১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নৌকাই দেবে উন্নয়ন

নৌকাই দেবে উন্নয়ন
  • টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়কপথে ফেরার সময় সাত জেলায় নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী;###; দেশবাসীর প্রতি ভোট দেয়ার আহ্বান;###; জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ওয়াদা

উত্তম চক্রবর্তী, টুঙ্গিপাড়া থেকে ফিরে ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে যাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীকে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশসেবার সুযোগ দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, উন্নয়নের জোয়ার অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন। বিএনপি-জামায়াত আসলে দেশের সব উন্নয়ন ধ্বংস করে দেবে, খুন-সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গীবাদের মাধ্যমে দেশকে আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে। তাই দেশের মানুষ আর অন্ধকারের যুগে ফিরে যেতে চায় না, দেশবাসী চায় নৌকায় ভোট দিয়ে আলোর পথেই এগিয়ে যেতে।

আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সড়ক পথে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় ফেরার পথে পাঁচ জেলার সাতটি নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যদি দেশের উন্নয়নের গতি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান, তাহলে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আরেকটিবার দেশসেবার সুযোগ দিন। একমাত্র নৌকাই দেবে উন্নয়ন, গতিশীলতা আর মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। নৌকা না থাকলে এসব থাকবে না, সবকিছু ধ্বংস করে দেবে।

তিনি বলেন, খুনী, সন্ত্রাসী, বিদেশে অর্থপাচারকারী, অগ্নিসন্ত্রাসকারী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারী, স্বাধীনতাবিরোধী ও এতিমের টাকা আত্মসাতকারীরা (বিএনপি-জামায়াত) আর যাতে ক্ষমতায় যেতে না পারে, দেশকে আবারও ধ্বংস করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত তরুণ সমাজের জন্য উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনই আগামীতে আমাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তরুণ সমাজ বিশেষ করে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে আপনাদেরই (দেশবাসী) সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? বাংলাদেশে আবারও জঙ্গীবাদ, বাংলাভাই, একই দিনে পাঁচ শ’ স্থানে বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির মতো অতীতের অন্ধকারের দিকে ফিরে যাবেন, নাকি জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস-মাদক-দুর্নীতিমুক্ত বর্তমানের উন্নয়নের আলোর পথেই থাকবেন? সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে। নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকার, স্বাধীনতা, উন্নত-সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছেন, আবারও নৌকায় ভোট দিন। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আপনাদের উপহার দেব। প্রত্যেক গ্রামকে আমরা শহরে পরিণত করব।

সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে দোয়া ও মোনাজাত করার পর সকাল ৯টার দিকে টুঙ্গিপাড়া থেকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পথিমধ্যে ফরিদপুর মালিগ্রাম ভাঙ্গার মোড়, ফরিদপুরের কমরপুর মোড়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা মোড়, ধামরাই রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ এবং সাভার রোডে সাতটি পৃথক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। আসার পথে গোপালগঞ্জের মকসেদপুরে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খানকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য এলাকার ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান।

নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনেও এই সাতটি জেলায় নৌকার পক্ষে জোয়ার তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনী জনসভা বলা হলেও এসব জনসভায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিটিই বিশাল জনসভায় রূপ নেয়। প্রতিটি জনসভাতেই হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থকের উৎসব আমেজে ঢাক-ঢোল, বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে বিশাল বিশাল দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি জনসভাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য উপস্থিত ভোটারদের কাছে ওয়াদা চাইলে লাখ লাখ মানুষ দু’হাত তুলে এবং মুখে নৌকা ও জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে চারিদিক প্রকম্পিত করে ভোট দেয়ার ওয়াদা করেন। এছাড়া গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে সবাইকে অভিনন্দনের জবাব দেন।

দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর নৌকার ও আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাস। আমরা একজন প্রার্থী করেছি, তাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। এ আসনে আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান এমপি মজিবর রহমান নিক্সনের নাম উল্লেখ না করে বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক কিছু প্রলোভন দেখাতে পারে। অনেক কথা বলতে পারে। কোন সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে আপনাদের ভোট ছিনতাই করতে না পারে সেজন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন। আপনার ভোট আপনি দেবেন, নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। সবাই মনে রাখবেন একটি ভোট ও একটি আসনও আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। একটি আসনের কারণেও হয়ত সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে কারণে যেখানে যাকে নৌকার প্রার্থী করেছি, তাদেরকে ভোট দিয়ে আমাদেরকে সরকার গঠন করতে সহায়তা করুন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল, অনেকে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। কিন্তু বিশ্বব্যাংক কোন দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। কোন কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমি দেশবাসীর কাছে প্রত্যাশা করি, গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন।

নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য এসব এলাকার ভোটারদের ওয়াদার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীও তাদের কাছে ওয়াদা দিয়ে বলেন, আপনারা ওয়াদা দিয়েছেন নৌকায় ভোট দেয়ার। আমিও ওয়াদা দিচ্ছি ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করব। দেশের মানুষের একটি ঘরও অন্ধকারে থাকবে না। প্রতিটি ঘর বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হবে। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করব। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই। আমরা ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। আমরা ক্ষমতায় থেকেই এটি উদ্যাপন করতে চাই।

কমরপুরের জনসভায় ফরিদপুর-৩ আসনে বর্তমান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এরা ক্ষমতায় থাকতে দেশকে পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, এতিমের টাকা আত্মসাত পর্যন্ত করেছে। এ কারণে বিএনপি নেত্রী দ-িত হয়ে এখন কারাগারে। তিনি বলেন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-বিদেশে অর্থপাচার, এতিমের টাকা আত্মসাত, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি এটাই ছিল তাদের নীতি। দুর্নীতিকেই তারা নীতি হিসেবে নিয়েছিল, দেশের কোন উন্নয়ন করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে পুরো বাংলাদেশেই ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন বলেই এই উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এই উন্নয়নের মহাসড়কের গতি যেন চলমান থাকে সেটাই আমার চাওয়া।

সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। কারণ মাদকের কারণে শুধু তরুণ সমাজই নয়, একটি সমাজ ও পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। তাই দেশের যুব সমাজের সকল অভিভাবক, শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইমামসহ সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সন্তান-ছাত্ররা মাদক কিংবা জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়ছে কি না, কে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে- নজর রাখুন। চলমান সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানে সহযোগিতা করুন।

দেশবাসীর উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে চাই। এটা সম্ভব হবে যদি আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবারও দেশ সেবার সুযোগ দেন। ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফরিদপুরবাসীকে কোন দাবি করতে হবে না। আগে ফরিদপুরকে ফকিরপুর বলা হতো। এখন আর ফকিরপুর নেই, সত্যিই উন্নত ফরিদপুর হয়েছে। ফরিদপুর বিভাগ ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।

রাজবাড়ী-১ আসনে কাজী কেরামত আলী এবং রাজবাড়ী-২ আসনে জিল্লুল হাকিমকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য জেলার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েই তা মিথ্যা প্রমাণিত করেছি। আগামীবার ক্ষমতায় আসলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রয়োজনে এখানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বাবা-মা, ভাইসহ সবাইকে হারিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করছি, যাতে দেশের মানুষ একটু ভাল থাকে। দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য আমরা একটা উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ রেখে যেতে চাই। আগামীতে ক্ষমতায় এলে দেশের কোন মানুষের ঘর অন্ধকার থাকবে না, কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য আরেকটিবার দরকার, আওয়ামী লীগ সরকার।

এখানে দেশের দুই জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়ক ফেরদৌস ও রিয়াজও রাজবাড়ী জেলার নেতাকর্মীদের সামনে নৌকা মার্কায় ভোট চান। অভিনেতা ফেরদৌস বলেন, মায়ের কোলে যেমন শিশুরা নিরাপদে থাকে, তেমনি শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে। আগামী নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে, যাতে দেশের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর কন্যাই থাকেন।

অপর নায়ক রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কারণ দেশের উন্নয়নের জাদুর কাঠি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই। তিনি সবাইকে হারিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই এবারের ভোট শেখ হাসিনার পক্ষে, নৌকার পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষেই হোক, বিজয়ী হোক।

পাটুরিয়া ঘাটে আয়োজিত সমাবেশে মানিকগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এ এম নাইমুর রহমান দুর্জয়কে বিজয়ী করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকায় দেবে উন্নয়ন, গতিশীলতা ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। নৌকা না আসলে এসব কিছুই থাকবে না, সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দেশকে দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে, আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে সারাবিশ্বে দেশকে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জে অনেক মানিক আছে। আমরা কিছু মানিক কুড়িয়ে এনেছি। নাইমুর রহমান দুর্জয় ক্রিকেটের একটি মানিক। তিনি আপনাদের এমপি। মমতাজ বেগম আরেকজন মানিক। তিনি গানের শিল্পী। তাদের দু’জনকে নৌকা মার্কার প্রার্থী করেছি। তাদেরকে বিজয়ী করুন।

বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানো এবং সরকারকে উৎখাতের নামে খালেদা-তারেক জিয়া হুকুম দিয়ে পাঁচ শ’ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। কোন সুস্থ মানুষ কোন জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে না। দেশের মানুষের প্রতি এদের এতটুকু দরদ নেই, মানুষের ভাল তারা বোঝে না, শুধু ধ্বংস করতে জানে। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে পাটুরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মোড়ে মানিকগঞ্জ ২ ও ৩ আসনের এমপি প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনকে বিজয়ী করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিল বলেই দেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা মহাকাশ জয় করেছি, সমুদ্রসীমা জয় করেছি।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ধ্বংস, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও জঙ্গীবাদ। এরা যেন কখনও যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। মানিকগঞ্জে তিনটি মানিক কুড়িয়ে নিয়েছি। এদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস-মাদকমুক্ত দেশ গড়তে সহযোগিতা করুন। আমরা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার সনদকে স্বীকৃতি দিয়েছি।

সন্ধ্যায় ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-২০ আসনের প্রার্থী বেনজীর আহমদকে বিজয়ী করতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শাসক নই, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জল হয়েছে। তবে আর যেন দুর্নীতিবাজ, এতিমের টাকা আত্মসাতকারী, গ্রেনেড হামলাকারী, যারা মানুষের ভাগ্যে নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে তারা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। এরা আসলে দেশকে আবারও ধ্বংস করে দেবে। তিনি বলেন, আমার বাবা দেশের মানুষের মুক্তির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছে। প্রয়োজন হলে দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে প্রয়োজন হলে আমিও আমার বাবার মতো জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

রাতে সবশেষে সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে ঢাকা-১৯ আসনের দলীয় প্রার্থী ডাঃ এনামুর রহমানকে পুনরায় বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির এক মন্ত্রীর ব্যবসার জন্য ওই সময়ে একটি মোবাইল ফোনের দাম ছিল এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। একটিমাত্র কল করতে বা আসলেও ১০ টাকা খরচ হতো। এভাবেই তারা লুটপাট করেছে। এখন দেশের মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতটি নির্বাচনী জনসভা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গণভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সুজিত রায় নন্দী, আফজাল হোসেন, যুবলীগের ওমর ফারুক চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগের মাহমুদা ক্রিক, যুব মহিলা লীগের নাজমা আখতার, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন প্রমুখ।

বাবার মাজারে দু’বোনের চোখে অশ্রু ॥ টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকা ফেরার আগে সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে কিছু সময় অতিবাহিত করেন তাঁরই দুই জীবিত কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। দু’বোন সকাল থেকেই কিছু সময় বঙ্গবন্ধুর মাজারের সামনে বসে এক মনে কোরান তেলাওয়াত ও দোয়া-দরুদ পড়েন। এ সময় দু’বোনেরই চোখ দিয়ে বইছিল দুঃসহ কষ্ট ও বেদনার অশ্রু। দোয়া-দরুদ পড়ার সময় দু’বোনকেই তাঁদের চোখের অশ্রু মুছতে দেখা যায়। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন তাঁরা।

দ্বিতীয় দিনেও সরকারী সুবিধা নেননি প্রধানমন্ত্রী ॥ দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ব্যক্তিগত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ছিল না জাতীয় পতাকা। গাড়ির স্ট্যান্ডে পতপত করে উড়ছিল শুধু দলীয় পতাকা। নির্বাচনী আইন সম্পূর্ণভাবে মেনেই দ্বিতীয় দিন নির্বাচনী প্রচার চালান বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া যাওয়া এবং আসার সময় সরকারী কোন সুবিধা নেননি, যাতায়াতের পথে বিভিন্ন ব্রিজের টোল এবং ফেরিতে পারাপারের সময় বহরে থাকা ত্রিশটি গাড়ির ভাড়াও নগদ টাকায় পরিশোধ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় ফান্ড থেকে। নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন যেন না হয় সেজন্য প্রতিটি নির্বাচনী প্রচার অনুষ্ঠানে নানা বিধিনিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেই প্রথম দফা নির্বাচনী প্রচার শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।