২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হামলার ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন কামাল

হামলার ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন কামাল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াত ইস্যুতে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম অসৌজনমূলক আচড়ণের কয়েকঘন্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে করে প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় তার গাড়িতে জাতীয় পতাকার ব্যবহার ও পুলিশি নিরাপত্তা দেয়ার দাবি জানান আ স ম আব্দুর রব। এসময় কামাল হোসেন বলেন, এই সরকার আর ১৬ দিন ক্ষমতায় আছে। সুতরাং বেআইনি কোন আদেশ মানবে না। জেনে রাখো, একদিন জবাবদিহি করতে হবে। তিনি হামলার ঘটনায় পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

স্মৃতিসৌধ থেকে বের হওয়ার পর কামাল হোসেন ও রবের গাড়ি বহরে হামলা এবং কর্মী সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করার ঘটনাকে পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে ফ্রন্টের নেতাদের অভিযোগ, ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এ হামলা করা হয়েছে। কিন্তু তারা ভোটের মাঠ কোন অবস্থাতেই ছেড়ে যাবেন না। যে কোন মূল্যে তারা ভোটযুদ্ধে থাকতে চান।

আজ শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে প্রিতম-জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুব্র্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও ড. রেজা কিবরিয়া। কামাল হোসেনের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় পৃথকভাবে কথা বলেছেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীও।

স্মৃতিসৌধের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে দায়ী করে লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে আসলামুল হক আসলামের ‘গুন্ডা বাহিনী’ ছাত্রলীগের ইব্রাহীম, জাকির ও কাউন্সিলর টিপুর নেতৃত্বে আমাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। হামলায় আমার গাড়িসহ ৭-৮টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে ঢাকা-১৪ আসনের ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত এমপি প্রার্থী সাজু ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের গাড়িচালকসহ ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন।

হামলার সময় পুলিশের ‘নীরব ভূমিকার’ সমালোচনা করে ড. কামাল বলেন, ‘আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এটা শহীদদের অবমাননা। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বুদ্ধিজীবী দিবসে জাতীয় নেতাদের ওপর আক্রমণ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আক্রমণের শামিল। এই দুর্বৃত্তায়নকারী আওয়ামী লীগের মুখে স্বাধীনতার কথা মানায় না।

এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা দেশপ্রেমিক কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। যেসব ছোকরা-টোকাই আমাদের ওপর হামলা করেছে, তারা দুই পয়সার ভাড়াটিয়া। তোমরা এসব নোংরা কাজ করে কয় পয়সা পাও? দুই পয়সার কাজ করো! এটা বাদ দিয়ে আমার কাছে আসো, আমি তোমাদের চার পয়সা দেবো। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, সেখানে পুলিশও আমাদের সঙ্গে ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে। তাদের আচরণ বিজয়ের মাসে বঙ্গবন্ধুর কথাকে অমান্য করেছে। বিজয়ের মাসকে অমান্য করেছে। সংবিধানকেও অবমাননা করেছে। দেশে কোনো সংবিধান আছে? আমার মনে হয় না। তারা বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত সংবিধানকে উপহাসের বস্তু বানিয়েছে। এটা একটি সভ্য দেশ। যারা দেশ শাসন করছে, স্বাধীনতার এতো বছর পরেও এ ধরনের হামলা করে, লজ্জা পাওয়া উচিত।’

তিনি মহাপুলিশ পরিদর্শকের উদ্দেশে বলেন, আইজিপিকে বলবো, আপনার সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে, আপনি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। তাদের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করবো, আপনার পছন্দ যাকে হয়, সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করান। আমরা সাদরে গ্রহণ করবো।

ড. কামাল বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে পায়ে হেঁটে বের হবার সময় দেখলাম একটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন আপনারা রব সাহেবের মুখে শুনবেন, আমি বেরিয়ে যাওয়ার পর কী ঘটেছে। ড. কামাল হোসেন এই স্বাগত বক্তব্যের পর আ স ম আব্দুর রব বলেন, এটা খুব দুঃখজনক, মর্মান্তিক! আমার ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি অনেক হামলা মোকাবেলা করেছি। কিন্তু, এই ধরনের হামলা যেখানে ড. কামাল হোসেনসহ আমাদের ওপর হামলা করার দুঃসাহস দেখাল ওরা, এটা কল্পনার বাইরে।

তিনি বলেন, হামলা এই কারণেই যে, আমরা যেন ৩০ তারিখের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। কিন্তু, ড. কামাল হোসেন, আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকী ভয় পাওয়ার লোক না। আমরা ১৯৭১ সালে ৯ মাস যুদ্ধের মাঠে ছিলাম। সুতরাং আমাদেরকে ভয় দেখিয়ে ভোটের মাঠ থেকে তাড়ানো যাবে না।’

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আ স ম আব্দুর রব বলেন, আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির ঢাকা মহানগরের নেতা আব্দুস সালাম, রেজা কিবরিয়া, আমাদের প্রার্থী ব্যারিস্টার বাদল, কায়সার, আফ্রিদসহ আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের নেতারা কথা বললেন। কথা শেষ করে আমরা যখন বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের প্রথম গেটের পর মধ্যখানের গেটে এসে উপস্থিত হয়েছি, তখন তারা ব্ল্যাংক ফায়ার করেছে ভয় দেখানোর জন্য। এরপর ইট-পাটকেল, লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে হামলা করেছে। আমার ড্রাইভার যদি সাহস করে গাড়ি না চালাত, তাহলে আমার কী হতো, সেটা বলতে পারব না।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করতে চাই। আমরা আজ শহীদ বুদ্ধিজীবীর মাজারে যাব, ওরা (সরকার) তা জানত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে চলে আসার পর সব পুলিশ তুলে নেয়া হলো। আমাদের ওপর যখন হামলা হয়, ভেতরে তখন কোন পুলিশ ছিল না, এটা পরিকল্পিত।

রব বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের এখন আমরা প্রতিরোধের নির্দেশ দিচ্ছি না। আমাদের নেতার নির্দেশ- শান্ত থাকতে হবে, সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। আমরা ৩০ তারিখে জনগণকে সাথে নিয়ে ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে চাই। আমরা ব্যালটে যুদ্ধ করতে চাই, ব্যালটে লড়াই করতে চাই। স্বৈরশাসনকে বাংলাদেশ থেকে বিদায় করতে চাই। ‘এ লড়াই জনগণের অধিকার, কর্তৃত্ব, সাংবিধানিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার লড়াই। এই লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে। আমরা মরব, সরব না’ বলেন রব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিদসহ অন্যরা।

রব বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনও পতাকা ব্যবহার করবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ প্রটেকশন পেলে ড. কামাল কেনো পাবেন না। তাকেও এই সুযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আপনারা আমাদের বাধা দেবেন, আমরা বসে থাকবো। এটা কি মগের মুল্লুক?

বেআইনি আদেশ মানবে না ॥ কেউ চিরদিন ক্ষমতায় থাকে না স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, যেসব পুলিশ অন্যায়ভাবে প ার্থী ও তার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে চলেছে, তারা কেন এসব করছে? জেনে রাখো, চিরদিন কেউ ক্ষমতায় থাকে না। আর কোনো সরকারও আইনের উর্ধ্বে না। এই সরকার আর ১৬ দিন ক্ষমতায় আছে। সুতরাং বেআইনি আদেশ মানবে না। জেনে রাখো, একদিন জবাবদিহি করতে হবে।

১৫ ডিসেম্বর রোডমার্চ ॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার রোডমার্চ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিজয় র্যালি বের করা হবে।

শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচী ঘোষণা দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল করতে আমাদের প্রার্থীদের ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা শুরু হয়েছে। কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে। মান্না বলেন, যতোই হামলা করা হোক, আমরা মাটি কামড়ে নির্বাচনে থাকবো।

তিনি বলেন, আমরা শনিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত রোডমার্চ পালন করবো। এর মধ্যে টঙ্গিসহ বিভিন্ন জায়গাতে সংক্ষিপ্ত জনসভা করা হবে। একইভাবে ১৬ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ নিয়ে বিজয় র্যালি করা হবে।