২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব বাড়ায় আরও উন্নয়ন প্রত্যাশী সিলেটবাসী

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ শেষ হয়েছে ভোট উৎসব, শুরু হয়েছে উন্নয়ন উৎসব। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর চমক দেখেছে দেশবাসী নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে। প্রধানমন্ত্রী যা করেছেন, দেশবাসী যেন ঠিক তেমনটাই চায়। মন্ত্রিসভার গুরু দায়িত্ব পালনে হয়তো হাঁপিয়ে উঠেন মন্ত্রীরা। ক্ষণিকের জন্য হলেও নিজেরা একটু অবসর চান। আর সেটা তারা মুখে না বললেও হয়তো কার্যক্ষেত্রে চলার গতি কিছুটা হলেও ঝিমিয়ে পড়তে পারে। পুরনোদের ভুল ত্রুটিকে পরখ করে দেখা আর নিজেদের নতুন অভিজ্ঞতা, উদ্যমতা চলার গতিকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলের অংশীদারিত্ব নিয়ে সংসদ সাজিয়েছেন, সাজিয়েছেন মন্ত্রিসভা। নতুনদের স্বাগত জানিয়ে দেশবাসী প্রত্যাশার ডালাও সাজাচ্ছেন নিজেদের মতো করে। অতীতের সরকারগুলোর সঙ্গে শেখ হাসিনার সরকারের ফারাক রয়েছে অনেক জায়গায়। দেশের মানুষ অতীতে সরকারের কাছ থেকে শুধু আশ্বাস পেয়েছে। এই হবে, সেই হবে। সেই আশ্বাস বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন হত্যা-রাহাজানি, জঙ্গী হামলা, বাজারে অস্থিতিশীলতাসহ নানান সঙ্কটে ছিলেন দেশের মানুষ। আলাদীনের আশ্চর্য্য প্রদ্বীপ না হলেও কোন অংশে কম নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় বসে বেশিদূর এগুতে পারেননি। তবে দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় এসে দেশ গঠনে নিজেই আশ্চর্য্য প্রদ্বীপ আবিষ্কার করে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন, তা করেন। সে সত্য আজ প্রমাণিত। দেশ গঠনে তার সাহসী পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। তাইতো তার কাছ থেকে কোন কিছু ঘোষণা হলেই মানুষ আনন্দিত হন। গত ১০ বছরে মানুষ দেখেছে তার ঘোষণার বাস্তবায়ন। এক সময় মানুষ শুধু নিজের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে টানাটানি করত। যতটা ছিনিয়ে আনা যায়। সেই দৃষ্টিভঙ্গিও আজ বদলাতে শুরু করেছে। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় এমপি মন্ত্রীদের দর কষাকষি করতে হতো। সংসদে নিজের অবহেলিত অঞ্চলের কথা তুলে ধরতে হতো। তারপর সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিছুটা উন্নতির আলো দেখা যেত। সেটা আজ পুরনো পদ্ধতি হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র দেশে একযোগে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রাম শহর বলতে কিছু নেই। সর্বত্র সমানতালে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। যেন এমপি মন্ত্রীরা না বললেও অসুবিধা নেই। কাজ যা হবার হবেই। নতুন বছরের শুরুতে নতুন মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু। প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার শেষ নেই। মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাসী। নতুন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের পাশাপাশি রয়েছে নতুন এলাকার মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তির বিষয়। সব মিলিয়ে নতুন প্রত্যাশার দিগন্তে সারা দেশের সঙ্গে দৃষ্টি রয়েছে সিলেটবাসীরও। প্রধানমন্ত্রী যখন সিলেট এসেছেন তখনই নতুন কিছু দিয়েছেন। গেল সংসদে অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পায় সিলেট বিভাগ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরদারি ও তিন মন্ত্রীর চেষ্টায় সিলেট বিভাগে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেট থেকে ঠাঁই পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব বাড়ায় উন্নয়ন নিয়ে বেড়েছে সিলেটবাসীর প্রত্যাশাও। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পাঁচ মন্ত্রী ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এটি বাস্তবায়নের পথে। প্রায় ৩মাস পূর্বে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সাইনবোর্ডটি সবার নজরে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পেতে আর যুগ যুগ অপেক্ষা করতে হবে না। গত বছর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন বছরের শুরুতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের একটি চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে। শুক্রবার বন্দিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সিলেট জেলা নবনির্মিত কারাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। সেটাও পূরণ হতে চলেছে। নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী সেটা জানান দিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সিলেটের প্রবাসীদের সুবিধার্থে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়নে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাতকালে মোমেন বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে প্রবাসীরা আরও ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের বাংলাদেশের উন্নয়নের মহাসড়কে সম্পৃক্ত করা হবে। মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাতকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে প্রবাসীরা যেন ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য পাঁচটি খাত আমি চিহ্নিত করেছি। এসবের মধ্যে প্রথমে রয়েছে রেমিটেন্স বৃদ্ধি। প্রবাসীরা যেন সহজেই রেমিটেন্স পাঠাতে পারে সেই উদ্যোগ নেওয়া, দ্বিতীয়ত দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহী করা, তৃতীয়ত রয়েছে জনহিতৈষীমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা। এই কাজের আওতায় দুর্যোগ ছাড়াও স্বাস্থ্যখাতসহ নানা খাতে প্রবাসীরা যুক্ত থাকতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা। চতুর্থত, প্রবাসীদের মধ্যে যারা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তাদের যুক্ত করা। আর পঞ্চমটি হলো বিদেশের মাটিতে শীর্ষ পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব ছেড়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে দেশে ফিরে সিলেটবাসীকে অনেক মেগা উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন নবগঠিত মন্ত্রিসভার পরররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তার কাছে সিলেটবাসীর সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ। মোমেনের নির্বাচনী প্রচারণায়ও যুক্ত ছিল এই প্রতিশ্রুতি। এ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত হলে যোগাযোগব্যবস্থার নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে। নতুন বছরের শুরুতে এই প্রাপ্তির বিষয়ও নিশ্চিত হয়ে গেছে। দেশের সড়ক-মহাসড়ক এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বিধান মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জুনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি একথা জানান। সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলমান সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন করে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী জুনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু হবে।’

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৬৩ একর জমির ওপর আইসিটি পার্কের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এবার আইসিটি পার্কের কাজ দ্রুত সম্পাদন করে এটি চালু হবে বলেই আশাপ্রকাশ করছেন এই অঞ্চলের মানুষ। সিলেটে স্পেশাল ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে ইকোনোমিক জোন হলে ভারতের সেভেন সিস্টার্সে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার আরো সম্প্রসারিত করার সুযোগ থাকবে। সরকার এখানে ‘শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক জোন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করছেন, সিলেট অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে ইকোনোমিক জোন দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। সিলেট বিভাগের পর্যটন সেক্টরের উন্নয়ন। সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনের আধুনিকায়ন নিয়েও দাবি রয়েছে সিলেটবাসীর।