২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ফের বিজয়ী করবে ॥ নাসিম

  • বিজয়মঞ্চ উদ্বোধন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে সারাদেশে ‘বিজয়মঞ্চ’ করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। এই বিজয়মঞ্চ থেকে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রার্থীদের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানানো হবে।

রবিবার মহান বিজয় দিবসে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই বিজয়মঞ্চের উদ্বোধন করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল পরাজিত হতে পারে না। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে এদেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আবারও বিজয়ী করবে।

১৪ দলের উদ্যোগে এ বিজয়মঞ্চের সহযোগিতায় রয়েছে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সারাদেশে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এ বিজয়মঞ্চ তৈরি করা হবে। এ বিজয়মঞ্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র, যুব, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিজয়মঞ্চে আলোচনা সভা, নাটক, আবৃতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে। চলবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে এ বিজয়মঞ্চের অনুষ্ঠান ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হতে পারে বলেও আয়োজকরা জানান।

বিজয়মঞ্চের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, একাত্তরের রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা ছিল, এখনও আছে। এবার নতুন করে মীরজাফরের জন্ম হয়েছে। ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকীরা রাজাকারদের পক্ষে সাফাই গাইছেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের ড. কামাল হোসেন ধমক দেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দিয়ে এই ধমকের জবাব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের ছোটখাটো ভুল ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু আপনারা বড় ভুল করবেন না। স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ তুলে দেবেন না। আমরা বলেছিলাম সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, সেটাই হচ্ছে। সেমিফাইনালে আমাদের বিজয় হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ফাইনালে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় হবে। বিএনপিসহ ঐক্যফন্টের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা নির্বাচন থেকে সরে যাবেন না।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের নির্মূল করতে নৌকায় ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলকে জয়যুক্ত করা। আরেকটি দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখা। ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্ট করে রাজাকারদের পক্ষ নিয়েছেন। আমরা বলতে চাই কোন যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তান এই নির্বাচনে নির্বাচিত হলেও আমরা তাদের সংসদে ঢুকতে দেব না।

অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে মুক্তিযোদ্ধা জনতাকে ॥ স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ থেকে জানান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিজয়ের মাস ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির আরও একটি বিজয় অর্জিত হবে। এ নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধা জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন-যারা পঁচাত্তর পরবর্তী ২১ বছর ক্ষমতায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূন্ডলুণ্ঠিত করেছিল, এখন সময় এসেছে তাদের সমুচিত জবাব দেবার।

৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে তাদের সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। রবিবার রাতে কাজিপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা জনতার উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

তিনি ঢাকা থেকে সড়কপথে কাজিপুরে পৌঁছে উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলো সংলগ্ন বেসরকারী অর্থায়নে নির্মিত স্বাধীনতা স্কয়ারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। পরে তিনি সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান প্রমুখ।

পরে তিনি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালা ঢাকা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিজয় মেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বেশকিছু সময় শিল্পীদের পরিবেশিত গান উপভোগ করেন।