১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ় প্রত্যয়ী সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আর বাকি মাত্র ১২ দিন। সারাদেশে প্রার্থীরা এখন গণসংযোগে ব্যস্ত। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নানা উন্নয়ন কর্মকা-ের, বিপদে আপদে পাশে থাকার। গত ১০ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে প্রচার শুরু করেছেন। আর মাত্র ১১ দিন নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। এদিকে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে

নির্বাচন কমিশন। ব্যালট পেপার বাদে নির্বাচনের সব সরঞ্জাম নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছানো হয়েছে। তবে নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখনও আশঙ্কা প্রকাশ করলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার উল্লেখ করেছেন দৃঢ়তার সঙ্গেই বলছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবার সব দলের ১ হাজার ৮৪১ জন প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। তবে বিএনপি নির্বাচনের মাঠে থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার সঙ্গে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের। এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ বাকি রয়েছে।

নির্বাচনের নিরাপত্তার পরিকল্পনাও সম্পন্ন করেছে ইসি। গত ১৩ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৪ তারিখ থেকে মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনী সদস্যদের নামানো হচ্ছে। তারা এবারের ভোটের মাঠে থাকবেন ১০দিন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় সব উপকরণ জেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। সবার শেষে পাঠানো হবে ব্যালট পেপার। আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যালট পেপার নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছানো হবে বলে ইসি সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনের জন্য ৪০ ধরনের উপকরণের প্রয়োজন পড়ে। এরমধ্যে সিল, মার্কিং সিল, ব্রাশ সিল, ব্যালট বক্স, রশিসহ অন্য উপকরণ ইতোমধ্যে জেলায় পাঠানো হয়েছে। আর ব্যালট পেপার ছাপানোর জন্য বিজি প্রেসকে অর্ডার দেয়া হয়েছে।

ইসি সচিব এর আগে বলেন, আমাদের যে ধরনের প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন তা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়াও সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার রাঙ্গামাটিতে তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এখন শুধু প্রিসাইডিং এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ বাকি। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে ৮টি বিভাগে কমিশনাররা নিজেরা গিয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল সাভার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সকলে অংশগ্রহণ করবে সেরকম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে বলেন নির্বাচনে সকলেই সহযোগিতা করবেন, আচরণ-বিধি সবাই মেনে চলবেন। সব প্রার্থীদের নির্বাচনের নিয়ম-কানুনও মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকেই ভোটের মাঠের শৃঙ্খলা রক্ষায় নামবে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা। তার মাঠে ১০ দিন অবস্থান করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে মাঠে থাকবেন ৩ ধরনের বিচারক। এর মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ৬৫২ জন, ২৪৪ জন সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট জাজ, জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ৬৪০ জন। তারা নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত মোট চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে হাজার খানেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা বিজিবি, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এদিকে নির্বাচনে মাঠে থাকবেন দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকরা। ইতোমধ্যে ইসির নিবন্ধিত ৮১ সংস্থার পক্ষ থেকে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হতে আবেদন জানিয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৭১। বিদেশী পর্যবেক্ষক হতে আবেদন করেছেন ১৬৭।