১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

‘আত্মসমর্পণ দলিলে প্রথমে পুরো নাম লেখেননি নিয়াজী’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় জেনারেল নিয়াজী তার পুরো নাম স্বাক্ষর করেননি। পরবর্তীতে আমি নিজে আত্মসমর্পণের পেপারটি হাতে নিলে দেখতে পাই এই ভুল। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জেনারেল অরোরা সিংকে বললে পরে পুরো নাম লেখেন নিয়াজি। স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তিযোদ্ধা ও উপস্থিত লোকজন ঘৃণা আর ক্ষোভে নিয়াজির দিকে পাথর মারতে থাকেন। কিছুক্ষণ চলার পর আমাদের সহায়তায় পাথর ছোড়া বন্ধ হয়। এভাবে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। এরপর উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাসহ সবাই মুহুর্মুহু ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তোলেন। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে ১৯৭১ সালের পাকবাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ দৃশ্যের এমন বর্ণনা করেন ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ এর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল একেএম শফিউল্লাহ বীর উত্তম। রবিবার সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দেশে একজন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকা অবস্থায়ও জীবিত কোন যুদ্ধাপরাধীর চলমান বিচারকাজ যেন বন্ধ না হয় তার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।

সেক্টার কমার্ন্ডাস ফোরাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি অয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ছাত্রদের অংশগ্রহণে পাকিস্তানী বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের নাট্যায়ন করা হয়। এছাড়া দেশবন্দনার সঙ্গীত, বিজয়ের গৌরব নৃত্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন কবিতা আবৃত্তি ও মুক্তিযুদ্ধের গীতিনাট্য পরিবেশিত হয়। সংগঠনটির সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদের সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরের কমান্ডারবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জীবন দিয়ে এদেশ আমাদের জন্য এনে দিয়েছেন। তাদের জন্যই আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। আর আমরা নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে এক হয়ে কাজ করব। মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান মুক্তি সংগ্রামকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মেয়র মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে রাজধানীর পূর্বাচলের তিন শ’ ফিট রাস্তাকে ’মুক্তিযোদ্ধা সরণি’ নামকরণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন এবং তা অতি দ্রুত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় পতাকা হস্তান্তর করেন।