২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লজ্জার হারে গ্রুপপর্ব শেষ রিয়াল, জুভেন্টাস, ম্যানইউর

 লজ্জার হারে গ্রুপপর্ব শেষ রিয়াল, জুভেন্টাস, ম্যানইউর

জাহিদুল আলম জয় ॥ লজ্জার হার দিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলের গ্রুপপর্বের খেলা শেষ করেছে তিন পরাশক্তি স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ, ইতালির জুভেন্টাস ও ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বুধবার রাতে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জায়ান্টদের মধ্যে জিতেছে শুধু ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। জিততে পারেনি জার্মান জায়ান্ট বেয়ার্ন মিউনিখও। দলগুলোর আগেই নকআউট রাউন্ড অর্থাৎ শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় কোন অঘটন ঘটেনি।

‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে সুইস ক্লাব ইয়াং বয়েজের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে অতিথি জুভেন্টাস। একই পরিণতি হয়েছে স্পেন সফরে যাওয়া রেড ডেভিলসদের। জোশে মরিনহোর দল ২-১ গোলে হেরেছে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে। তবু এই গ্রুপে সেরা হয়েছে জুভেন্টাস আর রানার্সআপ ম্যানইউ। ‘জি’ গ্রুপ থেকে আগেই গ্রুপসেরা ও রানার্সআপ নিশ্চিত করে ফেলে রিয়াল মাদ্রিদ ও এএস রোমা। তাই শেষ গ্রুপ ম্যাচ হেরেও সমস্যা হয়নি তাদের। কিন্তু লজ্জার হারে মাথা হেট হয়েছে আসরের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন রিয়ালের। ঘরের মাঠ সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল ৩-০ গোলে হেরেছে রাশিয়ান ক্লাব সিএসকেএ মস্কোর কাছে। আর চেক প্রজাতন্ত্র সফরে স্বাগতিক ক্লাব ভিক্টোরিয়া প্লাজেনের কাছে রোমার হার ২-১ গোলে।

ফেবারিটদের মধ্যে ‘এফ’ গ্রুপ থেকে জিতেছে শুধু মানচেস্টার সিটি। তাও পিছিয়ে পড়েও লেরয় মানের জোড়া গোলে ভর করে। অর্থাৎ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটিজেনরা ২-১ গোলে হারিয়েছে জার্মানির হোফেনহেইমকে। লিঁও ও শাখতার ডোনেস্কের মধ্যে গ্রুপের আরেক ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। ‘ই’ গ্রুপে ডাচ ক্লাব আয়াক্সের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে আগেই নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করা বেয়ার্ন মিউনিখ। জয় না পেলেও গ্রুপের দ্বিতীয় হয়ে পরের পর্বে গেছে আয়াক্স। আরেক ম্যাচে গ্রীসের এ্যাথেন্সের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের সান্ত¡নার জয় পেয়েছে পর্তুগালের বেনফিকা।

নিয়ম রক্ষার ম্যাচে নির্ভার রিয়াল কোচ সান্টিয়াগো সোলারি প্রথম একাদশে একসঙ্গে সাত পরিবর্তন করেন। সবমিলিয়ে নকআউটের আগে একটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবহই ছিল। তাতে ঘরের মাঠে এমন ঐতিহাসিক ভরাডুবির মুখে পড়তে হবে সম্ভবত স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। সিএসকে মস্কোর মাঠে গ্রুপপর্বের আগের ম্যাচে ১-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল। এবার ঘরের মাঠে আরও বড় লজ্জা। শুধু চ্যাম্পিয়ন্স লীগই নয়, কোন ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ঘরের মাঠে এটিই রিয়ালের সব থেকে বড় ব্যবধানে পরাজয়। দুই লেগেই স্প্যানিশ জায়ান্টদের খাবি খাইয়েছে মস্কো। এই নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শেষ ৩৪টি ম্যাচের মাত্র দু’টিতে গোল করতে ব্যর্থ হলো গ্যালাক্টিকোরা। দু’টিই মস্কোর বিরুদ্ধে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় মস্কো। ৩৭ মিনিটে সিগার্ডসনের পাস থেকে গোল করেন ফিওদোর শালোভ। ৪৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন জর্জি শেনিকোভ। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের জালে আরেক গোল করেন সিগার্ডসন।

সুইস ক্লাবের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৩০ মিনিটে গুইলামু হোরাও’র স্পটকিকে পিছিয়ে পড়ে জুভেন্টাস। ডি বক্সে ক্যামেরুনের মিডফিল্ডার গামালেউকে জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার আলেক্স সান্দ্রো ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। এক গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইয়াং বয়েজ। বিরতির পর ৬৮ মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকরা। সতীর্থের পাস পেয়ে একটু এগিয়ে ডি বক্সে বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসী ফরোয়ার্ড হোরাও। ম্যাচের শেষদিকে ব্যবধান কমায় জুভরা। দলের হয়ে গোল করেন পাওলো দিবালা। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর ব্যাকপাস ডি বক্সের বাইরে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরাল শটে ব্যবধান কমান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

হোফেনহেইমের বিরুদ্ধে ম্যাচের ১৬ মিনিটেই ক্রোয়েশিয়ার স্ট্রাইকার আন্দ্রেজ ক্রামারিচের গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যানসিটি। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে (৪৫ মিনিট) সিটিকে সমতায় ফেরান লেরয় সানে। বিরতির পর জার্মান দলটিকে চেপে ধরে পেপ গার্ডিওলার দল। গোল পেতেও দেরি হয়নি। ৬১ মিনিটে দল আর নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জার্মান উইংগার সানে। তার এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়।