২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাশকতার শঙ্কা

ভোটের আয়োজন ও উৎসবকে ভ-ুল করে দিতে যারা সক্রিয় তারা নানা কৌশল ও ফন্দিফিকির চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী উত্তাপের সঙ্গে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। সংঘাত তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। সহিংসতায় হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। জনগণ যাতে ভোটদানে বিরত থাকে, ভোটদানে অনীহা প্রকাশ করে, সেজন্য একটি গোষ্ঠী দেশী-বিদেশী মদদদাতাদের প্ররোচনায় গোলযোগ বাধাতে চায়। তার আলামতও দেখা যাচ্ছে। অতীতেও যারা নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য পেট্রোলবোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে হত্যা করেছে, অগ্নিকা- ঘটিয়েছে সরকারী-বেসরকারী স্থাপনায়, সম্পদের হানি ঘটিয়েছে, দেশজুড়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তারা এবারের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ভ-ুল করার জন্য নানাবিধ পথ ও পন্থা অবলম্বন করছে। ইতোমধ্যে সুশাসনের জন্য মায়াকান্না যার, সেই ‘খ্যাতিমান’ আইনজীবী কাম বিএনপি-জামায়াতের নয়া পুনর্বাসনকারী ঐক্যফ্রন্ট নেতা সহিংসতার হুমকি-ধমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। নিজে যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, সেহেতু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির নেতৃত্ব তিনি দিতেই পারেন। বলেছেন, ভোটকেন্দ্র দিনভর পাহারা দিতে হবে। কেন দিতে হবে সে প্রশ্নের কোন ব্যাখ্যা না দিলেও এটা তো স্পষ্ট যে, পাহারার নামে সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে প্রমাণ করা যে, নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। অতএব অনির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে একতরফা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া। যেভাবে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের পূর্বসূরি দুই সাময়িক জান্তা জিয়া ও এরশাদ ক্ষমতা দখল করে যে নির্বাচনের আয়োজন করেছেন। তাদের রাজত্বকালে মার্শাল ক্যু, মিডিয়া ক্যু’র মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হতো। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিতে বাধাদান, জালভোট প্রদান, গোলযোগ, সংঘাত, গোলাগুলি, প্রাণহানি সবই ঘটেছে। জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়নি কোন নির্বাচনেই। এবারে নির্বাচনের আগেই যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের জন্য ‘ডাকসাইটে’ আইনজীবী মাঠে নেমেছেন। একইসঙ্গে দুর্নীতির দায়ে দ-িত নেত্রী ও তার দ-িত পলাতক পুত্রের মুক্তির দাবিতে তিনি সহিংসতাকেও প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। যে কারণে গণরোষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। দেশবাসী অবাধ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাইলেও জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদীদের মদদদাতারা তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। অবশ্য নির্বাচনকালে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, নাশকতা, নৈরাজ্য মোকাবেলায় পরিকল্পনা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই বাহিনী যে কোন মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ২৪ জেলায় রক্তক্ষয়ী সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আরও যে ঘটবে না তার নিশ্চয়তা নেই। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে এসবের মোকাবেলার বিকল্প নেই।

নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির ছত্রছায়ায় বিশ্ব স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী এবং সন্ত্রাসীদের দল জামায়াতের দুই ডজনের বেশি সদস্য অংশ নেয়ায় নাশকতার আশঙ্কা বেড়েছে। আর ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশ না নেয়া নেতা তো আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন ভোটকেন্দ্রে কি করা হবে, যা সংশয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বাড়ায়। কেন্দ্র দখল করে পাহারা দানকারীরা সশস্ত্র হলে তো পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। ভোটাররা কেন্দ্রে এসে ভোটদান যাতে করতে না পারে সেজন্য লন্ডন থেকেও ‘আওয়াজ’ এসেছে ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করার। বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট যখন নাশকতার ঘোষণা দিয়েছে, তখন দেশবাসীকে সতর্ক হতেই হবে। একাত্তরের পরাজিত শক্তির সঙ্গে কতিপয় রাজনৈতিক এতিম ও সন্ত্রাসবাদে নব্য দীক্ষা লাভকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প থাকতে পারে না। নাশকতার বিরুদ্ধে তাই গড়ে তোলা প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ।