২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহসিন-কানন : বন্ধু যখন শত্রু

  • টি ইসলাম তারিক

এক মঞ্চে মহসিন-কাননের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্ন এক মাত্রা নিয়ে এনেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭৫ জন মোহামেডান প্রেমি। তারা সাবেক এই তারকাদের পেয়ে ক্ষণিকের জন্য হলেও অতীতে ফিরে যান। করেন স্মৃতি রোমান্থন। মহসিন ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় বিভাগের দল রেলওয়ে ব্লুজের হয়ে খেলেছিলেন। ওই বছরই রেলওয়ে ব্লুজ শের- এ- বাংলা কাপে অংশ নেয়। রেলওয়ে ব্লুজের পক্ষে খেলেন আবাহনীর আশরাফ উদ্দিন চুন্নু। ফাইনালে চুন্নুর জোড়া গোলের সুবাদে দল চ্যাম্পিয়ন হয়। তাছাড়া তখন আন্তঃজুটমিল ফুটবল টুর্নামেন্ট হতো। মহসিন ’৭৮ সালে বাওয়া জুটমিলের পক্ষে খেলেন। চুন্নুও ছিলেন মহসিনদের দলে। সেমিতে প্রতিপক্ষ ছিল আদমজী জুট মিল। আদমজী জুট মিলে ছিলেন সান্টু, টুটুল ভাইসহ জাতীয় দলের চার পাঁচ জন খেলোয়াড়। ওই ম্যাচে মহসিনরা জয়লাভ করে ফাইনালে উঠে কিন্তু দুর্ভাগ্য জনকভাবে হেরে যান। ফাইনালে মহসিনকে খেলানো হয়নি। খেলেছিলেন সিনিওর গোলরক্ষক মোতালেব। ওই টুর্নামেন্টে খেলা দেখে পছন্দ করেন চুন্নু। তিনি তাকে সেখান থেকে ঢাকায় আবাহনী ক্লাবে নিয়ে আসেন।

ওই সময় আবাহনীতে মহসিনের মাঠে নামার সুযোগ খুব একটা হতো না। আবাহনী যখন ৪/৫ গোলের লিডে থাকতো হয়ত দেখা গেছে শেষ ৫ মিনিট আগে মহসিনকে মাঠে নামিয়েছে। তবে আবাহনীর গোল রক্ষক সুহাস ঢাকা লীগের পাশাপাশি চিটাগং লীগেও খেলতেন। ১৯৮১ সালে চিটাগং লীগে এক ম্যাচে খেলতে গিয়ে হাতে ব্যথা পান । তখন মাঠে নামানো হয় মহসিনকে। সুপার লীগের শেষ ৫/৬ ম্যাচ খেলেছিলেন। কোন গোল হজম করতে হয়নি। পরে ১৯৮২ সালে লীগে খেলার জন্য মহসিনের ডাক পড়ে মোহামেডান থেকে। কিন্তু তখন মোহামেডানে দেশসেরা গোল রক্ষক লাল মোহাম্মদ। তারপরও আগপাছ না ভেবেই তিনি দল পালটিয়ে মোহামেডানে যোগ দেন। তার ইচ্ছা ছিল দেশ সেরা গোল রক্ষকদের খুব কাছ কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। তবে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়াটা ছিল আরেক কাহিনী। ১৯৮২ সালের মোহামেডান দল ছিল দুর্দান্ত। লাল মোহাম্মদ অসুস্থ থাকার কারণে ফেডারেশন কাপ খেলেন মহসিন। পরে আবার লীগে শুরু থেকেই লাল ভাই ফিরে আসেন। মোহামেডান সব ম্যাচ জিতে চলেছে কিন্তু আকস্মিকভাবে ২-০ গোলে হেরে যায় ভিক্টোরিয়ার কাছে। সমর্থকরা লাল ভাইকে খুব গালিগালাজ করে। লাল ভাই সেদিন রাত দুইটার সময় সেই যে ক্লাব থেকে চলে গিয়েছিলেন আর ফিরে আসেননি। পরের ম্যাচেই মহসিনের যায়গা হয়ে যায় মূল একাদশে।

এবার আসা যাক সাইদ হাসান কানন প্রসঙ্গে। লম্বা ছিলেন বলেই বাড্ডা এলাকার বজলু, মনু ও লালারা কাননকে গোলরক্ষক হতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। গোলরক্ষক হিসেবেই পাইওনিয়ার খেলে তবেই প্রথম বিভাগে নাম লেখান। আবাহনীর ব্রিটিশ কোচ উইলিয়াম বিলহার্ট-এর গোল রক্ষকের বাছায়ে কাননকে নির্বাচন করা হয়। ১৯৮০ সালের ফেডারেশন কাপের পর আবাহনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। পরে খোঁজ পেয়ে যান ফুটবল কারিগর আলি ইমাম ভাইয়ের। তৎকালীন সময়ে তিনি অফ সিজনে জুনিয়র খেলোয়াড়দের অনুশীলন করাতেন। যারা ভাল করে তাদের বিভিন্ন ক্লাবে সুযোগ করে দিতেন এই ফুটবল কারিগর। আলোচনায় জানা যায় প্রথম বার দেখেই হাসতে হাসতে কাননকে বলেন, ‘তুইতো তারের খাম্বা রে’। তাকে জানালেন সাইকেল বাদ দিয়ে এই লেক সার্কাস মাঠে প্রতিদিন দৌড়ে আসতে পারবো কি না। যদি পারে তবেই তাকে নেওয়া হবে। কানন নির্দ্বিধায় রাজি হয়ে যান এবং সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ভাল ভাবেই। এক বছর ঘাম ঝরানো অনুশীলন করেন ইমাম ভাইয়ের কাছে। ১৯৮১ সালে ফরাশগঞ্জ প্রথম বিভাগে উঠলে ইমাম ভাইয়ের কাছে গোল রক্ষক চায় ক্লাবটি। ইমাম ভাই কাননকে ফরাশগঞ্জ ক্লাবে পাঠালে তাদের ট্রায়ালে টিকে যান কানন। বলা চলে এখান থেকেই পথ চলা শুরু।

১৯৮৩ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নে যোগ দেন কানন। ওই বছর ভাল খেললে ডাক আসে মোহামেডান থেকে। মোহামেডানে তখন তুখোড় ফর্মে মহসিন। কানন একটু দ্বিধা দন্দে পড়ে যান। পরে ইমাম ভাইয়ের পরামর্শে মোহামেডানেই যোগ দেন তিনি। তবে এখানে বলে রাখা কাননের টাকার প্রয়োজন ছিল বিধায় বসে থাকতে হবে জেনেও ছয় লাখ টাকার চার লাখ টাকা ক্যাশ চুক্তিতে মোহামেডানে যোগ দেন কানন।

মহসিন-কানন বা কানন-মহসিন যে যাই বলুক না কেন তারা ছিলেন দারুণ বন্ধু। একই দলে এই দুই বন্ধু সব সময় অলটারনেট করে খেলতেন। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো কে গোল কম খাবে এই নিয়ে। কখনোই হিংসা মনের ভিতরে বাসা বাঁধতো না। আড্ডায় কানন বিষয়টি অকপটেই স্বীকার করে বলেন, গোলরক্ষক হিসেবে মহসিনের উচ্চতা কম হলেও তার নিজের স্কিল, আই সাইট, পজিশন জ্ঞ্যান এবং বিচক্ষণতা দিয়ে সে প্রমাণ করেছে সেই দেশের সেরা গোলরক্ষক ছিল।

মহসিন ঘরোয়া ফুটবলে যেমন সুনামের সঙ্গে খেলেছেন তেমনি খেলেছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচে। ১৯৮২ সাল থেকেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়। সেটা ছিল বাংলাদেশ সবুজ দলের হয়ে কিন্তু সেবার মাঠে নামা হয়নি। তবে সে বছরই দিল্লীতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে মাঠে নামার সুযোগ হয়। নিয়মিত গোলরক্ষক মোতালেব ভাই প্রথম ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ভাল খেলতে না পারার কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে চীনের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয় মহসিনকে। চীনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ তবে মহসিন খেলেন দারুণ। তাছাড়া ১৯৮৮ সালে তেহরানে ইরানের বিপক্ষে এবং ১৯৯৬ সালে আরব আমিরাতের বিপক্ষে যদিও ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ কিন্তু দারুণ খেলেছিলেন গোলরক্ষক মহসিন।

মহসিন ১৯৮৩ সালে ঢাকায় তৃতীয় প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ, মালয়সিয়ায় ২৭ তম মারদেকা ফুটবল, ১৯৮৪ সালে ঢাকায় ২৪তম এশীয় যুব ফুটবলের গ্রুপ ২ এর বাছায় পর্ব, ইন্দোনেশিয়ায় অষ্টম এশিয়ান কাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ড, ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ারে কায়েদে আযম ট্রফি, ঢাকায় দ্বিতীয় সাফ গেমস, ১৯৮৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ ফুটবলে বাংলাদেশ লাল দল, সিউলে দশম এশিয়ান গেমস, ১৯৮৭ সালে প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ ফুটবলে বাংলাদেশ সাদা দল, ১৯৯১ সালে সিউল ও কুয়ালালামপুরে প্রি-অলিম্পিক, কলম্বোয় পঞ্চম সাফ গেমস, ১৯৯২ সালে ব্যাঙ্কক এশিয়া কাপ, ১৯৯৩ সালে সপ্তম প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ ফুটবলে বাংলাদেশ লাল দল এবং জাপান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বকাপ বাছায় পর্বে অংশ নেন। কানন ফরাশগঞ্জে খেলেন ১৯৮০ থেকে ১৯৮২, ব্রাদার্সে খেলেন ৮৩ সালে ৮৪ থেকে ৯৬ পর্যন্ত খেলেন মোহামেডানে। ঘরোয়া লীগে কাননের সব চাইতে বড় অর্জন মোহামেডানের খেলোয়াড় হয়ে ’৮৬, ৮৭ এবং ৮৮-৮৯ অপরাজিত হ্যাটট্রিক লীগ চ্যাম্পিয়ন। তাছাড়া জাতীয় দলের (লাল দল) অধিনায়ক হিসেবে ৮৮-৮৯ প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপে চ্যাম্পিয়ন। জাতীয় দলের সদস্য ছিলেন ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। মহসিন-কানন মোহামেডানে একসঙ্গে দলে থাকা কালিন সময়ে ১৯৮৬ সালে কানন প্রায় সব ম্যাচে মাঠে নামার জন্য পাকাপোক্ত হয়ে যান। সে এক মজার কাহিনী। মহসিন-কানন মহাপাগলের আড্ডায় সেদিন সেই স্মৃতি তুলে ধরেন কানন ঠিক এইভাবে, ‘১৯৮৬ সালে মোহামেডান-আরামবাগ ম্যাচ। মোহামেডানের গোলরক্ষক মহসিন। তিন স্টেপের গ্যাঁড়াকলে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলে মহসিন। তখন নিয়ম ছিল বল নিয়ে গোলরক্ষক তিন স্টেপের বেশি যেতে পারবে না। মহসিন একটা বল মারতে গিয়ে ডি বক্সের বাইরে চলে আসে। রেফারি মহসিনকে হলুদ কার্ড দেখান এবং সেই ফ্রি কিকের নির্দেশ দেন। ফ্রি কিক থেকে মোহামেডান গোল খেয়ে বসে। মোহামেডানের কোচ এনায়েত ভাই মহসিনকে উঠিয়ে নিলেন। কারণ তার ভাবনা ছিল মহসিন যদি আরেকটা কার্ড খেয়ে বসে তাহলে পরের ম্যাচে খেলতে পারবে না। বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় আমাকে। আমি কয়েকটা গোলের বল সেভ করি। এর পর থেকে আমি নিয়মিত হয়ে যাই।’

কানন এই কথা বলে মহসিনের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘মহসিন ভাই ঠিক কইলাম না?’ মহসিন মাউথ পিস হাতে নিয়ে কাননকে উদ্দেশ্য করে হাসতে হাসতে বলেন, ‘আরে ব্যাডা আমি ইচ্ছা কইরা এক করছিলাম যাতে তুই সুযোগ পাস’। উপস্থিত সবাই একযোগে হেসে উঠেন। অনুষ্ঠানে দারুণ সব আলোচনা হয়। সমর্থকরা অনেক মজাদার প্রশ্ন ছুড়ে দেন এই সাবেক লিজেন্ডদের কে। তারাও অনেক কৌঁসুলি হয়ে মজাদার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকেন। রাসেল ওমর প্রশ্ন করেন আপনাদের মধ্যে কার মেয়ে ফ্যান বেশি ছিল? কানন বলেন মহসিনের। সে দেখতে খুব হ্যান্ডসাম ছিল। সবাই হেসে উঠেন। হাসি থামিয়ে দিয়ে মহসিন বলেন, তুই যখন ভিপি হইলি তখন কাগো ভোটে জয়লাভ করছিলি? সব মাইয়াগো ভোট। উত্তর শুনে সবাই উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠেন।

মোহামেডানের এক সমর্থক পংকজ রয় অতীত স্মৃতি রোমান্থন করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি ছোট বেলায় তখন ক্লাস টু’তে পড়ি। আমি মহসিনের চরম ভক্ত ছিলাম। আমি তার মতো গোলরক্ষক হতে চাইতাম। রাতে ঘুমানোর সময় বল কোলে নিয়ে ঘুমাতাম। ঘরের ভিতর মহসিন ভাইয়ের মতো বল নিয়ে ফ্লাই করতাম। অনেক বার জানালার গ্লাস আর সোকেসের গ্লাস ভেঙ্গেছি।’ ১৯৮৭ সালে মহসিন চলে যান মোহামেডানের চীর শত্রু ক্লাব আবাহনীতে। ব্যাস দুই বন্ধু বনে যান চির শত্রুতে। লীগ ম্যাচে দুই দলের হয়ে দুই বন্ধুর প্রথম মোকাবেলা ১৯৮৭ সালের লীগ। সেটি ড্র ছিল। তবে সুপার লীগে কানন তার প্রিয় বন্ধুকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেন যদিও শেষ কিছু সময় হাতে চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। জীবনের সেরা ম্যাচ প্রসঙ্গে মহসিন উল্লেখ করেন ঘরোয়া ফুটবলে ১৯৮২ সালের লীগের প্রথম পর্বের ম্যাচ মোহামেডানের হয়ে আবাহনীর বিরুদ্ধে। যে ম্যাচে কাজী সালাহউদ্দিন ভাইয়ের কিক ঠেকিয়েছিলেন। সেই ম্যাচটাই তার জীবনের অন্যতম সেরা ম্যাচ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১৯৮২ সালের মারদেকা টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচটা ছিল জীবনের সেরা ম্যাচ হিসেবে উল্লেখ করেন। আজ থেকে ৩৬ বছর আগের খেলার ইতিহাস টানতে গিয়ে এক সময়ের জাদ্রেল গোলরক্ষক মহসিনের চোখ যেন ভিজে উঠেছিল।

জীবনের সেরা ম্যাচ প্রসঙ্গে কানন উল্লেখ করেন ঘরোয়া ফুটবলে ১৯৮৬ সালের লীগের দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ আবাহনীর বিরুদ্ধে। যে ম্যাচ নিয়ে সারা দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। যে ম্যাচের জন্য স্কুল কলেজ পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। আবাহনী যেখানে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন সেখানে ফরেন রিক্রুট তুখোড় ফর্মে থাকা প্রেমলাল, পাকির আলী থাকা সত্ত্বেও আরও দলীয় শক্তি বৃদ্ধির জন্য ভারত থেকে চিমা, মনোরঞ্জন এবং ভাস্কর গাংগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে আসে। পক্ষান্তরে মোহামেডান তিন বছর শিরোপা বঞ্চিত। এবার শিরোপা না পেলে ক্লাবের অস্তিত্ব নিয়ে টান দিবে এমন অবস্থা। দলে একমাত্র বিদেশী ঘানার ইব্রাহিম ছাড়া কেউ নেই। চ্যাম্পিয়নের জন্য মোহামেডানকে জিততেই হবে। অনেক জল্পনা কল্পনার সেই ম্যাচে মোহামেডান ইলিয়াস এবং মনুর দেওয়া গোলে আবাহনীকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ৮৬ সালের লীগ চ্যাম্পিয়ন লাভ করে। এ ম্যাচের ঘটনা বলতে গিয়ে কানন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। উপস্থিত সমর্থকরা এই ম্যাচ হিস্ট্রি শুনে যেন অতীতে হারিয়ে যান।

ভাল গোলরক্ষক তৈরি করার জন্য মহসিন জানান দেশের সাবেক যারা গোলরক্ষক আছেন তাদের দিয়ে মাঝে মাঝে ছোট ছোট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেটা শুধু গোল পজিশনের জন্যই নয় যে কোন পজিশনের জন্য হতে পারে। সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের কাছে পেলে নতুন ফুটবলাররা উজ্জীবিত এবং উদ্বুদ্ধ হবে। মহসিন আরও উল্লেখ করেন, যে দেশে ৩০/৪০ বছর পরও সমর্থকরা সাবেক খেলোয়াড়দের এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন সে দেশের ফুটবল পিছিয়ে থাকতে পারে না। নিশ্চয় কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। ফুটবল বোদ্ধাদের দিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অবিলম্বে^ই তার সমাধান করা উচিত। মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচে দুই দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হওয়া, স্কুল কলেজ ছুটি, বিকেল পাঁচটায় ম্যাচ শুরু অথচ বেলা ১১ টার মধ্যেই স্টেডিয়ামের গেটে লাইন, দুপুর ১২ টায় গ্যালারি পরিপূর্ণ, এই সব আজ অতীত। মোহামেডান আবাহনী ম্যাচের একটি টিকিটের জন্য কতই না হাহাকার গেছে। মোহামেডান আবাহনী ম্যাচের দিন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। বাবা মা অস্থির, তার আদরের ছেলে খেলা দেখে ফেরেনি এই চিন্তায়। পরের দিন পেপারের টিয়ার গ্যাসের ছবি সংবলিত হেড লাইন, ‘রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচ প-।’

এই সব এখন আর হয় না। আবাহনী- মোহামেডান ম্যাচ চলছে অথচ গ্যালারি ফাঁকা । কালের বিবর্তনে আজ সব হারিয়ে গেছে। তারপরেও মহসিন-কানন কিংবা কানন-মহসিন, কার নাম আগে বা পরে লিখা হবে, যে দেশে এই নিয়ে এখনও দুই দলের সমর্থকদের মাঝে বাকবিত-া চলে, যে দেশে সাবেক এই দুই তারকাকে দেখার জন্য এখনও সমর্থকরা অধীর আগ্রহে বসে থাকেন, সে দেশের ফুটবলের বর্তমান করুণ হাল দেখলে একটু চমকেই যেতে হয়।