১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

জলবায়ু ইস্যুতে পোল্যান্ড সম্মেলনে মতৈক্য

জলবায়ু ইস্যুতে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত কপ ২৪-এর সম্মেলনে মতৈক্য হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে ২০১৫ সালে সম্পাদিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনা ও দর কষাকষির পর শনিবার রাতে আলোচকরা একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য ১১ ঘণ্টা পার করেন। বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমস।

পোল্যান্ডের কাটউইস শহরে শনিবার দীর্ঘ আলোচনার পর জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের নীতিমালা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা। পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এবারের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার একদিন পর প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধিরা মতৈক্যে পৌঁছেন। ৩ ডিসেম্বর শুরু হওয়া কপ ২৪ সম্মেলন শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা একমত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের পরও আলোচনা অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত শনিবার তাদের মধ্যে মতৈক্য হয়। আলোচনা আরও একদিন গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এবারের সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের নীতিমালা তৈরি করা, আলোচকদের ভাষায় যাকে রুলবুক বলা হচ্ছে। শুক্রবার আলোচনার শেষ দিনে এসেও একটি রুলবুক পাওয়া যাবে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি । শনিবার এ নিয়ে অনিশ্চয়তার আপাত অবসান হয়। সমালোচকরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার বিপজ্জনক প্রভাব প্রতিরোধে এটিই যথেষ্ট নয়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যত দ্রুত সম্ভব কার্বন নির্গমন কমানো এবং এই গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়েছিল। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের (৩. ৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট) মধ্যে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল। রুলবুকে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নমনীয়তার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনে স্বাগতিক পোল্যান্ডের প্রতিনিধি মাইকেল কুর্তিকা বলেন, ‘প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা একটি বড় দায়িত্ব। এটি এক দীর্ঘ পথ, যা আমাদের পাড়ি দিতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন চেষ্টাই আমরা বাদ দিতে পারি না। এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বুধবার জলবায়ু সম্মেলনে দেয়া ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা হবে আত্মঘাতী। পোল্যান্ডের এ সম্মেলনে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষের কাছে একটি হতাশার বার্তা দেয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে আমাদের জন্য শেষ সেরা সুযোগ। এই সুযোগ না নেয়াটা শুধু অনৈতিক হবে না, বরং এটি হবে আত্মঘাতী।’ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন,‘আমরাই শেষ প্রজন্ম জলবায়ু যাদের হাতে পরিবর্তনের লাগাম টেনে ধরার সুযোগ রয়েছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে আমরা দায়ী হয়ে থাকব।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রতিনিধিরা গত সপ্তাহে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দেড় ডিগ্রী সেলসিয়াসে ধরে রাখার জাতিসংঘ প্রতিবেদনকে সমর্থন করতে অস্বীকার করে। এতে সম্মেলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। এখন বলা হচ্ছে তাপমাত্রা বৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। পোল্যান্ড সম্মেলনে ১৯৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। তারা প্যরিস চুক্তির কিছু জটিল প্রসঙ্গ কৌশলে রুলবুক থেকে বাদ দিয়েছেন।