১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরাজগঞ্জে সৌরবিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ কাজ ফেব্রুয়ারিতে শুরু

  • উৎপাদন হবে ৭.৬ মেগাওয়াট

রশিদ মামুন ॥ সিরাজগঞ্জে ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত কেন্দ্রর নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে। রাষ্ট্রীয় নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। এখন পর্যন্ত নির্মাণ শুরু হতে যাওয়া সরকারী সৌর বিদ্যুত প্রকল্পর মধ্যে এই কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী মোট বিদ্যুত উৎপাদনের ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস থেকে আসার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত নানা জটিলতার কারণে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুত উৎপাদন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন সব থেকে বড় সঙ্কট জমি প্রাপ্তি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয় জমি অধিগ্রহণ এবং বন্দোবস্ত করে দিতে অযথা বেশি সময় নিচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মাসের পর মাস একই টেবিলে ফাইল পড়ে থাকারও নজির রয়েছে বলে জানা গেছে। এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদন বাঁধাগ্রস্ত করছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারত এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে। তারা দক্ষিণ এশিয়ায় সব থেকে কম দরে সৌর বিদ্যুত উৎপাদন করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গ্যাস চালিত কেন্দ্রর চেয়েও ভারতের সৌর বিদ্যুতের দাম কম। বাংলাদেশেও উদ্যোগ নিলে কম দরে সৌর বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, এখন দেশে দুটি গ্রিড সংযুক্ত সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে। দুটি কেন্দ্রর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র ২৩ মেগাওাট। তবে সোলার হোম সিস্টেম এবং মিনি গ্রিড মিলিয়ে দেশে সৌর বিদ্যুত উৎপাদনের পরিমাণ ৪০০ মেগাওয়াটের উপরে। কিন্তু মোট বিদ্যুত উৎপাদনের মধ্যে ১০ ভাগ হারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুত থাকলে এখন এর পরিমাণ দুই হাজার মেগাওয়াট হওয়ার কথা।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি সিরাজগঞ্জে নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণে তারা সরকারের কাছ থেকে কোন অর্থ নিচ্ছে না। সাধারণত সরকারী কোম্পানি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূলধনী বিনিয়োগ (ইক্যুইটি) সরকারের কাছ থেকে নিয়ে থাকে। তবে এখন কোন কোন প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নেও নির্মাণ করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রটিও তেমনই একটি কেন্দ্র।

বিদ্যুত বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে সরকারী বিদ্যুত উৎপাদন কোম্পানির যাত্রা খুব বেশি দিন শুরু হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই কোন কোন কোম্পানি বিদ্যুত উৎপাদনে বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে। সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির সফলতার মাত্রা অনেক বেশি। সরকারী এই কোম্পানিটি সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, খুলনা এবং পায়রাতে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ভবিষ্যতে বিদ্যুত উৎপাদন বিতরণের বেশিরভাগ সরকারী কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি সূত্র বলছে কেন্দ্রটি নির্মাণে ১০৮ কোটি ৪৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর মধ্যে প্রকল্পটি নির্মাণের জন্য চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। প্রকল্পটির যন্ত্রাংশ জার্মানি এবং চীন থেকে সংগ্রহ করা হবে। বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণে দেশীয় অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির পাওয়ার হাবের কাছে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হচ্ছে। এজন্য সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক অকৃষি খাস জমি দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত দিয়েছে।

প্রসঙ্গত এখন এর বাইরে সরকারী সোলার বিদ্যুত প্রকল্পের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ৫ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এর বাইরে পিডিবি, আরপিসিএল এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির পরিকল্পনায় সৌর বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এর কোনটির ক্ষেত্রেই জমি না পাওয়াতে চুক্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যুত বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারী এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জমি দেয়ার ফাইল দীর্ঘদিন পড়ে থাকাটা যৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কোন ফাইল গেলে সেই ফাইলে মতামত পেতে ১০ দিনের বেশি সময় লাগে না। কিন্তু জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ে ফাইল নিয়ে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। নতুন করে দায়িত্ব নিয়ে সরকার দেশের উন্নয়ন কাজকে আরও গতিশীল করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গতিশীল না হলে উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আসবে না। যে বিষয়ে নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।