২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিজয়ফুলের মাধ্যমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ

  • জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিল্পের সহযোগে সকালের শুরু। সেই সকালে শিল্প বিনির্মাণে ব্যস্ত বিদুষী বর্ণা বিশাখা। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ভাস্কর্য গ্যালারিতে চলছিল তার শিল্প সৃজন। বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী কাগজ কেটে রূপ দিয়েছে পাতায়। সাদা কাগজের মাঝে নীল রং লেপে গড়া পাতাটি ভাসিয়েছে কৃত্রিম জলাধারে। এরপর একে একে কাটা কাগজের সাহায্যে মেলে ধরেছে ছয় পাপড়ি ও একটি কলি। খুদে শিক্ষার্থীর ভালবাসায় নির্মিত সেই শাপলা ফুলটি পরিণত হলো বিজয়ফুলে। আর এই বিজয়ফুলের মাধ্যমে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে স্মরণ করা হলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের। এভাবেই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের গৌরবগাথার স্মারক বিজয়ফুল প্রতিযোগিতা। বিশাখার মতোই সারাদেশের স্কুল, কলেজে ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে অংশ নিয়েছে জাতীয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতায়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথমবারের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজা, ভাস্কর্য গ্যালারি, সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কলা মিলনায় ছড়িয়ে দেয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ১৪৪ শিক্ষার্থী। তাদের কেউ লিখেছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প, কেউ বা তৈরি করেছে শাপলা ফুল, অনেকেই মগ্ন ছিল কবিতা রচনায়। সেই সঙ্গে ছিল মুক্তিযুদ্ধনির্ভর কবিতা আবৃত্তি ও একক অভিনয়। হেমন্ত সকালে জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিদুষী বর্ণা বিশাখা অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, দারুণ লাগছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে অংশ নিচ্ছি জাতীয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতায়। আর আমার তৈরি বিজয়ফুলটি শুধু একটি স্মারক নয়, এ ফুলের মাধ্যমে আমরা বলছি দেশ, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের কথা। এই বিজয়ফুল নিয়েই আমরা সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তে পারি। স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণসহ বাঙালীর মুক্তির সনদ ছয় দফাকে।

একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আব্দুল মান্নান ইলিয়াস। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিশু একাডেমির পরিচালক আনজির লিটন।

প্রধান অতিথি এন এম জিয়াউল আলম বলেন, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তঃশ্রেণী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুরু হয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যারা বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী হয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে, তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। একইসঙ্গে যারা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হবে, তাদেরকেও অগ্রিম অভিনন্দন। তিনি আরও বলেন, এ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়াই বড় কথা নয়, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণই মুখ্য বিষয়। এর মাধ্যমে প্রতিযোগীসহ নতুন প্রজন্মের মাঝে যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ সঞ্চারিত হচ্ছেÑ সেটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিজয়ফুল প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশু-কিশোর এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও ভালভাবে ধারণ, লালন ও বিকাশ এবং উদ্বুদ্ধকরণে সহায়তা করা। জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদপত্র প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে বিজয়ীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বর্তমান সরকার যেসব কর্মসূচী গ্রহণ করেছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম। এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত বীর শহীদদের স্মরণে ‘রিমেমব্রান্স ডে’ উদ্যাপনের আদলে স্মরণ করব আমাদের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় বিভিন্ন বিভাগের প্রতিযোগিতা। সাতটি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল বিজয়ফুল (শাপলা) তৈরি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প রচনা, কবিতা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় নাট্যশালা মিলনায়তনে পরিবেশিত হয় বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নৃত্য-গীতসহ বহুমাত্রিক পরিবেশনায় সজ্জিত আয়োজনে অংশ নেন একাডেমির শিল্পীরা।