১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঋণের সুদে সাবমেরিন ক্যাবলের মুনাফা কমেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) পরিচালন আয় বাড়লেও নিট আয়ে ভাটা পড়ছে। গত হিসাব বছরে কোম্পানিটির পরিচালন আয় আট শতাংশের বেশি বাড়লেও নিট আয় কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। মূলত বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণের সুদ টানতে গিয়েই পিছিয়ে পড়েছে বিএসসিসিএল। সেই সঙ্গে ব্যয়ের বিপরীতে বিলম্বিত কর্পোরেট করের বোঝা কোম্পানিটির মুনাফার ধসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

বিএসসিএলের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে বিএসসিসিএল প্রায় ১৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় করেছে। এ সময়ে পাঁচটি খাতের মধ্যে তিনটিতেই আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর জের ধরে আয়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আয় বৃদ্ধির জেরে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফাও আট শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আয়-পরিচালন মুনাফা বাড়লেও কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা উল্টো কমেছে।

চলতি বছরের জুন শেষে বিএসসিসিএলের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাত কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর আগের আর্থিক বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ হিসেবে গত এক বছরে কোম্পানিটির মুনাফা প্রায় ৭৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে। আর তালিকাভুক্তির পর ২০১২-১৩ আর্থিক বছরে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৮৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ হিসেবে তালিকাভুক্তির পর ছয় বছরে বিএসসিসিএলের মুনাফা কমেছে ৭৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বা ৯১ দশমিক ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছর মুনাফায় বড় ধসের মুখে পড়েছে বিএসসিসিএল।

তবে আশার কথা হলো- চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানির পরিচালন মুনাফায় বড় লাভ এসেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪৭ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩ পয়সা। আলোচ্য প্রান্তিকে আয়ে প্রবৃদ্ধি এসেছে ১৪৬৬ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৪ সালে রিজিওনাল সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশনস (এসএমউবিউ-৫) প্রকল্পের জন্য বিদেশী অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিডিবি) কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে বিএসসিসিএল। ২০১৭ সালের জুন শেষে ওই ঋণের স্থিতি প্রায় ২৭৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ওই ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে সর্বশেষ আর্থিক বছরে কোম্পানিটি প্রায় ১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ওই ব্যয়ের কারণে এবার বড় ধাক্কা খেয়েছে বিএসসিসিএল। সেইসঙ্গে বিলম্বিত কর্পোরেট করকেও (ডেফার্ড ট্যাক্স) পিছিয়ে পড়ার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এ খাতেও সর্বশেষ আর্থিক বছরে প্রায় ১৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।

এদিকে মুনাফা কমার কারণে গত আর্থিক বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের মাত্র পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএসসিসিএল। এ কারণে পুঁজিবাজারে এখন ‘বি’ ক্যাটাগরিতে কোম্পানিটি। আর ক্যাটাগরিচ্যুত হওয়ার প্রভাব শেয়ারদরের ওপরেও পড়েছে। গত এক বছরে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা বা ১৪ শতাংশের বেশি শেয়ারদর হারিয়েছে বিএসসিসিএল। সর্বশেষ বিএসসিসিএলের প্রতিটি শেয়ার ৮৮ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বিএসসিসিএলের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১৬ কোটি ৪৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫১০টি শেয়ারের মধ্যে সরকারের হাতে ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হাতে এক দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ১০ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।