আছেন। তাদের মুখ থেকে যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস শোনার কেউ নেই। সবাই একাত্তরের ‘সাইড স্টোরি’ শোনাতে ব্যস্ত।

হ্যাঁ, বিজয় দিবস সামনে রেখে এই বেদনাবিধুর উপলব্ধি। আগামী রবিবার ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। এরই মাঝে শুরু হয়ে গেছে উদ্যাপন। উৎসব অনুষ্ঠান চলছে শহর ঢাকায়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রতিদিনই থাকছে নানা আয়োজন। বৃহস্পতিবার সেখানে বসে ছবি আঁকে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলেপমেন্ট অল্টারনেটিভের চারুকলা বিভাগের ৭১ ছাত্রছাত্রী। একই দিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিজয় উৎসবের সূচনা করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এখানে আলোচনা, গান, কবিতা, নাটকের পরিবেশনা। অন্যান্য সংগঠনের পক্ষ থেকেও উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু ঢাকার অধিকাংশ মঞ্চে নেই মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ নেই মানে, রণাঙ্গনের লড়াই সম্পর্কে আজকের প্রজন্মকে ধারণা দেয়ার মতো কোন আয়োজন নেই। মুক্তিযোদ্ধারা এখনও অনেকে বেঁচে আছেন। তাদের কথা শোনার সুযোগ হয় না কারও। উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজকরা সেই পুরনো গৎবাঁধা আলোচনায় মনোযোগী হয়েছেন। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বোঝাতে ব্যস্ত। মুক্তিযুদ্ধ বোঝানোর মুরোদ নেই যাদের তারা চেতনার কথা বলে সামনের সারিতে। এই বেদনা আর নেয়া যায় না। কবে আমরা ফোকাস পয়েন্ট ঠিক করতে পরব? তৃণমূলের লড়াকু মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে রেখে কবে আমরা উদ্যাপন করতে পারব বিজয় দিবস? উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হয়ত কেটে যাবে এবারের বিজয় দিবসটিও।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আসা যাক। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়ে গেছে উৎসব। বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ। নির্বাচনও উৎসব-পার্বণের বাইরে নয়। নাওয়াখাওয়া, ব্যক্তিগত সুখ-অসুখ গোল্লায় যাক। ভোটের আলোচনায় তর্কেবিতর্কে থাকতে হবে। হবেই। একাদশ জাতীয় সংসদ সামনে রেখে এখন সেই চিরচেনা ছবি। সারা দেশের মতো শহর ঢাকাও উৎসবে মেতেছে। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। কর্মীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে স্বস্ব মার্কার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। হ্যাঁ, মনোনয়ন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রচার এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা। এবং এই প্রচারের কাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তারকা শিল্পীরা। রাজনীতির লোকেদের পাশাপাশি তারাও অংশ নিচ্ছেন প্রচারে। নাটকের প্রিয় মুখ, চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা, জনপ্রিয় গায়ক-গায়িকা, কে নেই। নিজ নিজ দলের পক্ষে মাঠে নেমেছেন তারা। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের প্রচারাভিযানে অংশ নেন স্বনামধন্য তারকাদের বড় একটি দল। এদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষ, জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা জাহিদ হাসান, শমী কায়সার, মাহফুজ আহমেদ, তারিন, তানভীন সুইটি, বাঁধন, চলচ্চিত্র নায়ক শাকিল খান, অরুণা বিশ্বাস, রোকেয়া প্রাচী, সঙ্গীতশিল্পী এস ডি রুবেল। কবিদের মধ্যে ছিলেন তারিক সুজাত। হঠাৎ করেই এত চেনা মুখ। প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে হাত নাড়তে নাড়তে যাচ্ছেন। দেখে পথচারীদের সে কী কৌতূহল। শোভাযাত্রা থেকে তারকারা নৌকা প্রতীকে ভোট চান। ৮টি খোলা ট্রাকে চেপে প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা যায় তারকাদের। এ সময় অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। উন্নয়নের পক্ষে। তবে শুধু পক্ষে থাকলে হবে না। মাঠে নামতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিজেদের ভক্ত-অনুরাগীদের অনুরোধ জানান আরেক অভিনেত্রী তারিন। শাকিল খান একটি খোলা গাড়িতে চড়ে প্রচার অভিযানে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, এখন নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। এই কথা প্রকাশ্যে বলতে না পারলে কোন্ কথাটি আর বলতে পারব? শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগ, বাংলামোটর, কাওরানবাজার, ফার্মগেট ও মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়।