১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আলিসের হ্যাটট্রিকে অপরাজেয় ঢাকা

আলিসের হ্যাটট্রিকে অপরাজেয় ঢাকা
  • আফ্রিদি ঘূর্ণিতে কুমিল্লার দ্বিতীয় জয়

মিথুন আশরাফ ॥ এক এক করে তিনটি ম্যাচই জিতে গেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। মনে করা হচ্ছিল, গত আসরে যে ফাইনালে রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল ঢাকার। এবার বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে দুই দলের প্রথম লড়াইয়েও ঢাকা কাত হবে। কিন্তু মাশরাফির রংপুরকেই শেষপর্যন্ত কুপোকাত করে দিয়েছে সাকিবের ঢাকা। আল ইসলাম আলিসের (৪/২৬) হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট নেয়া জাদুময় স্পিনে রংপুরকে ২ রানে হারিয়ে এখন পর্যন্ত লীগে অপরাজিতও আছে ঢাকা। পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থানটিও ধরে রেখেছে ঢাকা। শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ে দেশে চলে যাওয়া স্টিভেন স্মিথহীন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে রাজশাহী কিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দেয়। ৩ উইকেট নেয়া শহীদ আফ্রিদির ঘূর্ণিতেই তা সম্ভব হয়। আফ্রিদি ঝলকে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় কুমিল্লা।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম খেলায় জয় হাত থেকে ফঁসকে যাচ্ছিল ঢাকার। জয়ের কাছাকাছিই চলে যাচ্ছিল রংপুর। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকার কাইরন পোলার্ডের (৬২) ব্যাটিং তাÐবের সঙ্গে সাকিবের (৩৬) দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৮৩ রান করেও হারতে চলেছিল। শেষপর্যন্ত প্রথম প্রতিযোগিতামূলক কোন ম্যাচ খেলতে নামা আল ইসলাম আলিস স্পিন জাদু দেখিয়ে ফেলেন। রাইলি রুশোর (৮৩) ঝড় থামান। ম্যাচ জেতানোর কাছে নিয়ে যাওয়া মোহাম্মদ মিঠুনকেও (৪৯) রুখে দেন আলিস। ১৫ ওভারেই ১৪২ রান করে ফেলে রংপুর। একটা সময়ে গিয়ে রুশো ও মিঠুন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১২১ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন। মনে হচ্ছিল, ম্যাচ এ দুইজনই জিতিয়ে বের হবেন। কিন্তু আলিসের জাদু যে তখনও লুকানোই ছিল। ১৪৬ রানে রংপুর যেতেই রুশোকে আউট করে দেন আলিস। রংপুর এই যে চাপে পড়ে, সেখান থেকে আর বের হতে পারে না। রংপুরের জিততে যখন ১৫ বলে ২৩ রান লাগে, এমন মুহূর্তে হ্যাটট্রিক করে বসেন আলিস। ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে মিঠুনকে আউট করার পর টানা দুই বলে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও ফরহাদ রেজাকেও সাজঘরে ফেরান। এবার বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন আলিস। মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী, ২০১২) ও আল আমিন হোসেনের (বরিশাল বুলস, ২০১৫) পর আলিস হ্যাটট্রিক করেন। স্পিনার হিসেবে বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন আলিস। শেষমুহূর্তে শফিউল ইসলাম টানা দুই বলে দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আবার ম্যাচ রংপুরের দিকে নিলেও আলিসের দুর্দান্ত স্পিনের কাছেই মাত হতে হয়। শেষ ওভারে জিততে ১৪ রান দরকার ছিল রংপুরের। শফিউল দুই বলে দুই চার হাঁকিয়ে দেন। ৩ বলে যখন জিততে ৬ রান লাগে, তখন ৩ রানের বেশি দেননি আলিস। ৯ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৮১ রান করতে পারে রংপুর। ১৪৬ রান পর্যন্ত রংপুরের ২ উইকেট পড়েছিল। সেখান থেকে ২৪ রানে ৭ উইকেট হারায় রংপুর। জেতার কী সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়। আলিসের দ্যুতিতে ঢাকা ম্যাচও জিতে যায়। পেÐুলামের মতো ঘুরতে থাকা চরম প্রতিদ্ব›িদ্বতাপূর্ণ ম্যাচে শেষপর্যন্ত ঢাকাই বাজিমাত করে। আলিসের হ্যাটট্রিকেই এই জয় আসে। ঢাকাও এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকে। টানা তিন ম্যাচ জিতে নেয় ঢাকা।

দ্বিতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে রাজশাহী। ৬৩ রান করতেই ৭ উইকেট হারায়। ১০০ রানও করতে পারবে না রাজশাহী। এমনই ধরে নেয়া হয়। এদিন ওপেনিংয়ে নেমে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০ রানের ইনিংসও খেলেন। মিরাজের পর জাকির হাসানের (২৭) ও শেষে ইসুরু উদানার (৩২) ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৮.৫ ওভারে ১২৪ রান করতে পারে রাজশাহী। অষ্টম উইকেটে জাকির ও উদানা মিলে ৩০ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যান। হ্যাটট্রিকের আশা জাগিয়েও শেষপর্যন্ত তা না হওয়া শহীদ আফ্রিদি ৩ উইকেট নেন। ৪ ওভার বল করে ১ মেডেনসহ ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন আফ্রিদি। অসাধারণ বোলিং করেন। জবাব দিতে নেমে ৬৫ রান পর্যন্ত কোন উইকেট হারায়নি কুমিল্লা। মনে হচ্ছিল, ওপেনিং জুটিই ম্যাচ জিতিয়ে দেবেন। শেষপর্যন্ত দলের ৬৫ রানে গিয়ে এভিন লুইস (২৮) আউট হন। তামিম ইকবাল এদিন ওপেনিংয়ে নামেননি। এনামুল হক বিজয় ওপেনিংয়ে খেলার সুযোগ পান। বিজয় সুযোগ কাজেও লাগান। ৩২ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৪০ রান করেন। দলের ৮৭ রানের সময় তামিমের ব্যাটে লেগে সোজা যেতে থাকা বল বোলারের পায়ে লেগে স্ট্যাম্পের বেল পড়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নন স্ট্রাইকে রান আউটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন বিজয়। জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে তামিমও (২৫ বলে ২১ রান) আউট হয়ে যান। ১০১ রানে তামিম আউটের পর আর ৮ রান যোগ হতেই শোয়েব মালিক ও ইমরুল কায়েসও সাজঘরে ফেরেন। শেষপর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮.৪ ওভারে ১৩০ রান করে জিতে কুমিল্লা। লিয়াম ডওশনকে (১২*) নিয়ে আফ্রিদি (৯*) ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান।