১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

রাজধানীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় র‌্যালি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহান বিজয় দিবসে রাজধানীতে বিজয় র‌্যালি করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বেলা সাড়ে এগারোটায় নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভিন্ন শরিক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে র‌্যালিটি শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড় ঘুরে আবার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি উদ্বোধনকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন- জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার চলছে, অবিলম্বে গ্রেফতার বন্ধ করুন, প্রহসনের নির্বাচন করবেন না।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে দেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে থাকবে, না গণতন্ত্রে ফিরবে। মানুষ স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে পারবে কি পারবে না।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। তারা স্লোগানে স্লোগানে ‘ধানের শীষে’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানায়। তারা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পায় জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড।

ফখরুল বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে আমাদের গণতন্ত্রের নেত্রী, আপোসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়-অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে পারব কি পারব না? সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে হামলা-মামলা-গ্রেফতার বন্ধ করুন, অন্যথায় সব দায়দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।

ফখরুল বলেন, আজ বিজয়ের দিনে আমাদের আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত, আমরা আতঙ্কিত, উৎকণ্ঠিত। কারণ, দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি থাকবে না, এটি এখন বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, আজ নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচন ঘোষণা দিয়েছে সে নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রকমের পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে। আমরা কখনও এই ধরনের নির্বাচন দেখিনি, সরকার নজিরবিহীনভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মী এমনকি প্রার্থীদেরও গ্রেফতার করছে। মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, নির্বাচন থেকে তাদের দূরে রাখার চেষ্টা করছে।

ফখরুল বলেন, শনিবার নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ওপর হামলা হয়েছে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গুলি করা হয়েছে। সুব্রত চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। তাকে নির্বাচনী প্রচার করতে দেয়া হয়নি। বিএনপি প্রার্থী নবীউল্লাহ নবীর এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, অথচ নির্বাচন কমিশন নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, অভিযোগ দিলেও কিছুই করে না।

র‌্যালিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশকে দায়ী করে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল বলেন, এই র‌্যালি বেলা দুটোয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশ বলেছে দশটা থেকে বারোটার মধ্যে শেষ করতে হবে। তারপরও যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, সরকার আমাদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ বাহিনীকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যাতে আমরা নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দিই। কিন্তু দেশের জনগণ ৩০ ডিসেম্বর ধানের শীষের পক্ষে রায় দিয়ে ঐক্যফ্রন্টকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিজয়ের দিন আমরা একটা লড়াইর মধ্যে আছি। এ লড়াই হলো ভোটের লড়াই। ’১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে ভোটের নামে একটি প্রহসন হয়েছে। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার আওয়ামী লীগকে ওয়াকওভার দেব না। আমরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রার্থী দিয়েছি। এ কারণে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সরকার একের পর এক জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করছে।

র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, দলের নেতা অপর্ণা রায়, আনোয়ার হোসেইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, শাহ নেসারুল হক, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, জাসাস সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খান ও ছাত্রদল সাধারণ সম্পাাদক আকরামুল হাসান।

এর আগে মির্জা ফখরুল দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলানগরে জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিজয়ের দিনে আমরা আরেকটি বিজয় ঘোষণা করতে চাই, আগামী ৩০ ডিসেম্বর হবে জনগণের বিজয়। আজ আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে। তিনি বলেন, আজ আমরা ভারাক্রান্ত। ’৭১ সালে যিনি নির্যাতিত হয়েছেন, বন্দী হয়েছেন, আজ তিনি গণতন্ত্রের জন্য কারাগারে। আমরা তার মুক্তি কামনা করছি। যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সরকার তা পদদলিত করেছে।