২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘তাঁর মতো সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিক এ দেশে বিরল’

  • সৈয়দ আশরাফ স্মরণ সভা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের রাজনীতির ভুবনে যেন উজ্জ্ব¦লতম ধ্রুবতারা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। মাটির কাছাকাছি থেকেও নিজেকে আকাশের উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারার মতো বিরল ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। তার মতো নির্মোহ, সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ এ দেশে বিরল। স্বাধীনতার পূর্বে ছাত্রনেতা হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে এবং স্বাধীনতার পরে রাজনীতিতে সাহসী নেতৃত্ব- তাকে করে তুলেছে অনন্য। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী হলেও, ক্ষমতা কিংবা অর্থের মোহ তাঁকে ছোঁয়নি। আড়ালে থাকলেও সবার প্রিয় হয়ে ওঠার অসামান্য ক্ষমতা ছিল তাঁর। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

স্মরণসভায় বক্তব্য দেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন জোটের সাবেক সভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দীন ইউসুফ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শোকসঙ্গীত ‘তুমি, নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’ পরিবেশন করেন গণসঙ্গীত শিল্পী সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা। এর পর সৈয়দ আশরাফের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

হাসানুল হক ইনু বলেন, যারা রাজনীতি করে, তারা ফেরেশতা নয়, শয়তানও নয়। তারা দোষে-গুণে মানুষ। কিন্তু যারা দোষ না করে গুণে এগিয়ে থাকেন তারা মহা মানুষ, ভালো গুণের মানুষ। সৈয়দ আশরাফ তেমনি একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন গুণী মানুষ, সাহসী মানুষ, দক্ষ মানুষ। তিনি আরও বলেন, এক-এগারোর সময় যখন অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন, সৈয়দ আশরাফ বিন্দুমাত্র বিভ্রান্ত হননি। তিনি নীতিবান ছিলেন, নিষ্ঠাবান ছিলেন, আদর্শবান ছিলেন, কুশলী ছিলেন, সজ্জন ছিলেন। ক্ষমতা ও টাকার পেছনে ছোটেননি কখনও। এসব বিষয় তার কাছ থেকে শেখার আছে আমাদের।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রাজনীতিবিদ হয়, সংসদ সদস্য হয়, মন্ত্রী হয়। কিন্তু একজন সৈয়দ আশরাফ সহজে হয় না। ক্ষমতায় থেকেও ক্ষমতার মোহ থেকে তিনি নিজেকে সবসময় মুক্ত রেখেছেন। তার অন্তিমযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ সৈয়দ আশরাফের মতো লোককেই নেতা হিসেবে চায়। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত চোখ এ-কথাই বলে, এ দেশের মানুষ সৈয়দ আশরাফের আদর্শকে লালন করতে চায়।

সৈয়দ আশরাফের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে নূর বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কিন্তু এই পদ তাকে কখনও আচ্ছন্ন করেনি। নিজেকে কিছুটা আড়ালে রেখে সুচারুভাবে দলকে পরিচালনা করেছেন তিনি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা ছিল প্রবাদ প্রতিম। একজন রাজনীতিকের জীবনে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। একইসঙ্গে ঈর্ষণীয় ও অনুকরণীয় এ রকম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সমকালীন সময়ে খুব একটা দেখা যায় না।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন একজন নির্লোভ মানুষ। তিনি বাংলাদেশকে ভালবাসতেন। যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করেছিলেন। তিনি নেই। তাকে সামনে রেখে আমাদের সামনের পথ চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতা পাঠ করেন সৈয়দ হাসান ইমাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পরিচয়’ পাঠ করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ পাঠ করেন আহকাম্্ উল্লাহ্্ এবং রেজিনা ওয়ালী লীনা পাঠ করেন শামসুর রাহমানের ‘পান্থজন’। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সৈয়দ আশরাফ শুনতেন শাহ আবদুল করিমের ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’ গানটি। স্মরণ মঞ্চে যা গেয়ে শোনান শিল্পী লাভলী দেব। শিল্পী মহিউজ্জামান চৌধুরী গেয়ে শোনান রবীন্দ্রনাথের ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে’। গণসঙ্গীত শিল্পী সমন্বয় পরিষদের শিল্পীদের কণ্ঠে ‘আমরা সবাই বাঙালী’ গানটি গীত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ স্মরণ অনুষ্ঠান।