২৩ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ এরা ভোটারদের রোষানলে পড়েছে

  • মোঃ দলিল উদ্দিন দুলাল

২০১৮ সালের ত্রিশ ডিসেম্বর! সাল বাদ দেয়া যাক। কিন্তু মাস তো বাঙালী জাতির অস্তিত্বের মাস, গর্বের মাস, ৩০ লাখ শহীদের আত্ম-উৎর্গের বিনিময়ে বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালে রাজাকার আলবদর, আলশামস পরাজিতদের পাকবাহিনীর কবর দেয়ার মাস। ৪৭ বছর পর একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি এ মাসের নির্বাচনে হুক্কার ছাড়লে এবার নির্বাচনের বিপ্লব ঘটবে। সেই বিপ্লব ঘটাতে তিনি ওই রাজাকার আল বদরের, পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের দোসরদের সঙ্গে ঐক্য করে মুক্তিযোদ্ধাদের ও মুক্তিযোদ্ধা চেতনার পক্ষের শক্তির বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গর্জন করে বলে এবার তারাই জিতবেন। তাদের তর্জন-গর্জন দেখে মনে হতে লাগল মানুষ ভাবল হয়ত ’৭৫ পরবর্তী সময়ের মতো দেশ হতে চলল কিনা? কোন অসাংবিধানিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা? ড. কামাল হোসেন ও রাজাকারদের দোসর মির্জা ফখরুল সারাদেশ ঘুরে চষে বেড়াতে লাগল। একই কথা বলল যে, তারা ক্ষমতায় যাবে? মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ১০টি সিটও পাবে না। তারা রাজাকারদের নমিনেশন দিলেন। বাংলার ১৬ কোটি মানুষ মনে স্থির প্রতিজ্ঞা করল তারা আর রাজাকার দোসরদের ক্ষমতায় আনবে না। তাদের সঙ্গে যোগ দিল তরুণপ্রজন্ম। তাই বিপ্লব ঘটলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অনুকূলে। ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলের সকল লম্প-ঝম্প জবাব দেয়ার জন্য তারা ৩০ ডিসেম্বর জবাব দেন ভোটের মাধ্যমে। দেখা গেল ব্যবসায়ী, সংস্কৃতিকর্মী, পেশাজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক একযোগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে। সকল মানুষ এক হয়ে স্বাধীনতার পক্ষের প্রতীক নৌকার পক্ষে ভোট চাইলেন এবং দিলেন।

এবারের নির্বাচনে দেখা গেল সব মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে একটাই আওয়াজ তুললেন, নৌকায় ভোট চাই। শেখ মুজিবের নৌকা, শেখ হাসিনার নৌকা এবং গানের আওয়াজে ট্রাক, রিক্সা এবং মাইক্রোবাসে স্লোগানে উজ্জীবিত করলেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ল ফোন ক্রস কানেকশনে তথ্য ফাঁস হতে লাগল। তারপর দেখা গেল শত শত কোটি টাকা নির্বাচনের কাজে যোগান দেয়ায় এগুলো পুলিশ প্রশাসনে ধরা পড়তে লাগল। এই টাকাগুলো যাচ্ছে রাজাকারদের হাতে। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার পর বিএনপির ভিত দুমড়ে-মুচছে গেল। তরুণ সমাজে বিএনপিমনা লোকজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে শুরু করল। তরুণ ব্যবসায়ীরা সর্বপ্রকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দেখল, যে সরকার আছে তারই থাকা দরকার।

ভোটাররা ভাবল ড. কামাল হোসেন গংদের দল যদি ক্ষমতায় আসে তারা বিবাদ-বিসংবাদে লিপ্ত হবে। যুবকরা ভাবল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্বক্ষেত্রে সুশাসন ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল লক্ষ্য ছিল শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। অসাম্প্রদায়িক দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে যখন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বাসস্থানের বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এক হয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছে। ঐক্যফ্রন্ট রাজাকারদের পুনর্বাসন করতে গিয়ে নিজেরাই ভোটার ও বাংলাদেশের জনগণের রোষানলে পড়ে গেল।

ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্ট করে হুকার দিলেন এবং ভোট সেন্টারে পাহারা দেয়ার আহ্বান করলেন। অথচ ভোটের দিন বিএনপির কোন লোককে ভোটকেন্দ্রে দেখা যায়নি। বহু স্থানে পুলিং এজেন্ট দেয়ার জন্য কোন লোক পাওয়া যায়নি। ড. কামাল হোসেন ফখরুলদের জোটকে মুখে চুনকালি দিয়ে ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টা পর রাজাকাররা ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। কথা হলোÑ এবার মানুষ ডিসেম্বর মাসকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট প্রয়োগ করেছে। এদেশের এ প্রজন্ম বিগত প্রজন্ম আগামী দিনের প্রজন্মের কথা ভেবে শেখ হাসিনার উন্নয়ন গুরুত্বসহকারে অনুধাবন করে। সমুদ্র বিজয়, আকাশ বিজয়, সিটমহল বিজয়, নিজ উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণ, বিদ্যুত, শিক্ষা এক কথায় গ্রামে-গঞ্জে সর্বস্তরে শান্তি বিরাজ করায় ভোটাররা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়েছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের গ্রামগুলো শহরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর নতুন মন্ত্রীসভায় এক ঝাঁক তরুণ মন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তি আমাদের আরো আশান্বিত করেছে। এদের নিয়ে এগিয়ে চলবেন শেখ হাসিনা, এগিয়ে যাবে দেশ- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায়।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক কমান্ডার, সোনালী ব্যাংক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট