২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে

ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে মাছের রাজা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। তবে এটি আস্ত নয়, বটি দিয়ে কাটা পিস আকারে বানানো টুকরো ইলিশ। হাতে নিলেই বুঝা যাবে, মাঝারি সাইজের ইলিশ কেটে কেটে পিস বানিয়ে ফ্রোজেন করা হয়েছে। সেই ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে নগরীর অলিগলিতে। দাম সস্তা বলে সকাল-সন্ধ্যায় রাজধানীবাসী কাটা ইলিশ কেজি দরে কিনে ফিরছেন ঘরে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সাগর ও নদীতে এবার যখন পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ে, তখন বাড়তি লাভের আশায় সেইসব মাছ কেটে কেটে ফ্রোজেন করা হয়েছে। ছোট ও মাঝারি সাইজের এই ইলিশ খেতেও ভারি মজা বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। এবার এই শীতেও পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে।

এদিকে, সবজিসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম এখন নিম্নমুখী। নিত্যপণ্যের দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি বিরাজ করছে বাজারে। কম টাকায় ব্যাগ ভর্তি বাজার করে ঘরে ফিরছেন ভোক্তারা। বাজারের এই স্বস্তিতে খুশি দেশের সাধারণ মানুষ। সবজি, চাল, ডাল, আটা, চিনি, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংসসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম হ্রাস পেয়েছে। প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। মাছের দামও কম। কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের বাহারি সবজিতে ভরে গেছে বাজার। ফুলকপি, বাধাকপি, শিম, গাজর, মরিচসহ সব ধরনের সবজির দাম কম। তবে তুলনামূলক টমেটোর দাম এখনও বেশি জানিয়েছেন ভোক্তারা। প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। অন্যান্য সবজি ১০-৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

কাপ্তান বাজারের সবজি ক্রেতা মাহমুদ জানালেন, সবজির দাম কম, তবে টমেটোর দাম আরও কমা উচিত। অন্যান্য সবজির দাম ঠিকই আছে বলে জানালেন তিনি। ওই বাজারের সবজি বিক্রেতা রব মন্ডল বলেন, টমেটোর সরবরাহ বাড়ছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ দাম আরও কমবে। এই সপ্তায় আদা কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৩০ টাকায়। কেজিতে ৫ টাকা কমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০, এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ বাজারে হাঁস বিক্রি বেড়ে গেছে। শীত বাড়ায় বেড়েছে হাঁসের চাহিদা। প্রতিজোরা দেশী হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকায়।

এছাড়া শীতের সবজির দাম কমে যাওয়ায় বাজারের তেজ একেবারে কমে গেছে। সামনে পণ্যের দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। প্রতিজোরা মাঝারি সাইজের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকায়। এছাড়া ৪০০-৮০০ টাকার মধ্যে প্রতিকেজি চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে খুচরা পর্যায়ে। মুদি পণ্যের মধ্যে বাজারে প্রতিকেজি সিরাজ মিনিকেট ও মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৫৭ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। স্বর্ণা চাল ৩৮, মোটা চাল ৩৫, সাকি-আটাস ৪৪ থেকে ৫০, আমিন-আটাস ৪০ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে মোটা চালের দাম গত এক মাসের ব্যবধানে মানভেদে কেজিতে কমেছে ৪-৫ টাকা। এছাড়া উন্নতমানের মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো চালের দামও কেজিতে ২-৩ টাকা করে কমে আসছে। আমন ধানের বাম্পার ফলন ও গ্রাম পর্যায়ে দশটাকা কেজির সরকারী চাল বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ কারণে সব ধরনের চালের দাম এখন নিম্নমুখী।

এছাড়া নদী, নালা, খালবিল, হাওর-বাওর, ডোবা ও পুকুরের পানি কমতে শুরু করায় দেশী জাতের মাছের সরবরাহ বেড়েছে রাজধানীর বাজারে। বছরের অন্য সময়ে মাছ বেশি দামে বিক্রি হলেও এখন দাম কম। এছাড়া চিনি ৫৫-৬০, আটা ২৬-৩৬ টাকা, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার খোলা ৭৮-৮৪ টাকায় ও বোতলজাত ১০০-১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী জাতীয় সব ধরনের মাছের সরবরাহ বেড়েছে বাজারে। দামও কম। মাছ বিক্রেতারা বলছেন, ইলিশের দাম কমে যাওয়ায় দেশীয় মাছের দাম হ্রাস পেয়েছে।