১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধের অঙ্গীকার

  • ওয়ার্কার্স পার্টির ইশতেহারে ১৩ লক্ষ্য ও ২১ কর্মসূচী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি। ইশতেহারে ১৩ দফা লক্ষ্য ও ২১ দফা কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার তুলে ধরেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

ইশতেহারে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও অর্থনীতির সর্বস্তরে দুর্নীতি রোধ, ব্যাংক জালিয়াতি, অর্থ পাচার ও ঋণ খেলাপী রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বেকার যুবকদের নিবন্ধিত করে কর্মসংস্থান সাপেক্ষে বেকার ভাতা প্রদান করাসহ বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর তোপখানা রোডে দলীয় কার্যালয় চত্বরে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এ ইশতেহার উপস্থাপন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান মেনন, পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, নুরুল হাসান, মাহমুদুল হাসান মানিক, ড. সুশান্ত দাস, হাজেরা সুলতানা, কামরূল আহসান, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ প্রমুখ।

কালো কোটে সোনালী রঙের নৌকার ব্যাজ পরে সংবাদ সম্মেলন আসা মেনন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশ উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই উৎসবমুখর পরিবেশে কিছু সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের দু’জন কর্মী নিহত হয়েছেন বিএনপির আক্রমণে। বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি কর্মীরা হয় নিজেদের কারণে অথবা সাধারণভাবে আহত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তারা সেই সন্ত্রাসী পথটাকে বর্জন করেনি।

তিনি বলেন, দেশবাসীর জন্য এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ দলীয় জোটের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা, নাকি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের সেই হত্যা, ধর্ষণ, খুন, হাওয়া ভবনের লুটপাটে ফিরে আসবে তা এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

বিএনপি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবে- এমন আশা ব্যক্ত করে মেনন বলেন, এবারের নির্বাচনে সকল নিবন্ধিত দল এবং অনিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এটা অত্যন্ত ইতিবাচক। আমি বলব এটা ১৪ দলীয় নেত্রীর বিজয়। কারণ- বিএনপি, জামায়াত এবং পরবর্তীকালে ড. কামালের নেতৃত্বে যে ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে ছিল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্বাচনে আর্মিকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিতে হবে। একটি পর্যায়ে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছিল। আজকে তারা পরিপূর্ণ সরে না এলেও নির্বাচনী কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আমরা আশা করব তারা এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন।

এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ আছে কিনা ? সাংবাদিকদের এমন একটি প্রশ্নের জবাবে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, এই নির্বাচন কেন্দ্রিক এখনও যা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। জনগণ যখন নেমে যায়, নির্বাচন যখন উৎসবে রূপ নেয়, তখন এ ধরনের সহিংসতা নির্বাচনের পরিবেশকে খুবু বেশি ক্ষতি করতে পারে না। আমি আশা করব এই নির্বাচন নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণ হবে।

ব্যাংক জালিয়াতি ও ঋণ খেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের উত্তরে মেনন বলেন, ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়া, মিথ্যা কাগজ দিয়ে ঋণ নেয়া ইত্যাদি ঘটনা আছে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন ব্যাংক জালিয়াতির কারণে ইতোমধ্যে কতগুলো গ্রুপকে যেমন- বিসমিল্লা গ্রুপ, ক্রিসেন্ট গ্রুপ, ডেসটিনি, হলমার্ক এদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে এবং তারা সবাই জেলে আছেন। এছাড়া যেসব ব্যাংকে এসব বিষয় থাকছে তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা জোর দিতে চাই ব্যাংক ব্যবস্থার আসু পরবর্তন করা। অর্থমন্ত্রী একটি ব্যাংক কমিশন করার কথা বলেছিলেন, যেটা এখনও হয়নি। আমরা সেই ব্যাংক কমিশন গঠন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।