১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংসদে এসে সক্রিয় ভূমিকা রাখুন ॥ নাসিম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংসদে এসে বিরোধী দলের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনারা সংখ্যায় যে কজনই হন না কেন, মাথা গরম না করে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শপথ নিয়ে সংসদে আসুন, ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন। শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা আপনারা রাখুন। আপনাদের বক্তব্য মানুষ গ্রহণ করতেও পারে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গমাতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা সবারই উচিত। আমাদেরও যেমন উচিত, তাদেরও উচিত। জনগণের ম্যান্ডেট তারা পেয়েছে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সেজন্য আমি মনে করি, তারা (বিএনপি) সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন, ধ্বংসাত্মক এবং নৈরাজ্যমূলক কাজ তারা করবেন না।

নাসিম বলেন, রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য জনগণের কাছ থেকে যে ম্যান্ডেট পেয়েছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সবারই আশা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি (এ) কার্যকর ভূমিকা রাখবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে তারা তাদের ভূমিকা রাখবে।

ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিকে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ’৭০, ’৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর মতো এত বড় বিশাল ব্যক্তিদের সামনে কিন্তু মাত্র কজন বিরোধী দলের সদস্য ছিল। এই পার্লামেন্টে অনেক প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আছেন, আপনারা জানেন। তারপরও কিন্তু একজন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জন্ম হয়েছিল, মনে রাখতে হবে আপনাদের। তিনি বলেন, সংসদে কয়টি আসন থাকল তা নয়; কতটা গঠনমূলক বিরোধিতা করা গেল, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংসদে জনগণের কথা বলুন। জনগণকে ভালবাসতে শিখুন।

দেশবিরোধী চক্রান্ত এখনও বন্ধ হয়নি বলে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এখন আর শুধু আওয়ামী লীগ নেত্রী নন, তিনি জনগণের নেত্রী। তিনি সবার নেতা। তিনি আপামর মেহনতি ১৬ কোটি মানুষের নেতা, মুক্তিযুদ্ধেরও চেতনার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামীতে দেশ হবে জঙ্গীমুক্ত, মৌলবাদমুক্ত এবং স্বাধীনতাবিরোধীমুক্ত।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বঙ্গমাতা পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কনক কান্তি বড়ুয়া, বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি আনিছুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।