০৫ জানুয়ারী ২০১৯

‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৫’ পেলেন আকিমুন রহমান

‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৫’ পেলেন আকিমুন রহমান

অনলাইন ডেস্ক ॥ প্রবন্ধ, গবেষণা ও কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৫’পেয়েছেন ড. আকিমুন রহমান।

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে কবি আসাদ চৌধুরী

পুরস্কার তুলে দেন সাহিত্যিক, লেখক ও গবেষক ড. আকিমুন রহমানের হাতে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুরস্কৃত লেখকের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

বিশেষ অতিথির ভাষণে বেগম আকতার কামাল বলেন, আকিমুন রহমান যথার্থ লেখক হিসেবে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে সমাজবাস্তবতার নানাদিক নিয়ে লেখেন। আকিমুন পুরাণমনষ্ক মানুষ, তবে তিনি পুরাণের পুরুষ নির্মিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর লেখায়। চাঁদের অন্ধকার দিকটা তাঁর সাহিত্য-অন্বেষণের বিষয়। ধর্ম, সমাজ ও পুরুষ নির্মিত সিস্টেমে যে নারী, তাঁকে আকিমুন রহমান নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চেয়েছেন তাঁর গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ ও গবেষণায়। তাঁর বইগুলো আমাদের দৃষ্টি খুলে দেয়।

প্রধান অতিথি আসাদ চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে প্রাচীন কাল থেকে এ পর্যন্ত সমাজ, মানুষ, দেশ সম্পর্কে চমৎকার সৃষ্টি আমাদের উপহার দিয়েছেন আকিমুন রহমান। তাঁর অনুসন্ধান এক জায়গায় সীমিত না। চিন্তার অনেকগুলো দরজা তিনি খুলে দেন।

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আকিমুন রহমান বলেন, সাধনার বিকল্প কিছু নেই একজন লেখকের জন্য। পৃথিবীতে যদি প্রকৃতি বা রাজনীতি বা সমাজনীতি পড়ার বিষয় হয়, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঠের বিষয় হলো পুরুষ। পুরুষকে ধর্ম, পুরাণ ও তার নির্মিত সমাজ থেকে পাঠ নিতে হয়। আমার সাহিত্যদৃষ্টি সেই পাঠের দিকেই প্রসারিত।

ড. আকিমুন রহমানের জন্ম নারায়ণগঞ্জে ১৯৬০ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে পিএইচডি করেছেন বহুমাত্রিক লেখক ড. হুমায়ুন আজাদের তত্ত্বাবধানে। গবেষণাপত্রটি ‘আধুনিক বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতার স্বরূপ (১৯২০-’৫০)’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: বিবি থেকে বেগম, আধুনিক বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতার স্বরূপ, সোনার খড়কুটো, পুরুষের পৃথিবীতে এক মেয়ে, রক্তপুঁজে গেঁথে যাওযা মাছি, এইসব নিভৃত কুহক, জীবনের পুরোনো বৃত্তান্ত, নিরন্তর পুরুষ ভাবনা, পৌরাণিক পুরুষ, বাংলা সাহিত্যে বাস্তবতার দলিল (১৩১৮-১৩৫০ বঙ্গাব্দ), সাক্ষী কেবল চৈত্রমাসের দিন আদিপর্ব, যখন ঘাসেরা আমার বড়, অচীন আলোকুমার ও নগণ্য মানবী ইত্যাদি।

লেখালেখির পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।