১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচনে দায়িত্বশীলতা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল প্রার্থী ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলতাই নয়, সব নাগরিক তথা ভোটারদের দায়িত্বশীলতাও কাম্য। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যারা অংশ নেন তাদের কাছেও প্রত্যাশা দায়িত্বশীলতার। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদেশী কূটনৈতিক মিশনগুলোরও রয়েছে বিশেষ দায়িত্ব। কেননা অতীতে দেখা গেছে নির্বাচন নিয়ে কোন মন্তব্য প্রকাশ করা হলে সেটি নিয়েও নেতিবাচক রাজনীতি করার অপচেষ্টা চালিয়েছে কোন কোন চিহ্নিত দল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুই সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে এসেছে। দলটি নির্বাচনের পরও দু’সপ্তাহ বাংলাদেশে অবস্থান করবে। বিশেষজ্ঞ দলটি নির্বাচনসংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে নজর রাখছে। সফর শেষে তারা একটি প্রতিবেদন তৈরি করে এ দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দেবে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা বা না করার বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের। ইইউ বিশেষজ্ঞ দল নিজেরা সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করবে না। বিষয়টিকে নির্বাচন সহায়ক বলেই বিবেচনা করা যায়।

উল্লেখ করা দরকার, গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ইইউর আটজন ও ইইউর বাইরের দু’জন রাষ্ট্রদূত মিলে যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন তাতে প্রকৃত, বিশ্বাসযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান রয়েছে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতরা রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকাসহ গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে আইনের শাসন সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বলাবাহুল্য, তাদের এমন কোন অভিমত ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা অসমীচীন, যাতে করে সেটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সমতুল্য বলে প্রতীয়মান হয়।

জাতীয় নির্বাচনে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। এটি আন্তর্জাতিক রীতি। দলনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার কথা থাকলেও অনেক সময় তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। পর্যবেক্ষণের নামে মনগড়া এবং ভুল তথ্য দেয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এজেন্ডা নিয়ে যাতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা কাজ না করেন সেটি দেখার বিষয়। আসন্ন নির্বাচনে এমন আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য নীতিমালা ঘোষণা করেছে। বলাবাহুল্য, নীতিমালা ভঙ্গ করা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করা হবে। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের জন্যও পর্যবেক্ষণ নীতিমালা (কোড অব কন্ডাক্ট) রয়েছে। বিদেশী পর্যববেক্ষক যারা আসবে তাদের অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে। বাংলাদেশে বিদেশী মিশনসমূহ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করলেও নির্বাচনের ওপর তাদের বিশেষ দৃষ্টি যে থাকবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে ইতোমধ্যে তারা নিজেদের করণীয় ঠিক করেছে বলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোন দলই ওই মিশনসমূহের পর্যবেক্ষণ থেকে কোন ধরনের সুবিধা লাভ করতে পারবে না। অবশ্য সেটা কাম্যও নয়। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, দেশে এমন কিছু রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। তারাই বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং নিজ দলের স্বার্থের দিকটি বিবেচনা করে অনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালায়। বলাবাহুল্য, ভোট সুষ্ঠু হলো কি হলো না তার স্বীকৃতি দেবে এ দেশের জনগণ, বিদেশীরা নয়। বিদেশী কূটনীতিকরাও বুঝতে পারছেন যে, এটা তাদের কাজ নয়।