২১ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রংপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে রাইস মিল শ্রমিকদের মানববন্ধন

রংপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে রাইস মিল শ্রমিকদের মানববন্ধন

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর ॥ দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকা নগরীর বাহার কাচনা এলাকার ফিরোজা অটোরাইস মিল পুণরায় চালুকরণসহ অবিলম্বে বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দেয়ার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগি শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর প্রেসক্লাব চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত মাননববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন সমাবেশে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মিলটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বেতন দিতে টালবাহানা করে যাচ্ছে ফিরোজা অটোরাইস মিল কর্তৃপক্ষ।

এতে অসহায় শ্রমিকরা নিদারুণ কষ্টে দিনানিপাত করছে। তারা বলেন, এক’শ সত্তর জনের মতো শ্রমিক রাইস মিলে কাজ করত। হঠাৎ করে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা না দিয়েই বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে গত বছরের জুলাইয়ে মিল বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে টানা ছয় মাসে একবারও শ্রমিকদের খোঁজ খবর নেননি কর্তৃপক্ষ। অথচ শ্রমিকরা ৭০ লাখ টাকার উর্ধ্বে বেতন পাবেন। বকেয়া বেতন পাবার আশায় মিলের সামনে দিনের পর দিন বসে থাকলেও মালিকপক্ষের কোন টনক নড়েনি। শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, বেতন পরিশোধ করা নিয়ে মালিকপক্ষ শুরু থেকেই গড়িমসি করছে।

এসময় শ্রমিক নেতারা বর্তমান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ও রংপুরের সন্তান টিপু মুনশিকে শ্রমিকদের আন্দোলনে সাড়া দিয়ে অটোরাইস মিল কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অবিলম্বে মিল চালু না করলে এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ না করলে শ্রমিকরা রাস্তায় নামবে বলে তারা হুশিয়ার করে দেন। তারা বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে সে দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

মিল ম্যানেজার মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও মিল শ্রমিক আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা লোকমান ফারুক, ফোরম্যান মিঠু মিয়া, মিলিং ফোরম্যান মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে, মানববন্ধনে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন প্রদান প্রসঙ্গে ফিরোজা অটোরাইস মিল মালিক জরুহুল ইসলাম বলেন, আমি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দিতে চাই, কিন্তু মিল বন্ধ থাকার কারণে দিতে পারছি না। একটি প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে মিল বন্ধ রাখতে হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মিল বন্ধ থাকায় শুধু শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি।

আমরাও ক্ষতির মধ্যে আছি। মিলের মেশিনগুলো পরিত্যক্ত থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মিল বন্ধ থাকার পরও ২২ কোটি টাকা লোনের কিস্তি প্রতিমাসে দিতে হচ্ছে। কাজেই মিল চালু না হলে বেতন দেয়া সম্ভব না।

নির্বাচিত সংবাদ