২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মার্কেলের উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন

ফ্রিডরিক মার্জ সম্ভবত এঙ্গেলা মার্কেলের উত্তরসূরি হিসেবে জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)-এর হাল ধরতে যাচ্ছেন। চ্যান্সেলর হিসেবে মার্কেলের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘনিয়ে আসছে। গত ২৯ অক্টোবর তিনি দলের নেতৃত্বে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন যে পদটি তিনি ১৮ বছর ধরে ধারণ করে রেখেছেন। এ অবস্থায় রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী ফ্রিডরিক মার্জও ঘোষণা দিয়েছেন যে দলের নেতৃত্বের শূন্যপদ পূরণে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ডিসেম্বরে ১০০১ জন ডেলিগেট দলের নতুন প্রধান নির্বাচিত করবে।

৬২ বছর বয়স্ক মার্জ দীর্ঘদিন ধরে সিডিইউ দলটির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯০ এর দশকে তিনি এক দুর্দান্ত পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। ২০০২ সালে সিডিইউর সংসদীয় দলের নেতা হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি সিজ মার্কেলের কাছে পরাজিত হন। সে সময় তিনি মার্কেলের উচ্চাভিলাষকে ঠিকমতো পরিমাপ করতে পারেননি। ২০০৯ সালে তিনি পার্লামেন্ট সদস্য পদে ইস্তফা দিয়ে আইন ও অর্থলগ্নির এক আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার বেছে নেন। তবে একটা পা রাজনীতিতে ঠিকই রেখেছিলন, বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি সংগঠন আটলান্টিক ব্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবে। কালক্রমে মার্কেলকে নিয়ে হতাশা দলের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়লে মার্জয়ের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষও বাড়তে থাকে।

তথাপি দলের রক্ষনশীল ঘাঁটির অনেকের কাছে মার্জ গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। কারণ মার্কেল যেখানে সতর্ক ও সাবধানী মার্জ সেখানে বেপরোয়া ও লড়াকু মেজাজের। বামপন্থীদের প্রতি মার্কেলের শুভেচ্ছার মনোভাবের কারণে তিনি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের (এসপিডি) কাছ থেকে ভোট আদায় করতে পারলেও তার নিজের শিবিরের অনেকেই বিরক্ত হয়েছিলেন। মার্জ ২০০০ সালে মন্তব্য করেছিলেন যে অভিবাসীদের জার্মান সংস্থাটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তার এই উক্তিটি রক্ষণশীলরা বেশ পছন্দের সঙ্গে স্মরণ করে থাকেন যারা ২০১৫-১৬ সালে ১০ লাখ অভিবাসীকে জার্মানিতে আসতে দেয়ার জন্য মার্কেলকে ক্ষমা করেননি।

৭ ডিসেম্বরের সম্মেলনকে সামনে রেখে দলীয় প্রধান পদে প্রার্থীরা সারাদেশ সফর করে বেড়াচ্ছেন এবং যতখানি সম্ভব ডেলিগেটদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন তবে ফ্রিডরিক মার্জ যে মার্কেলের উত্তরসূরি হতে পারবেনই তার কোন গ্যারান্টি নেই। কারণ মার্কেলের অনুগত এ্যানিগ্রেট ক্যাম্প- কারেনবাউরের সঙ্গে তার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। অবশ্য অতি সাম্প্রতিক জরিপে এই দু’জনের মধ্যে মার্জের অবস্থান একটু ভাল। তৃতীয় যে প্রার্থী রয়েছেন তিনি মার্কেলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্পাহন। প্রথম দু’জন থেকে তাঁর অবস্থান আবশ্য বেশ দূরে। যিনিই সম্মেলনে দলীয় প্রধান নির্বাচিত হোন না কেন, মার্কেলের চ্যান্সেলর পদের মেয়াদ শেষ হলে প্রথানুযায়ী তিনিই হবেন পরবর্তী চ্যান্সেলর।

অর্থ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্জকে জার্মানির রক্ষণশীল ও সনাতনী মূল্যবোধের ধারক বলে মনে করা হয়। মার্কেলের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে পেরে উঠতে না পেরে ১০ বছর আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই মার্কেলের সঙ্গে তার এক ধরনের তিক্ত সম্পর্ক চলে আসছে। অর্থনৈতিক উদারতাবাদের দৃঢ় প্রবক্তা মার্জ সার্কেলের অনুসৃত অর্থনৈতিক ধারার অবসানের অঙ্গীকার করেছেন। কিছুটা ক্যারিশমার অধিকারী মার্জ বলেছেন তার লক্ষ্য ব্যবসায় ক্ষেত্রে নব্য-উদার আধুনিকতার ধারা নিয়ে আসা এবং একই সঙ্গে চিরায়ত রক্ষণশীল সাংস্কৃতিক ধারা বজায় রাখা। তবে ব্ল্যাকরক নামে একটি জার্মান এ্যাসেট-ম্যানেজমেন্ট ফার্মের কর কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তার দলীয় প্রধান নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাকে ম্লান করতে পারে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট