২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিজয় বার্তায় উদযাপিত হবে তেত্রিশতম জাতীয় কবিতা উৎসব

  • অংশ নেবেন ছয় দেশের কবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খল মুক্তির ডাক দিয়ে ১৯৮৭ সালে যাত্রা শুরু করে জাতীয় কবিতা উৎসব। সেই সূচনার পর দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম ও সঙ্কটে উৎসবকে হাতিয়ার করে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে কবিরা। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সম্প্রীতির স্বদেশে বিনির্মাণে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে উৎসবের আয়োজক জাতীয় কবিতা পরিষদ। বছর ঘুরে আবার আসছে কবিতা উৎসবের মাস ফেব্রুয়ারি। আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে তেত্রিশতম জাতীয় কবিতা উৎসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে উৎসব দফতরে চলছে নিবন্ধন কার্যক্রম। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই নিবন্ধন কার্যক্রম। এবারের উৎসব উদ্বোধন করবেন প্রখ্যাত কবি আসাদ চৌধুরী। এখনও পর্যন্ত এবারের উৎসব স্লোগান ও উৎসব সঙ্গীত চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ‘বাঙালীর জয়, কবিতার জয়’ উৎসব স্লোগান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। উৎসবে স্বদেশের কবিদের সঙ্গে অংশ নেবেন ভারত, সুইডেন, মালদ্বীপ, তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার আমন্ত্রিত পনেরোজনের বেশি অতিথি কবি। উৎসবে নিবন্ধিত কবিদের কবিতাপাঠের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিনার। এর মধ্যে একটি সেমিনারে উঠে আসবে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার বিষয়টি। এবারের উৎসবে কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে ১ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় কবিতা দিবস’ ঘোষণার দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের সিভিল সার্ভিসে পৃথকভাবে সংস্কৃতিবিষয়ক ক্যাডার সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে পরিষদ। তেত্রিশতম জাতীয় কবিতা উৎসব উপলক্ষে শুক্রবার সকালে পরিষদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির উৎসব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে পরিষদের সভাপতি কবি ড. মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে উৎসব সংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। বক্তব্য রাখেন তেত্রিশতম উৎসবের উদ্বোধক কবি আসাদ চৌধুরী, পরিষদের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কবি হারিসুল হক, নির্বাহী কমিটির সদস্য কবি কাজী রোজী, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আসাদ মান্নান প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে তারিক সুজাত বলেন, স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, গণতন্ত্র হনন, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং বর্বরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কবিরা অব্যাহতভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এভাবে দেশের কবিরা চিরকালই প্রগতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্বের সকল ভাষার সংগ্রামী কবি ও কবিতার ধারার সঙ্গে বাঙালী কবিদের লড়াই একই মন্ত্রে গাঁথা। ১৯৮৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত পৃথিবীর নানা দেশের নানা ভাষার কয়েক শতাধিক কবি এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। কালের পরিক্রমায় জাতীয় কবিতা উৎসব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসে আন্তর্জাতিক রূপ ধারণ করেছে। উৎসবে অংশ নেয়া বিদেশী কবিরা স্ব স্ব ভাষায় অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশের কবিদের কবিতা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কবিতার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বব্যাপী। সিভিল সার্ভিসে সংস্কৃতিবিষয়ক ক্যাডার চালুর দাবি জানিয়ে বক্তব্যে বলা হয়, আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে উপনীত হয়েও আজ পর্যন্ত দেশের সিভিল সার্ভিসে সংস্কৃতিবিষয়ক কোন ক্যাডার সার্ভিস প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে সংস্কৃতিবান্ধব সররকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। জাতীয় কবিতা দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলা হয়, জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার ১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারী ‘জতীয় কবিতা দিবস’ ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছি আমরা। এ বিষয়ে পুনর্বার সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ সামাদ বলেন, শৃঙ্খল মুক্তির ডাক দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আহ্বানে ১৯৮৭ সালে শুরু হয় জাতীয় কবিতা উৎসব। এ উৎসবের পৃথক চরিত্রটি ধরে রাখতে কখনোই কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই উৎসব দেশের সকল মানুষের। এ কারণেই একবার একজন রিক্সাচালক তার রিক্সা থামিয়ে উৎসব মঞ্চে এসে কবিতা পাঠ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেতনায় উদ্দীপ্ত এ উৎসব। এই উৎসবের আমেজ এতটাই মধুর যে প্রতিবছর এখানে আসার জন্য অপেক্ষায় থাকেন ভারতের কবিরা। এবারের উৎসব স্লোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চূড়ান্ত না নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসায় এবারের স্লোগান হতে পারে ‘বাঙালীর জয়, কবিতার জয়’।

আসাদ চৌধুরী বলেন, দেশের সকল ক্রান্তিকালে সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় কবিতা পরিষদ। অসাম্প্রদায়িকতা ও বাঙালীত্বের চেতনাকে লালন করে পরিষদ আয়োজিত এই কবিতা উৎসব। তাই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কখনও শরীরে দাগ লাগতে দেয়নি জাতীয় কবিতা পরিষদ।

টিএসিরর উৎসব কার্যালয়ে চলছে উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম। প্রতিদিনই ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কবিরা নিবন্ধনের মাধ্যমে উৎসবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছেন। ঢাকার কবিদের নিবন্ধন ফি ৩০০ টাকা এবং ঢাকার বাইরের কবিদের নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই নিবন্ধন কার্যক্রম। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলছে এ কার্যক্রম।