১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আমাদের করণীয় কী’ শীর্ষক এক সেমিনারে সিপিডির পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়, এক দশকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার নামে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। সেমিনারে সিপিডির বিশেষ ফেলো বলেন, বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। সুশাসনের অভাবে বিভিন্নভাবে লুটপাট হওয়ায় পুরো আর্থিক খাতে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকিং খাত নিয়ে সিপিডির বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্প্রতি যে তথ্য প্রকাশ করেছে তা ঠিক নয়।

অর্থনীতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা গবেষণালব্ধ তথ্য-উপাত্ত-বিশ্লেষণ তুলে ধরবেন, সেটাই প্রত্যাশিত। গবেষণার বাইরে আগ বাড়িয়ে এমন কোন অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ অসমীচীন, যাতে দেশের উন্নয়নের ধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার অবকাশ থেকে যায়।

পরিতাপের বিষয় হলো, দেশে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাল্পতা রয়েছে। স্বীকৃত সংস্থা হিসেবে যে দু-একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে তৈরি হয়ে গেছে, তার কোন একটির সামান্যতম পদস্খলন জাতির সম্মুখ পদযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় এর আগে সিপিডির একজন ফেলো মন্তব্য করেছিলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে না। বাংলাদেশ যখন বাইরের বিনিয়োগ বাড়ানোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপও গৃহীত হচ্ছে, সেসময়ে এ ধরনের মন্তব্য বহির্বিশ্বকে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে সম্পাদকীয়তে আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিকট অতীতের যে কোন বছরের তুলনায় কিছু বিরুদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে সামনের দিকে। অনেকটা শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকার কারণেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল থেকেছে। অর্থনীতির এমন শক্তিশালী অবস্থান বিগত চার দশকে এ মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়নি।

জাতিসংঘের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) তৈরি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে বাংলাদেশকে এক দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। অর্থাৎ সরকার ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে নয়। সিপিডির ওই তৎপরতাকে দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের প্রয়াস হিসেবে দেখেছিলেন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা। সিপিডির সমালোচনা করতে গিয়ে স্বয়ং বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন যে, দেশে অর্থনীতির সব সূচকই উর্ধমুখী। শিল্প, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আমদানি-রফতানি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সব খাতের উন্নয়নে বিদেশীরা এখন বাংলাদেশের প্রশংসা করছে। এমন পরিস্থিতিতে সিপিডির এই বক্তব্য দুঃখজনক।

অতীতে বিভিন্ন সময় সিপিডির গবেষণাপত্র বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। দেশীয় কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেশের স্বার্থের বিপক্ষে হোকÑ এটা কারোরই কাম্য হতে পারে না। গঠনমূলক পরামর্শই কাক্সিক্ষত, নেতিবাচক বক্তব্য নয়।