১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাগ্য খুলছে তৃণমূলের ॥ সংরক্ষিত নারী আসনে আরেক চমক থাকছে

  • ত্যাগী নেত্রীরাই স্থান পাবেন ;###;দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ এমপিরই বাদ পড়ার সম্ভাবনা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মন্ত্রিসভায় ‘মহাচমকের’ পর এবার সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনেও আরেকটি চমক উপহার দিতে পারেন টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড সৃষ্টিকারী শেখ হাসিনা। ডাকসাইটে ও বাঘা বাঘা জ্যেষ্ঠ নেতাকে সাইড লাইনে ফেলে তারুণ্যনির্ভর ও নবীন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় এনে পুরো দেশবাসীকে যেমন চমক দিয়েছেন তেমনি সংরক্ষিত নারী আসনেও পুরনোর অধিকাংশকে বাদ দিয়ে তৃণমূল থেকে ত্যাগী নেত্রীদের মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে গত দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ এমপিই এবার বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে জেলা কোটা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত, বিভিন্ন সেক্টরে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা এমন নারীনেত্রী এবং সংস্কৃতি অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কিছু সেলিব্রিটিও এবার সংসদে সংরক্ষিত আসনের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। পাশাপাশি দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যেসব পরিবারের পুরুষ সদস্য লাভজনক পদে নেই, সেই পরিবারের নারীও এ পদের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে মন্ত্রিসভার মতো সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগ্যও এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। এ কারণে সংসদ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণে গণভবনসহ প্রতিটি অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নারীনেত্রীদের ভিড় এখন চোখে পড়ার মতো।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, আগামী সপ্তাহেই নারী আসনে তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন অনুসারে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে এবার আওয়ামী লীগ সর্বাধিক ৪৩টি, জাতীয় পার্টি ৪টি, ঐক্যফ্রন্ট ১টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল মিলে ২টি আসন পাবে।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন নারী আসনের তফসিল ঘোষণার পর পরই দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন ফরম জমা থেকে শুরু করে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে পারে নির্বাচন কমিশন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে বাছাই কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে যেসব জেলা থেকে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মহিলা আসনে কেউ এমপি ছিলেন না সেসব জেলার মহিলা, যুব মহিলা বা সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীদের কারও কারও কপাল খুলতে পারে। কপাল খুলতে পারে অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র জগতের দুই-একজনেরও। সাবেক এমপি, কিন্তু পরবর্তীতে আর মনোনয়ন পাননি অথচ দলের জন্য অবদান আছে বা ভাল ইমেজ আছে, তাদের সংরক্ষিত আসনে এমপি বানানো হতে পারে। এ পদে আসতে পারে বিভিন্ন পেশাজীবী থেকেও দুই-একজন। তবে, যেখান থেকেই সংরক্ষিত আসনের এমপি হন, দলের জন্য তাদের থাকতে হবে ত্যাগ, দুঃসময়ে দলের জন্য অবদান। পাশাপাশি তাদের হতে হবে জনঘনিষ্ঠ এবং হতে হবে ভাল ইমেজের।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে, দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা সূত্রে এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানা যায়। দশম জাতীয় সংসদের অধিকাংশ নারী এমপি এবার বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিগত পাঁচ বছরে সংসদ অধিবেশনে ভাল ভূমিকা রাখা এবং বিতর্ক ও বক্তৃতায় পারদর্শী বেশ কয়েক সাবেক নারী এমপিকে একাদশ জাতীয় সংসদেও দেখা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক নেতা জানান, পূর্বে যেসব জেলা সংরক্ষিত এমপি থেকে বঞ্চিত হয়েছে সেসব জেলা সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দল মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্বও প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ওপরই ন্যস্ত রয়েছে। নানা ক্ষেত্রে যারা দলের জন্য অবদান রেখেছেন, সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তৃণমূলের অনেক নতুন মুখকে নারী আসনের এমপি হিসেবে সংসদে দেখা যেতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তারা।

এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে বিভিন্ন পর্যায়ের নারীনেত্রীরা প্রতিদিনই দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। দলের জন্য নিজেদের অবদানের কথাও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে তুলে ধরছেন নানাভাবেই। দশম জাতীয় সংসদের সাবেক নারী এমপিরা ছাড়াও মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেত্রীরাও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টার কোন কমতি করছেন না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি অনুষ্ঠানেই মনোনয়নপ্রত্যাশী নারীনেত্রীদের ভিড় এখন উল্লেখ করার মতো। এছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত অনেক এলাকায় জনপ্রিয় নেত্রীও চেষ্টা করছেন সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে। তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে সংরক্ষিত নারী আসনের কাক্সিক্ষত ‘এমপি’ পদ, সেটিও নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুরধার সিদ্ধান্তের ওপর।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার ২২ নারী সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ১৯ জনই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে। জাতীয় পার্টি থেকে দু’জন এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন। গত দশম জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী এমপি ছিলেন ২৩ জন।