ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১

ওয়ারী থেকে শক্তিশালী হ্যান্ডগ্রেনেড ও হ্যান্ডগ্রেনেড তৈরির বিস্ফোরক উদ্ধার

প্রকাশিত: ০২:৫৩, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

ওয়ারী থেকে শক্তিশালী হ্যান্ডগ্রেনেড ও হ্যান্ডগ্রেনেড তৈরির বিস্ফোরক উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ওয়ারী থেকে শক্তিশালী হ্যান্ডগ্রেনেড ও হ্যান্ডগ্রেনেড তৈরির বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো কোন সাধারণমানের সন্ত্রাসী বা পেশাদার বোমাবাজদের তৈরি নয় বলে জানিয়েছেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রশিক্ষিত জঙ্গী বা এ ধরণের ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিস্ফোরক বিষয়ে প্রশিক্ষিতরাই গ্রেনেডগুলো তৈরি করেছিল। যদিও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি। গ্রেনেডগুলো কারা কি উদ্দেশ্যে মজুদ করেছিল তাও স্পষ্ট নয়। বিজয় দিবসের আগের দিন হ্যান্ডগ্রেনেড ও হ্যান্ডগ্রেনেড তৈরির বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী বা কোন জঙ্গী গোষ্ঠী বিজয় দিবস বা নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালাতে বিস্ফোরকগুলো মজুদ করেছিল ধারণা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। শনিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন গোয়ালঘাট লেনের ১২/১ দোকানটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপকমিশনার ফরিদ উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, অভিযান চালাতে গিয়ে বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে জানানো হয়। তারা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বোমাগুলো উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি বোমা উদ্ধার হয়। এছাড়া বোমা তৈরির বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। সেগুলো পরে বোম ডিসপোজাল টিম নিস্ক্রিয় করে ফেলে। বোমাগুলো নিস্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। তাতে ধারণা করা হয়, বোমাগুলো খুবই শক্তিশালী ছিল। কারা কি উদ্দেশ্যে বোমাগুলো সেখানে মজুদ করেছিল, তা জানা যায়নি। জানার চেষ্টা চলছে। তবে নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করে বা বিজয় দিবসকে সামনে রেখে বোমাগুলো রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার বোম ডিসপোজাল টিমের প্রধান ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ছানোয়ার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুইটি শক্তিশালী হ্যান্ডগ্রেনেডের মত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেগুলো নিস্ক্রিয় করা হয়। নিস্ক্রিয় করার সময় বোঝা যায়, সেগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। সেগুলো দিয়ে মোটামোটি বড় ধরণের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোও সম্ভব ছিল। হ্যান্ডগ্রেনেডগুলো ধরণ বলছে, সেগুলো কোন সাধারণমানের সন্ত্রাসী বা পেশাদার বোমাবাজদের তৈরি নয়। যারা সেগুলো তৈরি করেছে, তারা বিস্ফোরক বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও পারদর্শী। হ্যান্ডগ্রেনেডগুলো স্টিলের পাইপ দিয়ে তৈরি ছিল। এ ধরণের হ্যান্ডগ্রেনেড সাধারণত জঙ্গী বা এ ধরণের প্রশিক্ষিত বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা তৈরি করে থাকে। ধ্বংস করা বিস্ফোরক নিশ্চয়ই নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল। তবে সেগুলো নির্বাচন বা বিজয় দিবসে ব্যবহার করার কোন পরিকল্পনা ছিল কিনা সে সর্ম্পকে সুষ্পষ্ট কোন তথ্য মেলেনি। তা জানার চেষ্টা চলছে।
×