২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতেও টাইগারদের সিরিজ জয়

 উইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতেও টাইগারদের সিরিজ জয়

মিথুন আশরাফ ॥ মাশরাফি বিন মর্তুজা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লেন। ম্যাচ শেষে পুরস্কার মঞ্চে এসে কথা বলছেন। মুখটা তার মলিন দেখাল। তা দেখানোরই কথা। দেশের মাটিতে যে শেষ ম্যাচ খেলা হয়ে গেল মাশরাফির। শেষ ম্যাচটিতে অনায়াসেই জিতলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে সহজে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতাও হলো। সুখস্মৃতিও মিলল। কিন্তু মাশরাফি যেন আবেগ তাড়িত হয়ে পড়লেন।

মাশরাফির দিকেই সবার দৃষ্টি ছিল। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের পর যদি মাশরাফি অবসর নিয়ে ফেলেন তাহলে আর দেশের মাটিতে খেলা হবে না। শুক্রবারই শেষ ম্যাচ হয়ে যাওয়ার কথা। সেই ম্যাচটি এমনভাবে জিতলেন, বীরের বেশেই ক্রিকেটাররা মাঠ দাপালেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসে ধস নামান। কিন্তু মাশরাফি যে ২ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেন, সেটিই সবার আলোচনায় আসল। ওয়েস্ট ইন্ডিজতো ৯ উইকেট হারিয়ে ৫০ ওভার খেলে ১৯৮ রানের বেশি করতেই পারল না। এরপর অপরাজিত ৮১ রান করা তামিম ইকবাল ও ৮০ রান করা সৌম্য সরকার এমনভাবে ব্যাটিং করলেন যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের সঙ্গে ছেলেখেলায় মাতেন। দুইজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়েন। ৬৯ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নিল বাংলাদেশ। ৩৮.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে জিতে বাংলাদেশ। সিরিজও জিতে নেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাত্তাই পায়নি। সিলেটের অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচই জিতে নিল বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেটে হারানোর পর মনে হয়েছিল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতেই সিরিজ জয় করবে বাংলাদেশ। তাতে করে তৃতীয় ওয়ানডেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার ম্যাচ হবে। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এতটাই ভাল ক্রিকেট খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, চিত্র পাল্টে গেছে। হোয়াইটওয়াশ দূরে থাক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে হারানোর মিশনেই নামতে হয়। ১-১ সমতা নিয়ে দুই দল খেলতে নামে।

তৃতীয় ম্যাচেও সাই হোপ (অপরাজিত ১০৮ রান) অসাধারণ ব্যাটিং করেন। কিন্তু সেই ব্যাটিংয়ে এবার কাজ হয়নি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জেতান হোপ। কিন্তু তৃতীয় ওয়ানডেতে তা সম্ভব হয়নি। অন্য ব্যাটসম্যানরা যে কিছুই করতে পারেননি। দল ১৯৮ রান করে। এর মধ্যে হোপই ১০৮ রান করেন। বাকিরা মিলে ৯০ রান করতে পারেন। মিরাজ শুরুতেই ৪ উইকেট নিয়ে ফেলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের যখন ৯৯ রান হয় তখনই ৫ উইকেটের পতন ঘটে। এর মধ্যে মিরাজই নেন ৪ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন মিরাজ। তার এমন স্পিন জাদুর সঙ্গে ২ উইকেট করে নেয়া মাশরাফি ও সাকিব আল হাসানের বোলিং নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনায়াসেই হার মানে। তাদের ইনিংস শেষ হওয়ার পরই বোঝা হয়ে যায় বাংলাদেশ জিততে যাচ্ছে। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলার, ফিল্ডার শারীরিক ভাষাতেও হার মেনে নেয়ার আভাসই মিলে। শেষ পর্যন্ত তামিম, লিটন, সৌম্য, মুশফিককেই শুধু ব্যাটিংয়ে নামতে হয়। আর কোন ব্যাটসম্যানের ব্যাট হাতে নামার সুযোগই হয়নি।

তামিম ও লিটন মিলে শুরুতেই ৪৫ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। লিটন (২৩) আউট হয়ে গেলে সৌম্য ব্যাট হাতে নেমে চার-ছক্কা হাঁকাতে থাকেন। এমনই মারমুখী ব্যাটিং করতে থাকেন দলের ১৭৬ রানে আউট হওয়ার আগে ৮১ বলে ৮০ রান করে ফেলেন। ৫ চার ও ৫ ছক্কা হাঁকান। তাতেই বোঝা যাচ্ছে সৌম্য কি ধুন্ধুমার ব্যাটিংই না করেন। ইমরুল কায়েসকে একাদশের বাইরে রাখা হয়। সৌম্যকে তিন নম্বরে খেলানো হয়। পেস বল ভাল খেলেন। মারমুখীও। তাতে ওপরে খেলার সুযোগ মেলে। তা লুফেও নেন সৌম্য। ঝলক দেখিয়ে দেন। তামিমতো শুরু থেকেই এতটা বুঝে খেলতে থাকেন যে তাকে আউটই করতে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলাররা। ১০৪ বলে ৯ চারে অপরাজিত ৮১ রান করে এবং ১৬ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিককে নিয়ে জয়ী হয়েই মাঠ ছাড়েন তামিম। কি দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। টানা দুই ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরি করেন তামিম। দিন দিন তিনি নিজেকে ছাড়িয়েই যাচ্ছেন।

ওয়ানডেতে এ বছরটি জয় দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। শেষও করল জয় দিয়ে। অধিনায়ক মাশরাফি বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে বেশ ভাল হবে। দলের ক্রিকেটাররা তা করতে পারলেন। সেই করার মধ্যে যেমন সুখ লুকিয়ে থাকল। বিদায়ের বেদনার সুরও থাকল।

দেশের জার্সিতে ২০০ ওয়ানডে ম্যাচ খেললেন মাশরাফি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ওয়ানডে অভিষেকটি বিশ্ব ক্রিকেটে ২০০ ওয়ানডে ভেন্যু হিসেবে পরিচিতি পেল।

কি অদ্ভুত মিল। এমন ম্যাচে মাশরাফি আবার দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিলেন। জিতলে আবার সিরিজ জয় হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো সবমিলিয়ে চতুর্থবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হারানো হবে। এত সুন্দর মঞ্চ কি আর মিলতে পারত। মিলে গেল। সেই মিলনের দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও আনন্দই উপহার দিল। জয়োৎসবে মাতল। এমন জয়ের দিনেও সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশেরই তৈরি হলো। মাশরাফির যে দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ হয়ে যাওয়ার হিসেব মেলাতে হচ্ছে।