১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনশনে লতিফ সিদ্দিকী অসুস্থ্

অনশনে লতিফ সিদ্দিকী অসুস্থ্

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বর্তমানে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের বারান্দায় শুয়ে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড শীতের কারণে গতকাল রাতে তাকে ডিসি অফিসের সামনের প্যান্ডেল থেকে বারান্দায় নেয়া হয়েছে।

এদিকে টানা দুইদিনের অনশনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। ইতোমধ্যেই তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়াসহ হৃদস্পন্দন (হার্টবিট) ও রক্তচাপ কমে গেছে। দ্রুত তাকে স্যালাইন দেয়াসহ হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফ হোসেন খান মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আমরণ অনশনরত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর শারীরিক পরীক্ষা শেষে এসব তথ্য জানান।

ডা. শরীফ হোসেন খান বলেন, টাঙ্গাইল স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে আজই তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তার শারীরিক এ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি ও স্যালাইন দেয়ার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি রাজি হননি। এর পরিবর্তে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দাবি মেনে নেয়া হলেই চিকিৎসায় যাবেন।

১৬ ডিসেম্বর (রবিবার) দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের বল্লবভবাড়ি ও সরাতৈল এলাকায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গাড়িবহরে হামলা হয়। এ সময় বহরে থাকা চারটি গাড়ি ভাঙচুর এবং তার অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। লতিফ সিদ্দিকী হামলার জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর কর্মীদের দায়ী করে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেফতার ও কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থানের ঘোষণা দেন। পরে সোমবার দাবি পূরণ না হওয়ায় আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন লতিফ সিদ্দিকী। মঙ্গলবার সকালে ধর্মঘটস্থলে থাকা লতিফ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠজন মো. মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী ঝিন্টু জানান, গত রবিবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে তিনি টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন। তবে দাবি আদায় না হওয়ায় সেখানেই তিনি রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় রাতেই দ্রুত ডেকোরেটরের পর্দা দিয়ে একটি ছোটখাটো প্যান্ডেল তৈরি করা হয়।

ওই প্যান্ডেল তৈরির পর মাটিতেই চাঁদর পেতে তৈরি বিছানায় শুয়ে পড়েন লতিফ সিদ্দিকী। রাতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম নেতাকে দেখতে এসে একটি চৌকি এনে দেন। পরে ওই চৌকির বিছানায় শুয়ে অনশন চালিয়ে আসছেন তিনি। এতে শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, এছাড়াও সোমবার নিম্নচাপের প্রভাবে সকাল থেকেই হালকা বৃষ্টিসহ শীত অনুভূত হয়। রাতে বৃষ্টি ও শীত তীব্র হয়ে ওঠায় ডিসি অফিসের সামনের প্যান্ডেলে লতিফ সিদ্দিকীর শুয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে তাকে ডিসি অফিসের বারান্দায় তার চৌকির বিছানাটি তুলে আনা হয়েছে। বর্তমানে ডিসির বারান্দায় শুয়েই আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন। এখনও তিনি তার দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

ধর্মঘটস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ডিসি অফিসের বারান্দায় চৌকিতে কম্বল গায়ে শুয়ে আছেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। তার পাশে কয়েকজন নেতাকর্মী দাঁড়িয়ে আছেন। তবে উভয় পাশে পুলিশ পাহারা থাকায় তাকে দেখতে সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।