২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ হাসিনা সরকারকেই পুনর্নির্বাচিত করা উচিত

  • কাজী সেলিম

(গত ১৪ ডিসেম্বরের পর)

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভদ্রতা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যতাকে খালেদা জিয়া সেদিন টেলিফোনের কথোপকথনে দাওয়াতের জবাব দিয়েছিলেন অত্যন্ত উগ্র, কর্কশ স্বরের আচরণের দ্বারা। সেদিন গোটা জাতি অবাক ও ব্যথিত হয়েছিল খালেদা জিয়ার বীতশ্রদ্ধ কথাবার্তা-আচার-আচরণে। শুধু আচরণেই সীমাবদ্ধ রাখেনি খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তার হিংসা, দ্বেষ ও বিরোধিতার অন্তরে লালিত বিষাক্ত ও প্রতিহিংসার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে প্রদর্শন করেছে যখন তার ছোট ছেলে প্রয়াত কোকোর মৃত্যুতে খালেদা জিয়াকে সান্ত¡না ও শোক প্রকাশের জন্য তার বাসভবনের সামনে গেলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সেদিন খালেদা জিয়া ও তার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলীয় উচ্চ পর্যায়ের নেতারা কেউই সেদিন খালেদা জিয়ার বাসভবনে তালাবদ্ধ সদর দরজাটি খুলে, সৌজন্য ও সম্মান ও ভদ্রতা প্রদর্শন করেনি। একজন সন্তানের মা, অপর সন্তানহারা মাকে শোক সান্ত¡না প্রকাশের জন্য যাওয়া, শেখ হাসিনার প্রতি খালেদার তাচ্ছিল্য অবজ্ঞা প্রদর্শনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি খালেদার চরম বিরোধিতা, ঈর্ষা, হিংসা, ক্ষুদ্র মনমানসিকতার চূড়ান্ত বহির্প্রকাশ করেছিল তার হিংস্র আচার-আচরণের মাধ্যমে। প্রতিহিংসা পরায়ণ খালেদা জিয়া সেদিন ভুলে গিয়েছিল যে, এই শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পিতৃস্নেহ ও মানবিক স্নেহের বদান্যতার পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৭২ সালে জিয়াউর রহমান খালেদা জিয়াকে পুনরায় তার স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে স্বগৃহে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। যার ফলে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া প্রথমে দলীয় প্রধান হয়ে পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ১৯৭২ সালে সেদিন যদি জাতির জনক তাঁর মানবিক হস্তক্ষেপ ও প্রচেষ্টায় জিয়াউর রহমানকে তার স্ত্রী হিসেবে খালেদাকে পুনরায় স্বীকৃতিসহ ফেরত গ্রহণ করাতে উদ্যোগ না নিতেন তাহলে খালেদা জিয়ার ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। কিন্তু খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার প্রতি কখনও বিন্দুমাত্র সৌজন্য, সম্মান ও রাষ্ট্রীয় আচার-আচরণ এবং শিষ্টাচার প্রদর্শন করেননি।

২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেত্রী খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সাংবিধানিক পদ্ধতি ও নিয়মনীতির সম্মান ও পদ্ধতিকে গ্রহণ না করে, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ আইএসআই কর্তৃক সরবরাহকৃত নীলনক্সা মোতাবেক, ’৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক জামায়াত-শিবির আলবদর, ’৭৫-এর ঘাতক ও ২০০৪ এর গ্রেনেড হত্যাকান্ডে জড়িতদের সমন্বয়ের জোট দ্বারা সমগ্র দেশব্যাপী গণতন্ত্র, দেশ ও জাতিবিরোধী ধ্বংসাত্মক, হিংসাত্মক রাষ্ট্রবিরোধী, সমাজবিরোধী গণবিরোধী নাশকতার এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল অবৈধ ও সন্ত্রাসী রূপ ধারণ করে ক্ষমতা দখল করার পথকে শ্রেয় মনে করেছিল। দেশব্যাপী নিরীহ সাধারণ মানুষ, পুলিশ, শিশু, বাস, যানবাহনের যাত্রী চালকদের ওপর নির্মমভাবে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা, স্কুল-কলেজ সরকারী দফতর অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংস করে দেশের জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বিরত এবং বঞ্চিত করতে চেষ্টা করেছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নদ্রষ্টা, ‘সোনার বাংলা’র বাস্তব রূপদান করে গোটা বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী উন্নত আধুনিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার দেশব্যাপী চলমান এক মহান আশা-আকাক্সক্ষার বাস্তবায়নের বিশাল আকাশচুম্বী কর্মকা-ের অর্জিত সাফল্যের সচিত্র প্রতিবেদন আজ বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণের সুবিশাল বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে দৃশ্যমান। সাগর-জল-স্থল এবং মহাকাশের সীমানায়ও জাতির জনকের কন্যা, শেখ হাসিনার কর্মযজ্ঞের, উন্নয়নের অর্জিত সাফল্যের জনপ্রিয়তা ও দেশ উন্নয়নের তার শক্তিশালী নেতৃত্ব, প্রতিভা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেমের ও সততার উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার প্রতীক ও নিদর্শন বাংলাদেশের ছাপ্পান্ন হাজার মাইলের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়েই আজ বিদ্যমান। দেশের আপামর জনগণ আজ পরিবার-সন্তান-আত্মীয়স্বজনসহ শান্তিতে খেয়ে-দেয়ে সরকার প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারায়, আনন্দে উদ্বেলিত। গরীব গৃহহারা মানুষ ও পরিবার, শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃক বিনা পয়সায় নির্মিত দানকৃত ঘর। একটি পরিবার, একটি খামারের সুযোগ ভোগ করার মহাসুযোগ পাওয়ায় দারুণ সুখী ও খুশি হয়ে, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শেখ হাসিনার জন্য দোয়া পরবশ হয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। বয়স্কভাতা, শারীরিক অক্ষম ভাতা, বিধবা ভাতা, দুস্থ ভাতাসহ সমাজের গরিব-অসহায় জনগোষ্ঠী আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে বেঁচে থেকে কিছুটা হলেও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাচ্ছে। সরকারী- বেসরকারী চাকরিজীবী, শিক্ষক, সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের শ্রমজীবী মানুষের বেতন-ভাতা। বৃদ্ধিসহ বোনাস ভাতার প্রবর্তন করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করার সকল ব্যবস্থাই চালু করেছেন তার ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব প্রদান করে। দেশের বিভিন্ন দল, গ্রুপ বা পেশাগত যে কোন ক্ষেত্রে গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় ঢাকা প্রেসক্লাবের সম্মুখে শুধু একটি ব্যানারের নিচে ২/১ দিন সমাবেশ ও একদিন একটি প্রতীকী অনশন পালন করার দৃশ্য প্রদর্শনের সংবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলেই সকলেই কিছু অর্জন করে ঘরে ফিরেছেন। দয়া প্রবণ, মা-বোনের স্নেহের আচ্ছাদনে বঙ্গবন্ধু কন্যা, শেখ হাসিনা গোটা দেশের মানুষকে গভীর সম্মান, আদর স্নেহ ও ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহাসিক দলের ক্ষমতাসীন সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার গভীর স্বপ্নের মোহে নেশাগ্রস্ত হয়ে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামক একটি নীতি আদর্শবিচ্যুত, জনগণ কর্তৃক প্রত্যাঘাত জনসমর্থনহীন কিছু ঘোষিত জাতীয় বিশ্বাসঘাতক আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা আজ ড. কামাল হোসেনকে নেতা সাজিয়ে তার অধীনে সমবেত হয়েছে, ’৭১-এর ঘাতক জামায়াত-আলবদর, শিবির, পাকিস্তানী ঘাতক বাহিনীর সহায়তাকারী দালাল, ’৭৫ এর জাতির জনক ও তার পরিবারের হত্যাকারী খুনী, জেলহত্যাকান্ডের চার জাতীয় নেতৃবৃন্দের হত্যাকারী ও সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ২০০৪ সালের ১১ আগস্ট গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যাকারী মহাপরিকল্পনাকারী, কুশীলবদের সঙ্গে এবং বিশ্ব জঙ্গীগোষ্ঠীর সমর্থক, সহানুভূতি প্রকাশক ও কানাডিয়ান আদালত কর্তৃক পর পর দুবার ‘একটি ভীষণ জঙ্গীবাদী দল বিএনপি’ হিসেবে ঘোষিত স্বাধীনতাবিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকদের রক্ষক ও ছাতা হিসেবে বিবেচিত দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ। ড. কামাল, রব, কাদের সিদ্দিকীর গংরা আজ এতিমের টাকা আত্মসাতকারী দলের জেল সাজা গ্রহণকারী নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার বিদেশে পলাতক খুনী, সরকারী অর্থ পাচার চুরি, আত্মসাতকারী বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামির দলীয় প্রধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। কিন্তু এতে কতদূর যেতে পারবেন তা দেখার বিষয়।

বাংলাদেশের শহর, নগর-বন্দর, রাজপথ, শান্তি উন্নয়ন, অগ্রগতির আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগ্রামী ঐতিহাসিক দল ‘আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী ঐক্যজোটের বিজয়ের লক্ষ্যে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, আকাশ-বাতাসে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সপক্ষের বিজয় নিশান উড়িয়ে, ’৭১ এর মহান বিজয়ের ১৬ ডিসেম্বরের সেই বিজয় দিবসের ন্যায় গোটা বাংলাদেশের শহর-নগর-বন্দর-গ্রামগঞ্জের পথ-প্রান্তরকে যেন জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধুর স্লোগান ও জাতির জনকের কন্যার সমর্থনে কোটি কোটি শেখ হাসিনার ভক্তদের ও শুভাকাক্সক্ষীদের পদচারণায় মুখরিত করে তোলা হয়। ’৭১, ’৭৫ ও ২০০৪ সালের ঘাতক, কলাকুশলী, সহানুভূতিদানকারী, দালাল, মতলববাজ-সুবিধাবাদী-ধান্দাবাজ-ভন্ড-লেবাজধারী পাকিপন্থীদের যেন কঠিন বার্তা দেয়া হয়, এই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ওদের কোন স্থান হবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তি সংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী সৈনিকদেরসহ আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে অত্যন্ত সতর্ক, সচেতন হয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সর্বাত্মকভাবে সর্বশক্তিসহ দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ভূমিকা রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে দেশের সরকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগে ঘাপটি দিয়ে থাকা স্বাধীনতাবিরোধী ও ঘাতকদের প্রতি নীরব সমর্থক ও সহযোগীদের প্রতি। দেশের চলমান অগ্রগতি ও উন্নয়নের কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক স্বাভাবিক গতি যেন স্তিমিত ও স্থবির হয়ে না থাকে। পরিশেষে, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশবাসীকে বলবো- শেখ হাসিনা সরকারকেই পুনর্নির্বাচিত করুন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে পরিচালনের সুযোগ দিন। (সমাপ্ত)

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক