২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনে নাশকতা ও নৈরাজ্য ঠেকাতে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

  • সদর দফতরে পর্যালোচনা বৈঠক

শংকর কুমার দে ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, নাশকতা, নৈরাজ্য মোকাবেলার পরিকল্পনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কোন মূল্যে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদ্ধপরিকর তারা। নির্বাচনের প্রচারকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনে দেশের অন্তত ২২ জেলায় রক্তক্ষয়ী সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২ জন আওয়ামী লীগের কর্মী নিহত ও আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রায় দেড় শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এ্যাকশনে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের ৬৪ জেলার ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের দিন তিন স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হবে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী থাকবে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকবে ম্যাজিস্ট্রেটও। বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, আনসার, গ্রাম পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ও টহলে থাকবে নির্বাচনের দিন। বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত ও আলোচনা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় পুলিশ সদর দফতরে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বৈঠক শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বৈঠক চলে। এই বৈঠকে নির্বাচনের সময়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এই বৈঠকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সারাদেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার(এসপি), মেট্রোপলিটন কমিশনার, ডিসি, রেঞ্জ ডিআইজি, এডিশনাল আইজিপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা। বৈঠক থেকে যে কোন মূল্যে নির্বাচনের প্রচারে ও নির্বাচনের দিনে কঠোর হস্তে নাশকতা, নৈরাজ্য ঠেকানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া বেশকিছু কৌশল ও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক-এই দু’ভাবেই আগামী দিনগুলোর যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো।

পুলিশ সদর দফতরের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের সময় দেশে, যে কোন প্রান্তের নাশকতা ঠেকাতে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের গ্রামপুলিশ, দফাদার থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হতে পারে। দেশের সব জেলা-উপজেলায় বিশেষ করে প্রতিটি সংসদীয় আসনে সন্ত্রাস-নাশকতা প্রতিরোধ কমিটিকে সক্রিয় করার কথাও হয়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিশেষ বার্তাগুলোর প্রতিও বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে দায়িত্ব পালন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ উদ্যোগ কার্যকর করতে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

পুলিশ সদর দফতরের বৈঠক সূত্র জানান, জাতীয় নির্বাচনী প্রচার শুরুর সঙ্গে-সঙ্গে দেশের বিভিন্নস্থানে নাশকতায় হত্যাকা-ের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সরকার ও নির্বাচন কমিশন। হত্যাকান্ড ও সহিংসতা যারা জড়িত ও যাদের ইঙ্গিতে ও মদদে ঘটানো হয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। যারা এসব দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করবে তাদের প্রতি কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই দেশের যেসব এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই সেখানে এ্যাকশনে যাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন কমিশন থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যে সব নির্দেশনা পাঠিয়েছে, তার মধ্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা বলে বৈঠক সূত্রে দাবি।

পুলিশ সদর দফতরের বৈঠক সূত্র জানান, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল-চালক ও আরোহীদের প্রতি কঠোর হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নজরদারিতে থাকবে এই বাহনটির চালক ও আরোহী। নজরদারি থাকবে বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের ওপরও। বিকাশ হিসাবের মাধ্যমে নির্বাচনে টাকা লেনদেন হচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের সহযোগিতা চাইবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৪ সালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণের ছক তৈরি করছে পুলিশ সদর দফতর। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কেউ যেন ২০১৪ সালের মতো সন্ত্রাসের তান্ডব চালিয়ে হতাহত, নাশকতা, নৈরাজ্য, অগ্নিসন্ত্রাস, পেট্রোল বোমাতে আগুনে পুড়িয়ে মারাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য পুলিশ সদর দফতরের অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সময়ে সব বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এরপরও পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছেন, শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি যেন আবার সৃষ্টি না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সহিংসতা ঘটানো হতে পারে ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মানে বড় নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্তভাবে ছোট ছোট সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে।