২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচন ও থার্টিফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে জঙ্গী হামলার চক্রান্ত

  • আটক ৩ জেএমবি জঙ্গীর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

গাফফার খান চৌধুরী/এইচ এম এরশাদ ॥ আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টার্গেট কিলিং, নির্বাচনী মিছিল ও থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠানে কক্সবাজারে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জেএমবি জঙ্গীরা। দেশে চলমান সাঁড়াশি অভিযানের মুখে গ্রেফতার এড়াতে জঙ্গীরা এখন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় আত্মগোপন করে আছে। নির্বাচন সামনে রেখে জঙ্গীরা আবারও তাদের পুরনো বন্ধু সংগঠন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আত্মগোপন করা ও আরএসওর সঙ্গে নতুন করে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার পুরো কাজটির নেপথ্যে করে দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। রোহিঙ্গাভিত্তিক সংগঠন আরএসওর নিয়ন্ত্রণ আগাগোড়াই বিএনপি-জামায়াতের হাতে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অংশ নেয়া জঙ্গীদেরও ট্রেনিং দিয়েছিল আরএসওর প্রধান সামরিক কমান্ডার বিদেশে পলাতক কক্সাবাজার বিএনপির এমপি ও তার ছোট ভাই জামায়াত নেতার সহোদর ভগ্নিপতি মোহাম্মদ উল্লাহ। ঢাকার কমলাপুর থেকে তিন জেএমবি সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর এ তথ্য দিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। গ্রেফতারকৃতরা ৪০ রোহিঙ্গাকে জেএমবিতে যোগদানের কথা স্বীকার করেছে। বুধবার রাতে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আব্দুল হাকিম, নোমান ও শফি নামে তিন জেএমবি সদস্যকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। পুলিশের এ শাখাটি বলছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টার্গেট কিলিং এবং থার্টিফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে নাশকতার চক্রান্ত রয়েছে তাদের।

ডিএমপির পুলিশের মিডিয়া এ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান জানান, গ্রেফতার তিন জঙ্গীর বাড়িই কক্সবাজারে। তারা নাশকতা চালানোর নানা ষড়যন্ত্রসহ আনুষঙ্গিক কর্মকা- চালাতে ঢাকায় আসে। তাদের কাছ থেকে ৩০ কমান্ডো চাকু, ১টি ডাবল এডজ, একটি মিশেট, ৩০টি আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) কন্টেনার ও দেড় কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, আব্দুল হাকিম জেএমবির কক্সবাজার অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান। ’১৩ সালে সে জেএমবিতে যোগ দেয়। জেএমবিতে যোগ দেয়ার আগে সে ইসলামিক বই-পুস্তক বিক্রি করত। এছাড়া গ্রেফতার নোমান জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক প্রধান ও শফি জেএমবির সামরিক সদস্য। গ্রেফতার তিন জনের বিরুদ্ধে কমলাপুর থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে কক্সবাজার থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, কক্সবাজারের তিন জঙ্গী আটকের পর কক্সবাজারে দায়িত্বরত গোয়েন্দারা তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছে। চলমান অভিযানের কারণে জঙ্গীরা আত্মগোপনের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বেছে নিয়েছে। নির্বাচনে ‘টার্গেট কিলিং’ নিয়ে এগোচ্ছে জেএমবি জঙ্গী ও আল ইয়াকিন রোহিঙ্গা জঙ্গীরা। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্ঠানে বড় ধরনের নাশকতার চক্রান্ত আছে তাদের। জঙ্গীদের অর্থায়ন করছে ধনাঢ্য রোহিঙ্গা জঙ্গীরা। মদদ ও অর্থায়নকারীদের অধিকাংশই মদিনা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। মদদদাতা রোহিঙ্গা জঙ্গীরা বাংলাদেশের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ইতোপূর্বে এনালগ পাসপোর্ট বানিয়ে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছিল। তারা সাবেক আরএসও-ওয়ামি, আরইএফ, এআরএনও, এআরইউ ও নুপার ট্রেনিংপ্রাপ্ত সদস্য। এদের মধ্যে অনেক পুরনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের অনেকেই বর্তমানে স্মার্টকার্ডও পেয়েছে।