২৪ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই বছর পর আবারও সেমিফাইনালে আবাহনী

 দুই বছর পর আবারও সেমিফাইনালে আবাহনী
  • স্বাধীনতা কাপ ফুটবল ॥ ঢাকা আবাহনী ১-০ সাইফ স্পোর্টিং

রুমেল খান ॥ বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ক্লাব ফুটবলে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক ছিল যে দলটি, তার নাম আবাহনী ক্রীড়াচক্র। পরবর্তীতে সেটা নাম পাল্টিয়ে হয়ে যায় ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। ক’দিন আগেই ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’রা জিতে নিয়েছে মৌসুম-সূচক ফুটবল টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের শিরোপা। এবার তাদের লক্ষ্য স্বাধীনতা কাপের সুদৃশ্য ট্রফিটি, যেটা তারা জিতে নিয়েছিল আজ থেকে দুই বছর আগে, ২০১৬ সালে। এরপর সর্বশেষ ২০১৮ আসরে (গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত) বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনালেই। বৃহস্পতিবার সেই কোয়ার্টারেই তারা আবার সফল হয়েছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে। আগামী ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় সেমিতে আবাহনী মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিংস বনাম রহমতগঞ্জের মধ্যে কোয়ার্টারের বিজয়ী দলের।

জিতলেও এই জয় পেতেই বিস্তর ঘাম ঝরাতে হয়েছে আবাহনীকে। তবে সাইফও ছেড়ে কথা বলেনি। তারা লড়াই করেছে সমানতালে। বেশকিছু গোলের সুযোগও সৃষ্টি করেছিল তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গোল আদায় করে নিতে পারেনি। তবে আবাহনীর বিপক্ষে কঠোর প্রতিরোধও গড়ে তুলেছে দলটির রক্ষণভাগ। যে কারণে একটি মাত্র গোলই আদায় করে নিতে পেরেছে আবাহনী। ৩৩ মিনিটে আবাহনীর সানডে চিজোবার শট আটকে দিয়ে এ যাত্রা দলকে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা করেন সাইফের গোলরক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া। বল পেয়ে পাল্টা আক্রমণে যায় সাইফ। সিউনজিল পার্কের মাইনাসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন সতীর্থরা। ৪২ মিনিটে বাঁপ্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢোকার মুহূর্তে সাইফের কোরিয়ান ফরোয়ার্ড সিওনজিল পার্ককে বাধা দেন আবাহনীর এক ডিফেন্ডার। বক্সের খুব কাছেই পাওয়া ফ্রি কিকটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করেছিলেন দলীয় অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। কিন্তু তারা মাপা শটটি সরাসরি গ্রিপে নেন আবাহনীর গোলরক্ষক শহিদুল আলম। ৫২ মিনিটে কর্নার আদায় করে নেয় মারিও লেমসের শিষ্যরা। কিন্তু কোরিয়ান মিডফিল্ডার মিনহাইওক কো এ’র কর্নার সরাসরি গ্রিপে নেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। ৬০ মিনিটে বক্সের প্রায় দশগজ দূরে ফ্রি কিক পায় সাইফ। ফরোয়ার্ড মারাজ হোসাইনের স্পট কিক তালুবন্দী করতে সক্ষম হন সোহেল।

৬৩ মিনিটে বাঁপ্রান্ত থেকে ফ্রি কিকে বল বক্সে পেয়ে হেড নেন ব্যালফোর্ট। গোলরক্ষক বল ফিস্ট করায় অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। তখনও সুযোগ ছিল। ফিরতি বলে প্রাণান্ত চেষ্টা করেও লক্ষভেদ করতে ব্যর্থ হন নাইজিরিয়ান সানডে চিজোবা। ৬৭ মিনিটে সানডেকে ফাউলের সুবাদে ফ্রি কিক পায় আবাহনী। শটটা নিয়েছিলেন এই নাইজিরিয়ানই। কিন্তু সাইফের রক্ষণ দেয়াল ভেদ করা সম্ভব হয়নি। ৭২ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে আবাহনীর। বাঁপ্রান্ত থেকে ব্যালফোর্টের পাসে বক্সে বল পেয়ে শট নেন মিডফিল্ডার জুয়েল রানা কিন্তু সাইফের ডিফেন্ডার আসাদুজ্জামান বাবলুর পায়ে বল লেগে গতিপথ বদলে যায়। এর ঠিক দু’মিনিট পর মিনহাইওক কোয়ের ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন সাইফের রিয়াদুল হাসান রাফি। ৮১ মিনিটে কাক্সিক্ষত গোলের দেখা মেলে। বাঁপ্রান্ত থেকে মিডফিল্ডার সোহেল রানার ক্রসে বাঁকানো হেড নেন সানডে চিজোবা। ফাইনাল টাচে সাইফের জাল কাঁপান হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড বিলস ব্যালফোর্ট (১-০)। গোল পেয়েই ডাগআউটের কাছে গিয়ে আনন্দে মাতেন আবাহনীর ফুটবলাররা। এতক্ষণে প্রাণ ফিরে আবাহনী গ্যালারিতে। চুপসে থাকা গ্যালারিতে উৎসবে আবাহনী আবাহনী রব।

এই মাত্রা পাওয়া