১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘খামোশ’ বাংলাদেশ বিরোধীরা

  • জাফর ওয়াজেদ

বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গানের অন্তরায় রয়েছে, ‘বানিয়া চেনে সোনা’। বেনের কাজ স্বর্ণ নিয়ে। তাই সেই সোনা আসল না নকল, কিংবা তাতে মেশানো আছে কতটুকু খাদ, জানে তা বেনে বা বানিয়া। আমাদের কালের বানিয়া তথা খ্যাতিমান লবিস্ট বা আইনের শাসনের প্রবক্তা চেনেন টাকা। জীবনে তার ‘টাকাই কেবলম’। টাকার জন্য তিনি কিনা করতে পারেন। মক্কেলদের পকেট ‘সাফ’ করার চর্চাটা পুরনো হলে প্রতিবারই তা আসে নব নব রূপে। পকেট ভর্তি টাকা থাকলে টাকার গরমে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। টাকার তো রয়েছে নিজস্ব ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা। তবে তাকে কালো টাকা সাদা করতে হয়। নীতি-নৈতিকতা তিনি খুঁজে ফেরেন অন্যের কাছে। কিন্তু নীতি নৈতিকতার লেশমাত্র নেই যার জীবনে, তিনি অন্যের খুঁত খুঁজে বেড়াবেন, এটাই স্বাভাবিক। বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে, ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন!’ রাগ করাটা স্বাভাবিক। ধমণীতে শোণিত প্রবাহ মাত্রাধিক্য হলে রাগ, ক্ষোভের আধিক্য দেখা দিতেই পারে।

তবে রাগের সঙ্গে বদমেজাজী ভাব মিলে গেলে জটিল অবস্থা তৈরি হতে পারে সহসাই। কত কারণেই হতে পারে রাগ। নিজের মেজাজ মতো সবকিছু না হলে রাগের পরিধি বেড়ে যেতেই পারে। আবার টাকার গরম থাকলে মেজাজটা ফুরফুরে না হয়ে অনেক সময় দুর্বিণীত হয়ে যেতে পারে। আর তা হলে অনেক সময় হিতাহিত জ্ঞানও লোপ পেয়ে বসে। হুমকি-ধমকির ভাষা তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে আসতে পারে চেতন-অবচেতন মন থেকে। এই যে তিনি অযথা অকারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন সত্যকে চাপা দেবার জন্য, বুঝতে পারেননি শাক দিয়ে মাছ ঢেকে রাখা যায় না। তাই অভব্য আচরণ তাকে সমাজের উচ্চ শিখর থেকে নিম্ন শিখরে নামিয়ে আনতে বিলম্ব করেনি। যে ’মহান’ ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি এতকাল সমাজে নিজের অলীক অবস্থান তৈরি করেছিলেন, তা ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে। তিনি এখন যে কোন সাধারণ স্তরের। মুখোশ উন্মোচিত হবার পর আবার নতুন মুখোশ পরার সময় এসে গেছে বুঝি। এমনিতেই তিনি বিবর্তনের ধাক্কায় সুশীল সমাজের মানব থেকে এখন খলচরিত্রের ধারকে রূপান্তরিত হয়েছেন। ডারউইনের বিবর্তনবাদের বহিরঙ্গে তিনি বিজয়ী জাতির সঙ্গে দীর্ঘকাল অবস্থান করে এখন পরাজিত শক্তির পুনরুত্থানে মাঠে নেমেছেন। চাইছেন তাদের পুনর্বাসন। এ জন্য তিনি তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েও থাকতে পারেন। এমনিতেই তার পেশার সঙ্গে অর্থকড়ির বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সামান্য পরামর্শ প্রদানে তিনি লাখ লাখ টাকা ফিস নিয়ে থাকেন। তবে এটা বলা যাবে না যে, মক্কেলের পকেট হাতিয়ে নেন। কাজের বিনিময়ে টাকা অর্থাৎ ‘কাবিটা’তে তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু এই যে এত এত অর্থ উপার্জন করে আসছেন, তা কোথায় ব্যয় করেন, তা জানার সুযোগ তিনি নিজেই করে দেন না বলে অনবহিত থেকে যেতে হয় দেশবাসীর। তার ‘কালো টাকা’র পাহাড় গড়ে ওঠার কাহিনীও জানা নেই কারও। মুনাফাখোর, মধ্যস্বত্বভোগী, দাদনখোর, ‘চোরাকারকারী’, মজুদদার হিসেবে তার কোন পরিচয় না থাকার পর ‘কালো টাকা’রা কিভাবে এসে ধরা দিল তার এ্যাকাউন্টে, জানেন শুধু তিনি নিজেই এবং অর্থদাতারা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হবার জন্য কোটি কোটি টাকা অর্থ সাহায্য করেছিল। পাকিস্তানের সংসদে তা জানানোও হয়েছে। সেই পাকিস্তান যে তাকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারে, সে নিয়ে সন্দেহ কারও থাকার কথা নয়। একাত্তরে যখন বাঙালী জাতি গণহত্যার শিকার হয়েও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তিনি তখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে শ্বশুরালয় পাকিস্তানে চলে যান। ১৯৭২ এর ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পান বিশ্ব জনমতের চাপে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পাকিস্তান ত্যাগকালে বিমানে জুড়ে দেয়া হয়েছিল তাকে সস্ত্রীক। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি মন্ত্রিত্ব পেয়ে পাকিস্তানের সেবা দিতে কসুর করেননি। সিমলাতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিচারের বিষয়ে ছাড় দিয়ে এসেছিলেন। এতে পাকিস্তানীরা তার প্রতি খুশি হয়েছিল, কৃতজ্ঞও বটে। সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চুক্তিতে রাখা হলে, পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার সম্ভাবনা ছিল অত্যধিক। ভারতে আটকে পড়া আত্মসমপর্ণকারী পাকিস্তানী হানাদারদের নিজ দেশে ফেরত নেয়ার জন্য পাকিস্তানে অব্যাহত বিক্ষোভ-মিছিল হয়েছিল। ক্ষমতাসীন ভুট্টোর তখতে তাউস উল্টো যাবার অবস্থা হয়েছিল। কামাল হোসেনের ছাড় দেয়ায় সে পরিস্থিতির অবসান ঘটেছিল। তিনি বাংলা লিখতে, পড়তে না জানলেও খুব যে অসুবিধেয় পড়েছেন, তা নয়। চোস্ত উর্দু তার ঠোঁটে সব সময় থাকে বলেই বাংলা উচ্চারণটা উর্দু আদলেই হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি রাজনীতিক হিসেবে কদর না পাওয়ায় এক ধরনের ক্ষোভ তাকে পীড়িত করতেই পারে। কিন্তু ‘শিক্ষিত সমাজের’ কাছে তিনি বিদ্বান, জ্ঞানী, প-িত, চিন্তাবিদ হিসেবে এক অলীক রূপকথার মতো বিধৃত হয়েছেন বৈকি! মাটির সঙ্গে সম্পর্কহীন পরগাছার মতো তিনি যাদের কাছে কদর পেয়েছেন তারা মূলত তাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি ‘ব্যবহৃত হতে হতে হতে’ এমন অবস্থায় পৌঁছেছেন যে, ব্যবহারকারীদের ভাষায় তাকে কথা বলতে হচ্ছে এখন। এই তিনিই হুমকিধমকি পেলে এক সময় দেশ ছেড়ে পালাতেন। সেই তিনি এখন অন্যদের হুমকিধমকি দিতে কসুর করছেন না। কিন্তু কোথায় পেলেন এই হুমকি-ধমকি প্রদানের সাহসটুকু? অনুসন্ধান করলে সহজেই প্রতীয়মান হবে যে, বিএনপি ও জামায়াত নামক যে ঘোড়ার পিঠে চড়ে তিনি সহিস হবার বাসনায় জীবনপণ বাজি রেখেছেন, সেই তারাই এখন তাকে সাহস দিয়ে ‘হ্রেষাধ্বনি’ দিতে সহায়ক হয়ে উঠেছেন। নিজের বলে তিনি কখনও বলশালী হয়ে কথা বলেছেন, অতীতের রেকর্ডপত্র ঘেঁটেও তা পাওয়া যাবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগারদের বিচার করবেন এবং এমন শাস্তি প্রদান করবেন, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। এ উচ্চারণ কোন সন্ত্রাসীর গডফাদারের বলে ভ্রম হতেই পারে। কারণ ‘মাস্তানী’ ভাষার ধরনধারণ যখন নির্গলিত হয় সজ্জনের কণ্ঠ থেকে তখন বুঝে নিতে হয়, পতনের দরোজা কত কাছাকাছি এসে গেছে। পতিত মানবের ভাষা তাকে কাবু করে ফেলেছে। তাই যখন তখন যেখানে সেখানে তিনি হুঙ্কার তোলেন, ভব্যতাকে চাপা রেখে তিনি দাবি করেছেন জাতির পিতার কেবিনেটে যারা ছিল তাদের মধ্যে তিনিই একমাত্র বেঁচে আছেন। কিন্তু হারাধনের শেষ ছেলেও আর থাকল না। তিনিও হারিয়ে গেলেন চিটাধানের শীষে আর যুদ্ধাপরাধীদের বগলতলে। এটা তো সর্বজনবিদিত, বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটের অনেক মন্ত্রীই মুশতাকের মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছিলেন, জিয়ার মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য। এরশাদের সঙ্গেও যোগ দিয়েছেন অনুরূপ মন্ত্রী ও নেতা। তাদের নাম কেউ আর মনেও আনে না। যেমন অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতার নাম কোন বাঙালীও মনে রাখবে না। ইতিহাসের খলনায়ক হয়ে তাকে স্বরচিত রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু সরকারের শেষ মন্ত্রীটির শেষের দিনগুলো অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। হিংস্রতার প্রতিমূর্তি হয়ে তিনি গর্জন তুলছেন। তবে এই গর্জন সিংহনাদ না হলেও ‘ঘোঁত ঘোঁত’ করা প্রাণীর মতোই শ্রবণেন্দ্রিয়ে উৎপাত করছে। অর্থকড়ির ব্যাপারে তিনি খুব হিসাবি। নির্বাচনে অংশ নিলে আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হতো হলফনামায়। কালো টাকার ভারে ন্যূব্জ হলে তা প্রকাশ করার মতো সাহস নেই বলেই গোপনীয়তা বজায় রাখতে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি, তা নয়। জনগণ ভোট দেয় না বলে যে আক্ষেপ তিনি দীর্ঘকাল লুকিয়ে রেখেছেন অন্তরে, সেই ভয়ে ভীত হয়ে নির্বাচনে নেমে ভোট পাওয়ার পথে ধাবিত হননি। নির্বাচনে পাস করার ইতিহাস না থাকা মানুষটি নির্বাচন ফবিয়ায় আক্রান্ত হতেই পারেন। নির্বাচন যদি না-ই করবেন, এমনকি পাস করতে না-ও পারেন, তাহলে রাজনীতি করে লাভ কি? মানুষ রাজনৈতিক দল করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। দল করার মোক্ষম লক্ষ্য হচ্ছে এমপি বা মন্ত্রী হওয়া এবং ক্ষমতায় যাওয়া। ক্ষমতায় না গেলে রাজনৈতিক তত্ত্ব বাস্তবায়নের বিকল্প থাকে না। ক্ষমতায় যদি না-ই যাবেন তবে রাজনীতি করছেন কেন তিনি? এমনিতে তার কোন রাজনৈতিক আদর্শ নেই। তাই জামায়াত অধ্যুষিত বিএনপির সঙ্গে ‘শাদী মোবারক’-এ আপত্তি দেখা যায়নি। অবশ্য গোড়াতে লোক দেখানো আপত্তি করলেও পররবর্তীকালে ‘কবুল’ পাঠে দ্বিধান্বিত হননি। নিবন্ধন না থাকায় জামায়াতে ইসলামী নামে কোন দল নেই নির্বাচন কমিশনের তালিকায়। তাই তিনি অবলীলায় আইনকে দূরে ঠেলে বলতে পারেন, জামায়াত নামে কোন দলের অস্তিত্ব নেই। অস্তিত্বহীন বলে তিনি যত দাবি করেন, গণমাধ্যমে চোখ রাখলে তিনি টের পেতেন বা দেখতে পেতেন, জামায়াত-শিবিরের অস্তিত্ব কত প্রকট। জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম বা নয়াদিগন্তের সৌজন্য কপি হয়ত এখনও তাকে দেয়া হচ্ছে না। পয়সা খরচ করে দেশের সব পত্রপত্রিকা পাঠ করা তার আয়ত্তের বাইরে। যদি পত্রিকা পাঠ করতেন, তবে দেশব্যাপী জামায়াতীদের সন্ত্রাসের হালহকিকত, আরও পাঠ করতেন জামায়াতীদের সাংগঠনিক তৎপরতার খবরাদি। দেশের মানুষ সবাই বোকা নয় যে, তিনি বললেন, আর সবাই বিশ্বাস করবেন, দেশে জামায়াতের কোন অস্তিত্ব নেই। তাহলে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে যে ২৩ সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াতের ২৩ সদস্য নির্বাচন করছেন, তারা কারা? গণফোরামের সদস্য তারা নয়, অবশ্য। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরিরা যে মনোনয়ন পেল তারই সম্মতিতে, তারা এখন ঐক্যফ্রন্টের নবাগত সদস্য? একটা মিথ্যাকে ঢাকতে এখন তাকে অজস্র মিথ্যা উপহার দিতে হচ্ছে।

‘কামালচরিত’ বা ‘কামালনামা’ যারা লিখবেন বা লিখতে চাইছেন, তারা এই আইনের শাসনের দাবিদার অশীতিপর ব্যক্তির শেষ বেলাকার অর্থাৎ গত এক বছরের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হবেন, আদিতেই তিনি জামায়াতী চেতনা ও আদর্শে লালিত হয়ে আসছেন। লেখকদের খাটাখাটুনি বেশি হবে না। কারণ, কামাল হোসেন স্বরূপে প্রস্ফুটিত হয়েছেন শেষ বেলাকার রেশ নিয়ে। এই যে দুর্নীতির দায়ে দ-িত ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের আদেশ-নির্দেশ মেনে তিনি গলাবাজি করছেন, তা তো আর নিঃখরচায় করছেন, তা নয়; এর জন্য উপর্যুক্ত মূল্য তো তিনি আদায় করছেনই। এরাও তো তার মক্কেল হিসেবে ‘ফিস’ দিতে বাধ্য। এই পলাতকের সঙ্গে তার লক্ষ্যের মিল এক জায়গায়; তা হলো শেখ হাসিনার বিনাশ। গ্রেনেড হামলা চালিয়েও যা সম্ভব হয়নি। আর কামাল হোসেনের লক্ষ্যও একই। যে কোন মূল্যে শেখ হাসিনাকে নির্মূল করা। দু’জনে তাই কুজনে মিলে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। আর সেই অপরাধ ঢাকতে ‘খামোশ’ বলে নিজের অস্তিত্বকে বহাল রাখাতে চাইছেন। টাকাপয়সার হিসাব হলফনামায় দিতে হলো না নির্বাচনে না যাওয়ায়। কিন্তু দুদক আর আয়কর বিভাগ তো থেমে থাকবে না। তারা ইতোমধ্যে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছেন। এতে তিনি তিতিবিরক্ত হয়ে সাংবাদিকের ওপর চড়াও হতে পারেন। জামায়াত হচ্ছে বিএনপির আপন মায়ের পেটের ভাই। সেই ভাইদের সঙ্গে তিনি পিতৃসুলভ আচরণ দূরে থাক ভ্রাতৃসুলভও নয়, বরং অনুগত অনুজের মতো একান্ত বাধ্যগত হয়ে পড়েছেন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে কাছে টেনে নিয়ে যে সাহস সঞ্চয় করেছেন, তা তার মুখ দিয়ে ‘খামোশ’ শব্দটিকে বাতাসের সঙ্গে মিশে যেতে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু তিনি হয়ত জানেন না, জানার কথাও নয়। দেশের জনগণ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে ‘খামোশ’ বলে যখন টুঁটি চেপে ধরবে তখন তিনিও আর গলা হাঁকাতে পারবেন না। স্তব্ধতার কানে কানে ফিসফিস উচ্চারণও প্রকাশিত হবে না। কামাল হোসনে নিজের পায়ে যখন কুড়াল মেরেছেন, তখন জখম তাকে সইতে হবেই।