১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরপেক্ষ দূরের কথা, নির্বাচনই হবে কিনা শঙ্কা ড. কামালের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিয়ে আবারও শঙ্কা প্রকাশ করলেন ঐক্যফ্রন্ট আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণে সারাদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে ড. কামাল এবার রাজনৈতিক দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। এর প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বারবার। যদিও রবিবার সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে সবার ঐক্যের মধ্য দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার কথা বলেন।

সকালে সাভারের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিকেলে প্রিতম-জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও আগের দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ-শেরপুর পর্যন্ত ফ্রন্টের রোডমার্চে অসুস্থতার কথা বলে অংশ নেননি তিনি। ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে দুপুরে ফ্রন্টের আয়োজনে বিজয় র‌্যালিতেও দেখা যায়নি বঙ্গবন্ধু সরকারের সাবেক এই আইনমন্ত্রীকে।

ড. কামাল বলেন, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া দূরের কথা নির্বাচনই হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা আছে। সংবাদ সম্মেলনে চলমান পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সারাদেশে যে সব ঘটনা ঘটছে আমরা সে তথ্যগুলো আপনাদের দিচ্ছি, আপনরাই মূল্যায়ন করবেন। এ নিয়ে আমাদের মন্তব্যের কিছু নেই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা তো আছেই। আমাদের মনে হচ্ছে, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। কারণ, তারা (সরকার) বুঝতে পারছে জনমত কোন দিকে যাচ্ছে। ৩০০ আসনে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবারের (১৮ ডিসেম্বর) মধ্যেই সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানোর দাবি জানান তিনি।

আসন্ন নির্বাচন যাতে না হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট আশঙ্কা তৈরি হয়েছে- মন্তব্য করে ড. কামাল বলেন, কারণ ক্ষমতাসীনরা জনমত বুঝে গেছে। যে কারণে জোর করে ক্ষমতায় থাকার সব ধরনের চেষ্টাই তারা করছে। নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় ক্ষমতাসীনরা সে চেষ্টাই করছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন হবে কি হবে না তা নিয়ে আশঙ্কা আছে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবে কি নাÑ প্রশ্নের উত্তরে ড. কামাল বলেন, টিকে না থাকার কোন কারণ নেই। আমাদের প্রতি জনগণের সমর্থন আছে। সুতরাং শেষ পর্যন্ত আমরা ভোটের মাঠে থাকব।

আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর গণফোরাম গঠন করেন ড. কামাল। কিন্তু কখনও ভোটের রাজনীতিতে অবস্থান সৃষ্টি করতে পারেননি। রাজনীতিতে নামমাত্র অংশ নেয়ার মধ্যে সব দলের সমন্বয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকে ঐক্যের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া করেন তিনি। এক পর্যায়ে যুক্তফ্রন্টের মূল উদ্যোক্তা বিকল্পধারাকে বাদ দিয়ে ১৩ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে নানা দিক থেকে ড. কামালকে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। তবে নির্বাচনে তার দল অংশ নিলেও তিনি দূরে আছেন। ফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সামনে আসেন ড. কামাল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য ভোটারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, যারা মিছিল করছে তাদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। এমনকি প্রার্থীরা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হচ্ছেন। আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো এ ঘটনার পর কোন আইনানুগ ব্যবস্থা হয় না। অথচ এগুলো কোন খেয়ালখুশির বিষয় নয়। সংবিধানে আছে : অবাধ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করে, আঘাত দেয়, আক্রমণ করে, সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু আমরা দেখছি, যাদের ওপর হামলা করা হলো, তাদেরকেই আবার এ্যারেস্ট করা হলো। আর যারা আসলেই আক্রমণ করেছে, তারা বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ভোটের দিন কী হবে?’

আ স ম আবদুর রব বলেন, শুধু কর্মীদের গ্রেফতার, মামলা হামলা নয়, সেদিন আমরা গিয়েছিলাম বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। সেখানে আমাদের শহীদ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। জীবনে কোন নির্বাচনে দেখিনি প্রার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্যান্ডিডেট যদি গ্রেফতার হন, তাহলে তিনি নির্বাচন করবেন কিভাবে?

ড. কামাল বলেন, মাহবুব উদ্দীন খোকনের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, সিরাজগঞ্জে টুকুর বউ’র ওপর গুলি করা হয়েছে, ঢাকায় সুব্র্রতসহ কেউ মাঠে নামতে পারছেন না। ‘১৩ দিন আগে যদি গুলি চালায়, ১৩ দিন পর কী চালাবে? ট্যাঙ্ক চালাবে, কামান চালাবেÑ একি অবস্থা? পৃথিবী কোথায়, মানুষ কোথায়, ইউএসএ কোথায়? আমরা তো মানুষ’ বলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ স ম আবদুর রব। তিনি বলেন, ‘একাত্তরে বর্বর পাকিস্তানীরা এ রকম হামলা করেনি। পাকিস্তান আমলে যত নির্বাচন হয়েছে, সেসব নির্বাচনে এ রকম নির্যাতন হয়নি, বিরোধী দল, নেতাকর্মী, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ওপর এ রকম নির্যাতন চালানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাহমুদুর রহমান মান্না, সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও জগলুল হায়দার আফ্রিক।

ড. কামাল বলেন, আমাদের স্বাধীন দেশের একটি সংবিধান রয়েছে। সেখানে কিভাবে নির্বাচন হবে সে বিধান রয়েছে। দেশের মালিক জনগণ। জনগণই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে। সেজন্য নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য খুব চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে মিডিয়ারও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ভোটাররা যেন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য বাধা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এই মাত্রা পাওয়া