২৪ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনের কারণে অর্থনীতিতে শ্লথ গতি

  • চার খাতের সূচক নিম্নমুখী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আমদানিতে ভাটা পড়েছে। কমে গছে রেমিটেন্স প্রবাহ। নেতিবাচক ধারায় নেমেছে বেসরকারী খাতে ব্যাংকের ঋণ। সরকারের রাজস্ব আহরণেও পড়েছে ভাটা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবেম্বর মাসে প্রবাসীরা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স তিন শতাংশ কম পাঠিয়েছে। সর্বশেষ গত নবেম্বর মাসে ১১৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, যা ২০১৭ সালের একই সময়ে ছিল ১২১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। এছাড়া, এ বছরের অক্টোবরের চেয়েও নবেম্বরে প্রবাসী আয় কমেছে ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।

আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অক্টোবর মাসে আমদানিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। যদিও আগের মাস সেপ্টেম্বরে আমদানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। শুধু তাই নয়, গত আগস্ট মাসে আমদানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়। ২০১৭ সালের আগস্টের তুলনায় এ বছরের আগস্টে আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের শ্লথ গতির কারণে দেশের পণ্য আমদানি ব্যয় কমে গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের অনেকে উৎপাদনে যাচ্ছেন না।’ এ কারণে বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে, ফলে ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। আর আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। এছাড়া, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য আগের মতো আমদানি করতে হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি। গত অক্টোবর শেষে বেসরকারী খাতের ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাসের শেষে যা ছিল ১৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যদিও এই বছরের শুরুতেও বেসরকারী খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশ।

কয়েকটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, নির্বাচনের বছর হওয়াতে ব্যাংকগুলো সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। এর সঙ্গে গত ৩০ জানুয়ারি এক নির্দেশনার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) দেশে পাঁচ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ৯৪ ভাগ রেমিটেন্স আসে বিশ্বের ১৮টি দেশ থেকে। এর মধ্যে ১২টি দেশ থেকেই রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গেছে। রেমিটেন্সে দুই-তৃতীয়াংশ অবদান রাখা মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশের ছয়টি থেকেই রেমিটেন্স প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

রেমিটেন্সের ধীরগতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়েছে। ১৩ ডিসেম্বর রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়ন ৩৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। তারপর থেকে রিজার্ভ নিম্নমুখী।

দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিটেন্সের নিম্নগতির কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা ছিলেন উদ্বিগ্ন। ওই সময়ে রেমিটেন্স বাড়াতে মাশুল না নেয়াসহ নানা ঘোষণাও দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বর্তমানে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। এদিকে সরকারের রাজস্ব আহরণেও খানিকটা ভাটা পড়ছে এমনটিই বলা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেস্বরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অক্টোবরে সরকারের রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের অক্টোবরের তুলনায় এ বছরের অক্টোবরে সরকারের রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। যদিও ২০১৬ সালের অক্টোবরের তুলনায় ২০১৭ সালের অক্টোবরে সরকারের রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

এই মাত্রা পাওয়া