২১ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঙ্কটে ইসরাইল সরকার

  • এনামুল হক

নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইলে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কটের পেছনে আছে সম্প্রতি হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি। গত ১০ নবেম্বর হামাসের সঙ্গে ইসরাইলীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায় যা ছিল ২০১৪ সালের পর থেকে প্রচ-তম সংঘর্ষ। হামাস যোদ্ধারা ইসরাইলে চার শতাধিক রকেট ও মর্টার নিক্ষেপ করে এবং অন্যদিকে ইসরাইল গাজায় এক শতাধিক বোমা বর্ষণ করে। পরে মিসরের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষের মধ্যে অস্ত্র বিরতি হয়।

এই অস্ত্র বিরতিকে কেন্দ্র করে ইসরাইল সরকারে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এভিগডর লিবারম্যান সর্বশেষ সংঘর্ষে সরকারের নমনীয় ভূমিকার কারণে কোয়ালিশন সরকার থেকে তার দলকে প্রত্যাহার করে নিয়ে নিজেও পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে নেসেট বা পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকল। অন্য ডানপন্থী দলগুলো লিবারম্যানের পদক অনুসরণ করলে এই নাজুক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও তিনি হারিয়ে ফেলবেন। ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন আগামী বছরের নবেম্বরে। সেটা বসন্তে এগিয়ে আনা হতে পারে। অর্থাৎ গাজা সংঘর্ষ এবং সেই সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলে কোয়ালিশন সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

এক দশকেরও বেশি ইসরাইল ও মিসরের অবরোধে থাকার পর গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। ২০ লাখ লোক নিদারুণ দারিদ্র্যক্লিষ্ট। অবকাঠামো ধসে পড়েছে। গত মার্চ মাস থেকেই বিপুলসংখ্যক লোক প্রতি সপ্তাহে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে বিক্ষোভ করে এসেছে। ইসরাইলী ¯œাইপারদের গুলিতে অসংখ্য গাজাবাসী নিহত হয়েছে।

অন্যদিকে গাজা থেকে নিক্ষিপ্ত জ্বলন্ত ঘুড়িতে ইসরাইলীদেরও কিছু ক্ষতি হয়েছে। এভাবে চলতে চলতে দু’পক্ষের মধ্যে এমন রকেট হামলা ও বিমান হামলা বিনিময় হয় যা থেকে পুরোদস্তুর যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। গত এক দশকে এমন যুদ্ধ হয়েছে তিনটি।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু চতুর্থ যুদ্ধ এড়াতে একটা সমঝোতার চেষ্টা করেছেন। সে জন্য গত ৮ নবেম্বর দেড় কোটি ডলারের নোট বোঝাই তিনটি স্যুটকেস দিয়ে কাতারের দূতকে গাজায় পাঠিয়েছিলেন। এই ক্যাশ সিভিল সার্ভেন্টদের মধ্যে বিতরণ করা হয় যারা সেই গ্রীষ্মের সময় থেকে বেতন পাচ্ছিল না। ইসরাইল কাতারের দান করা ডিজেলবাহী লরিও গাজায় যেতে দিয়েছিল। সেখানকার একমাত্র বিদ্যুত কেন্দ্রের দ্বিতীয় টার্নাইনও চালু করতে দিয়েছিল যার ফলে গাজার মানুষ এখন দিনে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুত পাচ্ছে। এসব সামান্য সুবিধার পরিবর্তে হামাস বিক্ষোভ সীমিত করতে রাজি হয়।

ইসরাইলীদের অনেকে এই সমঝোতা পছন্দ করেনি। গত ১১ নবেম্বর নেতানিয়াহু প্যারিস সফরকালে বলেন ওই সমঝোতা চুক্তি গাজায় অহেতুক যুদ্ধ ও মানবিক সঙ্কট বোধ করবে। কিন্তু সেই শান্ত অবস্থা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় সাদা পোশাকে একদল ইসরাইলী কমান্ডো গাজায় গোয়েন্দা অভিযান চালানোর সময় হামাসের জঙ্গীদের মুখোমুখি হয়। শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ। কমান্ডোরা বিমান হামলা চালাতে বলে এবং তাদের উদ্ধার করতে হেলিকপ্টারের সহায়তা চায়। শুরু হয় ইসরাইলী বিমান হামলা। তারা গাজায় ১৬০টি ভবনের ওপর আঘাত হানে। অন্যদিকে হামাস ও তার মিত্ররা ইসরাইলে ৪৬০টি রকেট ও মর্টার নিক্ষেপ করে। অচিরেই মিসর অস্ত্র বিরতির জন্য মধ্যস্থতা করে। হামাস ও নেতানিয়াহু উভয়েই অস্ত্র বিরতি চাচ্ছিল। কারণ কেউই যুদ্ধ চাইছিল না। কিন্তু নেতানিয়াহুর কোয়ালিশন শরিকরা এতে ক্ষেপে যায়। তারা কঠোরতর ব্যবস্থা তথা যুদ্ধ চাইছিল যার বিরোধিতা করেছিলেন নেতানিয়াহু ও জেনারেলরা। এ অবস্থায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিবারম্যান পদত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন নেতানিয়াহু সন্ত্রাসের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ডানপন্থী ইহুদী হোম পার্টির নেতা নেফতালি বেনেটের লোভ প্রতিরক্ষা দফতর। কিন্তু নেতানিয়াহু তার এক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে এই পদ দিতে চান না। তাই তিনি পদটা নিজেই গ্রহণ করবেন। এমনিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তার হাতে। এ অবস্থায় বেনেট পদত্যাগ করতে পারেন। তা হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে নেতানিয়াহু আগাম নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে আসা নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন হতে পারে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

নির্বাচিত সংবাদ