১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচন পর্যবেক্ষক

জাতীয় নির্বাচনে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। এটি আন্তর্জাতিক রীতি। দলনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার কথা থাকলেও অনেক সময় তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। পর্যবেক্ষণের নামে মনগড়া এবং ভুল তথ্য দেয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এজেন্ডা নিয়ে যাতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক কাজ না করেন সেটি দেখার বিষয়। আসন্ন নির্বাচনে এমন আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য নীতিমালা ঘোষণা করেছেন। বলাবাহুল্য, নীতিমালা ভঙ্গ করা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হবে। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের জন্যও পর্যবেক্ষণ নীতিমালা (কোড অব কন্ডাক্ট) রয়েছে। বিদেশী পর্যবেক্ষক যারা আসবেন তাদের অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

এবার প্রায় ৩৫ হাজার দেশী পর্যবেক্ষক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। নিবন্ধিত ১১৮টি পর্যবেক্ষক সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তালিকা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের অধীনে ২২টি নিবন্ধিত সংস্থার ১৬ হাজার ৩৯৪ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৩৪ হাজার ৬৭১ জন সারাদেশে পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে ১ হাজার ৫৬৭ জন পর্যবেক্ষণে থাকবেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক নীতিমালায় রয়েছেÑ ভোটের দিন পর্যবেক্ষকরা গণমাধ্যমে কোন বক্তব্য দিতে পারবেন না, পর্যবেক্ষকরা কোন লাইভ বা সরাসরি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না, কোন সাক্ষাতকার দিতে পারবেন না। এমন কিছু করতে পারবেন না যেন মনে হয় তিনি কোন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। পর্যবেক্ষকদের আচরণ নিরপেক্ষ হতে হবে। পর্যবেক্ষকরা ভোট কেন্দ্রে ছবি তুলতে, কোন গোপন কক্ষে যেতে, কাউকে নির্দেশনা দিতে এবং প্রিসাইডিং, পোলিং অফিসারদের কোন পরামর্শ দিতে পারবেন না। যদি কোন কেন্দ্রে অনিয়ম হয়, সেটা তারা কমিশনকে বা সংস্থার নির্বাহী ব্যক্তিকে অবহিত করতে পারেন।

পেছন ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই নির্বাচন এলেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, অষ্টম সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে একজন বিদেশী রাষ্ট্রদূত এবং একজন হাইকমিশনার বিপুল অর্থ সহায়তা বরাদ্দ দেন। এ ছাড়া অন্যান্য দাতা দেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার জন্য কোটি কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা দেয়ায় দেশীয় এনজিওর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে আগ্রহ বাড়ে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। যেসব দাতা সংস্থা এ কাজে অর্থ সহায়তা দেয় তাদের এ ব্যাপারে কোন স্বার্থ বা নির্দেশনা থাকে না, এমনটা কি জোর দিয়ে বলা যাবে? পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে এক লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যবেক্ষক টিম থাকে। দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারী সংস্থা কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে কিছু এনজিও বা সংস্থার অর্থায়ন এবং তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা পূর্বনির্ধারিত মনোভাব নিয়ে মন্তব্য করে থাকে, যেটা পক্ষপাতমূলক। আশা করা যায় নির্বাচন কমিশন এ বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

জাতির প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলবেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। কোন অবস্থাতেই নির্বাচনী বিধিমালার লঙ্ঘন ঘটানো সমীচীন নয়।