২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমি বীরাঙ্গনা বলছি ॥ রক্তের অক্ষরে লেখা স্বাধীনতার দলিল

  • নূর কামরুন নাহার

আমার পরিচয়? না, দেবার মতো আমার কোনও পরিচয় আজ আর অবশিষ্ট নেই। পাড়ার ছেলে মেয়েরা আদর করে ডাকে ফতি পাগলী। সত্যি কথা বলতে কি আমি কিন্তু পাগল নই। যারা আমাকে পাগল বলে আসলে তারাই পাগল। এ সত্যি কথাটা ওরা জানে না। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -ছয়)

নীলিমা ইব্রাহিমের অমর সৃষ্টি ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ বইয়ের ষষ্ঠ কাহিনীর শুরুটা হয়েছে এভাবেই। বাংলার স্বাধীনতা আর বিজয় দিবসের আনন্দে মিশে আছে এসব নারীর আত্মত্যাগ। বিজয়ের পরে বঙ্গবন্ধু এই ত্যাগকে মহিমান্বিত করেছিল ‘বীরাঙ্গনা’ বলে। এ উদ্যোগ ছিল মহান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য সেইসব বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা তো পানইনি বরং কারো কারো জায়গাই হয়নি এ মাটিতে, আর কারো কারো পরিণতি ফাতেমার মতো ফতি পাগলী হয়েছে। এই ফাতেমা আর দশটা সুস্থ মানুষের মতোই ছিল কিন্তু যুদ্ধ তাাকে পাগলী নাম দিয়েছে। যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে তার স্বাভাবিক জীবন যার বর্ণনা আমরা পাই লেখকের ভাষায়Ñ

১৯৭৩ মালে আমি দৌলতপুর গেছি। দৌলতপুর কলেজে আমার কয়েকজন ছাত্র ছিল। ইচ্ছা ওদের একটু খোঁজ নেয়া, কে কেমন আছে, দেশের খবর নেয়া ইত্যাদি। দেখলাম এক মহিলা কলেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম, কি চাও তুমি? রক্তচোখ মেলে বললো, কলেজে পড়বো। বুঝলাম মেয়েটি স্বাভাবিক নয়। বললাম, তোমার নাম কি? নাম? ফতি পাগলী, হয়েছে। এবার যান। একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করায় বললো, উনি একজন বীরাঙ্গনা। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -ছয়)

ফাতেমার মতো আরও অনেক অসংখ্য নারীর স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিয়েছিল যুদ্ধ। তারা শিকার হয়েছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের। যে নির্যাতন ছিল অবর্ণনীয়। পাকিস্তানী সেনাদের নির্যাতনের শিকার এসব নারীদের রাখা হতো অন্ধকার বাংকারে। তাদের জীবনের কোন মূল্য ছিল, তারা যে মানুষ এই বোধটুকুও ছিল না পশুদের কাছে। অন্তঃসত্ত্বা বা অসুস্থ হলে মেরে ফেলা হতো, কিল চড় লাথি ছিল তাদের প্রতিদিনের পাওনা। তাদের চামড়ায় ছিল ক্ষত। মাথার চুলে এবং ত্বকে হয়েছিল উকুন। বীরাঙ্গনাদের নিজস্ব বয়ানে প্রকাশিত সেই নির্যাতন ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ গ্রন্থে উঠে এসেছে ভয়াবহ ছবি হয়েÑ

শুরু হলো অত্যাচারের পালা। শকুন যেমন করে মৃত পশুকে ঠুকরে ঠুকরে খায় তেমনি, কিবা রাত্রি কিবা দিন আমরা ওই অন্ধকার দোজখে পচতে লাগলাম। মাঝে মাঝে তারা ওপরে ডাকতো আমাদের। আমরা গোসল করতাম, কাপড় বদলাতাম তারপর আবার অন্ধকূপে। কারা আমাদের ওপর অত্যাচার করতো, তারা বাঙালি না বিহারি, পাঞ্জাবি না পাঠান কিছুই বলতে পারবো না। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -সাত)

কোনো কোনো দিন খাবার আসতো, কোনোদিন না। অনেক সময় পানিও থাকতো না হঠাৎ করে একদিন এসে সবার জামা কাপড়, যদিও সেগুলো শতছিন্ন এবং ময়লায় গায়ের সঙ্গে এঁটে গিয়েছিল তা টেনে হেঁচড়ে খুলে নিযে গেল। সম্পূর্ণ নগ্ন আমরা। কেউ কারো দিকে তাকাতে পারছি না। দিনের বেলা ব্যংকারে ঢোকার পথ দিয়ে কিছু আলো আসে। আমার মনে পড়ে তখন শীতের দিন ছিল। অপর্যাপ্ত কম্বল থাকায় এক কম্বলের নিচে দুতিনজন জড়ো হয়ে থাকতাম। কিন্তু রাতের সাথীরা যেন এখন বন্যপশুর আচরণ করছে। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -চার)

পরদিন হঠাৎ ওদের ভেতর একটি মেয়ে মারা যায়। অন্তঃসত্ত্বা ছিল। সকাল থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। ... মেয়েটার নাম ছিল ময়না। বছর পনেরো বয়স হবে। ....কাঁটা পাঁঠার মতো হাত-পা ছুড়ে আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়লো, মুখ খানা নীল হলো।

(আমি বীরাঙ্গনা বলছি-এক)

অকথ্য নির্যাতনের শিকার এসব নারী যেমন লাঞ্ছিত আর নিপীড়িত হয়েছিল পাকিস্তানী বর্বর হানাদার বাহিনী দ্বারা। তেমনি লাঞ্ছিত আর নিগৃহীত হয়েছিল এই সমাজ, এই দেশ আর তার প্রিয়জনের কাছ থেকে। হানাদার বাহিনীর অত্যাচার ছিল নির্মম, অমানবিক, অসহনীয় আর চরম অবমাননার কিন্তু তার চাইতে দুঃসহনীয় আর অপমানের ছিল প্রিয়জনের অবহেলা। যুদ্ধ তাদের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছিল কিন্তু তাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছা কেডে নিতে পারেনি, কেড়ে নেয়নি স্বাধীন বাংলাদেশ দেখার স্বপ্নকে। তাদের বাঁচার ইচ্ছা ফুরিয়ে গিয়েছিল সেদিন যেদিন সমাজ তাদের থেকে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, যেদিন প্রিয় পরিবারে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল, ঘরে ফেরার দরজা যেদিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, বীরাঙ্গনা পুনর্বাসন কেন্দ্রই হয়ে উঠেছিল তাদের আশ্রয়, সেদিন ভাই বোনকে বলতে পেরেছিল-

তারা, আমরা যে যখন পারবো তোর সঙ্গে দেখা করে যাবো। তুই কিন্তু আবার হুট করে বাড়ি গিয়ে উঠিস না।..... তাছাড়া আমাদের ঠিকানায় চিঠিপত্র লিখবারও দরকার নেই। তুই তো ভালোই আছিস। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -এক)

সেদিনই মরে গিয়েছিল তারা ব্যানার্জী, এ মাটিকে প্রণাম জানিয়ে পোলিস মহিলা ডাক্তারের সহায়তায় নাসিং শেখার বৃত্তি নিয়ে চলে গিয়েছিল পোল্যান্ড। তারপরের কাহিনী সাফল্যগাথার। তারা ব্যানার্জী বিয়ে করে ডেনমার্কের সাংবাদিক নিয়েলসনকে। আবার যখন দেখা হয় পরিবারের সাথে তখন হতভাগনী তারা ব্যানার্জী গর্বিত মিসেস টি নিয়েলসন। তারা ব্যানর্জীর পরিবার তখন বীরাঙ্গনার ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে সচ্ছল, স্থিতু সুখী পরিবার। সব কিছুর পর আমরা মুখোমুখি তারা ব্যানার্জীর তীক্ষè প্রশ্নের-

আপা দেশ স্বাধীন হয়েছে, কেউ গাজী-কেউ শহীদ। কেউ বীরউত্তম, বীরশ্রেষ্ঠ, কেউ মন্ত্রী, কেউ রাষ্ট্রদূত সবার কতো সম্মান সুখ্যাতি। আর আমি? আমি কিছু চাইনি, চেয়েছিলাম শুধু আমার নারীত্বের মর্যাদা আর প্রিয় জন্মভূমির বুকে আশ্রয়। স্বদেশে আমার সত্যিকার পরিচয় নেই, তারা ব্যানার্জী মরে গেছে। সেখানে সেদিন সম্মান মর্যাদা সবই পেলো মিসেস টি. নিয়েলসেন আর টমাসের মা। আমি কোথায়? ওদের কাছে আামি ঘৃণ্য, নিন্দিত, মৃত। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -এক)

তারা ব্যানার্জী যখন মিসেস টি নোয়েলসন হয়ে বীরাঙ্গনার সাফল্য আর অহংকার নিয়ে বাংলার মাটি ছুঁয়ে আবার ডেনমার্কে ফিরে যায় তখনও কি শেষ হয় তার অভিমান, বুকের কান্না। না, শেষ হবার কথাও নয়। সে তো বীরাঙ্গনার অহংকার নিয়ে এ মাটি স্পর্শ করেনি, করেছে মিসেস টি নিয়েলসন হয়ে। সে তো হারিয়েছে তার বাঙালী পরিচয়, বাংলার মাটি। ডেনমার্কের নাগরিক টি নিয়েলসনের বুক বিদীর্ণ করা শেষ ইচ্ছাÑ

তোমাকে শেষ কথাটা বলে যাচ্ছি নীলা আপা, আমি নিয়েলকেও বলে রেখেছি আমার মৃত্যুর পর আমাকে কেউ বাংলাদেশে নেবার চেষ্টা করো না। জন্ম দিলে জননী হওয়া যায় কিন্তু লালন পালন না করলে মা হওয়া যায় না। আমি জন্মেছিলাম সোনার বাংলায়, লালিত হচ্ছি ডেনমার্কের কঠিন ভূমিতে। তবুও সেই মাটিতেই হবে আমার শেষ শয্যা। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -এক)

দেশমাতৃকার জন্য যে হারিয়েছে তাঁর ইজ্জত অবর্ণনীয় নির্যাতন আর কষ্ট স্বীকার করেছে সেই মহান মুক্তিযোদ্ধার জায়গা হয়নি এই মাটিতে। এরকমই আরেক নারীর জীবনালেখ্য দেখি এ গ্রন্থে। যার কাহিনী আরও অনেক বেশি করুণ। দেশের জন্য যে নারী লাঞ্ছিতা সেই নারী বাবার বয়সী পাঠান শত্রুসেনাকে বিয়ে করে চলে যায় পাকিস্তান। যার নাম আমরা পাই মেহেরজান হিসেবে। এ নাম আসল নাম কি না জানা নেই আমাদের। প্রয়োজনও নেই জানার। আমরা জানি সে একজন বীরাঙ্গনা। সে ও তাই জানে এবং গর্বের সাথে জানে এ মাটিতে মিশে আছে তার অবদান। এই গর্ব এই অহংকারের পরেও তার চোখে আমরা গর্ব আর অহংকারের জল্বজ¦লে আলো দেখি না, দেখি অশ্রু আর গ্লানি। মেহেরজান নামক নারী সূচিকর্ম, কুটির শিল্পের উদ্যোক্তা আর কঠোর পরিশ্রমে পাকিস্তানের মাটিতে সফল নারী এবং পাঠান সন্তানের সফল মা হিসেবে নিজের জায়গা করে নেয়। কি পরিহাস! মাটির জন্য যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলো, সেই যোদ্ধার আশ্রয় শত্রুর দেশের মাটিতে। বহু বছর পর মাতৃভূমির ডাকে মেহেরজানকে দেখা যায় বাংলার মাটিতে। পাকিস্তানের বাসিন্দা মেহেরজানের ভেতরে আমরা তখন মুক্তিযোদ্ধার অংহকার দেখি না, শুধু শুনতে পাই অন্তরের অন্তহীন হাহাকার, মাটি হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ

বুঝলাম এ মাটিতে মুখ দেখাবার মতো শক্তি আমার নেই। আমি জীবনের সব পেয়েছি কিন্তু মাটি হারিয়েছি। মনে মনে বললাম, আর কখনও আসবো না। হে আমার জন্মভূমি, আমাকে ক্ষমা করো। মরতে পারার সৎসাহসের অভাব, জীবনের প্রলোভনের বিনিময়ে আমি তোমাকে হারিয়েছি। এ আমার অপরাধ। তোমার কাছে আমি ক্ষমা চাইবো না কারণ ক্ষমা আমি পাবো না। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -দুই)

নাই-বা পেলাম জাতীয় পতাকা, নাই-বা পেলাম আমার সোনার বাংলা, কিন্তু আমি জাতির পিতার স্বপ্ন সফল করেছি। একজন যুদ্ধজয়ী বীরাঙ্গনা রূপে বাংলাদেশ ছুঁয়ে এসেছি। এটুকুই আমার জয়, আমার গর্ব, আমার সকল পাওয়ার বড় পাওয়া। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -দুই)

আরেক নারী রিনা যার হবু বর তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল কিংবা মিনা যার স্বামী তাকে প্রত্যাখ্যান করে কেড়ে নিয়েছিল শিশু কন্যা ফাল্গুনিকে। এ সব যোদ্ধা নারীর সবাই কিন্তু আবার জীবনযুদ্ধে ফিরে এসেছিল। স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছিল, রিনা পেয়েছিল নাসিরকে, মিনা শফিককে, যারা সম্মান আর ভালোবাসার সাথে গ্রহণ করেছিল ওদের। ওরা স্বামী সন্তার নিয়ে সুখী হয়েছিল কিংবা ঐ যে ফতি পাগলী যার কাহিনী দিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম সে ও কিন্তু পরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছিল তার জীবনও পূর্ণ হয়েছে স্বামী সন্তান সংসার দ্বারা। কিন্তু তাদের পূর্ণ জীবনে বেজে উঠেছে হাহাকারের ধ্বনি। এই দেশ এই মাটি তাদের যোগ্য সম্মান দেয়নিÑ

কিসের অভাব আমার, আমি কি চাই? হ্যাঁ একটা জিনিস, একটি মুহূর্তে আকাক্সক্ষা মৃত্যু মুহূর্ত পর্যন্ত রয়ে যাবে। এ প্রজন্মের একটি তরুণ অথবা তরুণী এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে বলবে, বীরাঙ্গনা আমরা তোমাকে প্রণতি করি, হাজার সালাম তোমাকে। তুমি বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঐ পতাকায় তোমার অংশ আছে। জাতীয় সংগীতে তোমার কণ্ঠ আছে। এ দেশের মাটিতে তোমার অগ্রাধিকার। সেই শুভ মুহূর্তের আশায় বিবেকের জাগরণ মুহূর্তের পথ চেয়ে আমি বেঁচে রইবো। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -তিন)

এই বিজয়ী নারীরা ব্যক্তি সফলতা পেয়েছে কিন্তু সম্মান পায়নি জাতির কাছ থেকে যা লেখকের করুণ স্বীকারোক্তিতেই প্রকাশিত- মেহের সেদিন তোমার জন্য দুঃখ পেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি দায়মুক্ত যে বাংলাদেশের মাটিতে আমি তোমার কবর রচনা করিনি। কারণ যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত বা লাঞ্ছিত কোন মেয়েকে আমরা প্রকাশ্যে সম্মানে প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। (আমি বীরাঙ্গনা বলছি -দুই)

নীলিমা ইব্রাহিমের আমি বীরাঙ্গনা বলছি বইয়ের পাতায় পাতায় রয়েছে বীরাঙ্গনার যুদ্ধ ও যুদ্ধ জয়ের কাহিনী। সে যুদ্ধ শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের নয়, সমাজের সাথে যুদ্ধ, প্রথা আর হীনমন্যতার সাথে যুদ্ধ, সর্বোপরি নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ। মিনা, রিনা, ফতি, মেহেরজান শফি, তারা, ময়নার জীবনের সফলতা অথবা বিফলতা এই মাটিতে তাদের থাকা বা না থাকা, বীরাঙ্গনাদের জীবনের লুকানো বেদনা, হাহাকার সবকিছু মিলিয়ে এই বই তুলে এনেছে এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীর অবদান ও সেই অবদানের অবমাননা।

নীলিমা ইব্রাহিম ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ বইয়ের মুখবন্ধে বলেছেন- আমি পাঠক সমাজের কাছে ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ গ্রন্থের তৃতীয় খ- প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু দুটি কারণে এই প্রচেষ্টা থেকে বিরত রইলাম। প্রথমত, শারীরিক কারণ ..... দ্বিতীয়ত, বর্তমান সমাজের রক্ষণশীল মনোভাব। ....পঁচিশ বছর আগে যে সহজ স্বাভাবিক জীবন থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের নতুন করে অপমানিত করতে আমি সংকোচ বোধ করছি।’

বীরাঙ্গনাদের এ মাটি যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি। তাদের যোগ্য সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে বীরের মালা ও মুকুট পরাতে পারেনি, বরং অপমানের কালিতে কলঙ্কিত করেছে। বীরাঙ্গনাদের নিয়ে লিখতে লেখকও ভয় পান পাছে সম্মানিত করার বদলে অপমানিত হয়ে যায়। এই মূর্খ, হীন সমাজ আর দেশে আমাদের বাস! ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ গ্রন্থে আছে সাত বীরাঙ্গনার আত্মকাহিনী। এই কাহিনী শুধু সাতজনের নয় অসংখ্য বীরাঙ্গনার। যারা বীর কিন্তু মুখ লুকিয়ে চলেছে আর গোপন করেছে তার অংহকারের ইতিহাস। এই আত্মকাহিনী তুলে ধরেছে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান আর ত্যাগ। এই আত্মকাহিনী তাই বাঙালীর স্বাধীনতার ইতিহাসের, রক্তের অক্ষরে লেখা মুক্তিযুদ্ধের দলিল।