২২ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক করিডর

বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশের পথে এগিয়ে চলেছে। নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নীত হচ্ছে মধ্যম আয়ের দেশে। বলা যায়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অগ্রসরমান দেশ। একইসঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রেও অনুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে। আগামী দু’এক দশকের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে দেশ। সে জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন সবার আগে প্রয়োজন অদ্যাবধি অর্জিত অবস্থান সংহত করা। পাশাপাশি নয়া লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধাকে যথাযথ ও কৌশলগত সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাই পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন। অবশ্যই সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার বাস্তবতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদানের বিকল্প নেই। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যয় হ্রাস পাবে। বাড়বে উৎপাদন সক্ষমতা। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হবে সম্প্রসারিত। উন্নত হবে মানুষের জীবনযাপনের মান। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা চলতে থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ এই অঞ্চল হতে বার্ষিক চার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি ডলারের সমান উৎপাদন বা আয় হবে। যদি এই অঞ্চলকে নিয়ে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক করিডর গঠন করা সম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে এই অঞ্চলের উৎপাদন বা অর্থনৈতিক আয় ১৪ হাজার আটাশ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে বাড়তি আড়াই কোটি মানুষের হবে কর্মসংস্থান। সমন্বিতভাবে এই অঞ্চলে উন্নয়ন করা সম্ভব হলে ২০৫০ সাল নাগাদ শুধু এই অঞ্চলেই সাড়ে তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের অঞ্চলে পরিণত হবে। কাঠামোগত রূপান্তর এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়নের মতো উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমে শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। সেইসঙ্গে গ্রাম-শহরের মধ্যে কমে আসবে ব্যবধান। উন্নত হবে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক ‘ভ্যালু চেইন’ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়া সহজতর হবে।

আজকের বাস্তবতা এই যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই। এখানে নগরায়ণ ও শিল্পায়ন দুটি বিষয়, যা ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এজন্য অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়নে প্রয়োজন শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

শুধু সরকারী নয়, বেসরকারী খাতের প্রতিনিধিদেরও অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়নে প্রয়োজন অঙ্গীকার। রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে তা সম্ভব। তৈরি পোশাক খাতের সফলতার পরে অন্য খাতেও অগ্রগতি করা সঙ্গত। এডিবি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপনÑ বিশেষ করে মৎস্য ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, তৈরি পোশাক, বাইসাইকেল, অটোমোবাইল, জাহাজ তৈরি, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, আসবাবপত্র, গ্লাস, সিরামিক, প্লাস্টিক টায়ার প্রস্তুত কারখানা স্থাপনসহ ১৪টি শিল্পখাতের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থায় দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো জরুরী। অভ্যন্তরীণ কাঁচামাল ব্যবহার যাতে বেশি করা যায় সেজন্য এসব শিল্প গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারী উদ্যোগে দেশে ষোলোটি অর্থনৈতিক করিডর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে নয়টি করিডর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব রেখেছে। এডিবি যাই বলুক, যে রুটগুলো দিয়ে বাংলাদেশ তৃতীয় দেশে যেতে পারবে, করিডর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেগুলোকেই প্রাধান্য দেয়া সঙ্গত। যার মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ স্থলসেতু হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে, সেভাবে করিডর হওয়া উচিত। এই করিডর পার্শ্ববর্তী নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ শক্তিশালী করবে। এই করিডর বাস্তবে রূপ দিতে হলে আগামী ত্রিশ বছরে রূপান্তরিত অবকাঠামো খাতে অন্তত ১৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ করিডর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে (বিসিএসএ) যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা); হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ইত্যাদি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিকল্প নেই। অগ্রগতির পথে উন্নয়নের রথে এগুবেই দেশ।