২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুর পাল্টেছেন ড. কামাল

  • প্রতিবাদের ঝড় বইছে দেশজুড়ে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণ ও দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে গ্যাঁড়াকলে পড়ে এবার জামায়াত ইস্যুতে ভিন্ন সুর ধরলেন ঐক্যফ্রন্ট আহ্বায়ক ড. কামাল। দুুদিন আগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে জামায়াত প্রশ্নে হুমকি দিলেও বিজয় দিবসে একই প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াত জোটের এ মিত্র কৌশলে প্রশ্ন এড়িয়ে বললেন, ঐক্য সুসংহত করার মাধ্যমে স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। এদিকে ড. কামালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে ড. কামালকে স্মারকলিপি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণরা।

রবিবার বিজয় দিবসে ঐক্যফ্রন্ট কার্যালয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত তরুণ প্রজন্ম’ এ ব্যানারে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল ড. কামালের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। স্মারকলিপিতে ড. কামালের উদ্দেশে বলা হয়েছে: বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা, স্বাধীনতাবিরোধী-ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের সঙ্গ ত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকারীদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। আপনি বর্তমানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে প্রকারান্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়েছেন, যা আপনার প্রণীত সংবিধানের চার মূলনীতির মধ্যে বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

প্রতিনিধি দলের সদস্য মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, আমরা ড. কামালকে স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা তাকে বলেছি যে আপনারা সবাই অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নির্বাচনে যাওয়ায় আমরা তরুণসমাজ খুবই মর্মাহত। আপনি ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা সংবিধানে এনেছেন, কিন্তু আপনি সাম্প্রদায়িক শক্তি নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছেন এটা তরুণদের মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ সময় তিনি আমাদের বলেন, তাদের একটা মিটিং রয়েছে। তারা এসব বিষয় নিয়ে পরে আলোচনা করবেন।

শুক্রবার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ড. কামালকে জামায়াত বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এক সাংবাদিককে ‘খামোশ’ বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রশ্নকারী সাংবাদিককে চিনে রাখারও হুমকি দেন তিনি। সে ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শনিবার রাজধানীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে ড. কামালকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় সাংবাদিক সমাজ।

আজ সোমবার বেলা এগারোটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার সাভারে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরও স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে রাজনীতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে এবার কৌশলী পথে হাঁটেন ড. কামাল। তিনি বলেন, আমরা যদি ঐক্য করি, সে ঐক্য সুসংহত করি। ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। যে কোন দিক থেকে যদি কাজে লাগে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই জনগণের সে শক্তি আছে, আমরা স্বাধীনতা রক্ষা করব।

ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ড. কামালের গণফোরামসহ বিভিন্ন দল বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছে। একই প্রতীক নিয়ে ভোটে আছে বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতের ২২ নেতাও। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বিএনপির প্রার্থীরা। একই প্রতীকে আছে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানও। এদিকে সাংবাদিককে হুমকি ও অবমাননাকর বক্তব্যের ঘটনায় ড. কামালের বিরুদ্ধে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড় বইছে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সাংবাদিকরাও।

সাংবাদিক প্রভাষ আমিন তার এক লেখায় বলেন, ড. কামাল বাংলাদেশের সবচেয়ে খ্যাতিমান আইনজীবী। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে মহৎ আইনী লড়াই মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার। কিন্তু এই বিচার প্রক্রিয়ায় তার কোন ভূমিকা কখনও চোখে পড়েনি। বরং মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের সবচেয়ে বড় সমালোচকদের একজন তার ঘরে থাকেন।

ড. কামালের মেয়ের জামাতা সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান দিনের পর দিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধাচরণ করে, এই বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। ড. কামাল কিন্তু কখনই তার জামাতার কোন কাজের বিরোধিতা করেননি, তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। তার মানে নিজের মুখে বলতে না পারলেও ডেভিড বার্গম্যানের অবস্থানের সঙ্গে তার দ্বিমত ছিল না।

সোহেল নামে এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘জামায়াত যার বন্ধু, ধ্বংস হওয়ার জন্য তার শত্রুর দরকার হয় না। পাকিস্তানের পরিণতি আর পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা বা উদাহরণ দুটোই খুঁজে নিতে পারেন। একটাও স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তি ক্ষমতায় রেখে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি দেখতে চাই না। মৌলবাদী, যুদ্ধাপরাধী কিংবা জঙ্গীদের শাসন দেখার জন্যে ৩০ লাখ শহীদ আর ২লাখ মা-বোন ইজ্জত দেন নাই! রাজাকার জামাত-শিবিরের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করবেন না। শুধুমাত্র এই শর্তে আপনাকে এদেশের তরুণ সাংবাদিক সমাজ ক্ষমা করতে পারে।’