১৯ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দারিদ্র্য দূরীকরণ

বাংলাদেশে দরিদ্রের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের গত দশ বছরে নেয়া নানা উদ্যোগ আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় দারিদ্র্য বিমোচন ঘটছে দ্রুত। বিশ্বের সামনে দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশ যে এক অনুকরণীয় অবস্থানে পৌঁছেছে, তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে বহুমাত্রিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, বিশ্বের অন্য উন্নয়নশীল দেশের উচিত কীভাবে দারিদ্র্য দূর করতে হয়, তা বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখা। টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশটি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাছে অনুকরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশের এই ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ জাতিসংঘকেও বিস্মিত করেছে। অবশ্য ষোলো কোটির বেশি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে তিন কোটি এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আবার এর মধ্যে এক কোটি মানুষ অতি দরিদ্র। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও দারিদ্র্য দূরীকরণ এখনও সরকারের মূল লক্ষ্য। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উন্নতির ধারা বজায় রাখতে হবে আগামী সাত থেকে দশ বছর, তবেই দারিদ্র্যের হার নেমে আসবে দশ ভাগের নিচে। সারাদেশে বছরে দারিদ্র্য কমানোর হার এখনও দুই শতাংশের নিচে রয়েছে। এই হার দুই শতাংশে নেয়া গেলে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব হবে আগামী দশ বছরের মধ্যে। তাই দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য এই দশ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টাকে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে তার ওপর নির্ভর করবে সুন্দর স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এ জন্য তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তারুণ্যের যথাযথ ব্যবহার করা তাই সঙ্গত বলে মনে করি। দারিদ্র্য দূরীকরণ মানে এই নয় যে, দেশে কোন গরিব লোক থাকবে না। কিন্তু গরিব সব সময় থাকবে। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী, বিধবা বা অসহায়দের দেখাশোনা করতে হবে রাষ্ট্রকেই। ১৯৭১ সালে দারিদ্র্য দূরীকরণের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখনও রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর লক্ষ্য ছিল, দেশ হতে দারিদ্র্য দূর করা। তখন দেশে সত্তর ভাগ মানুষ ছিল দরিদ্র। দারিদ্র্য দূরীকরণ ছিল তখন উন্নয়নের মূলমন্ত্র। সেই সত্তর ভাগ থেকে নেমে এসেছে ২১ ভাগে। এই হার দশ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য কাজ অব্যাহত রেখেছে শেখ হাসিনার নতুন সরকার। যেভাবে দারিদ্র্য কমছে তাতে দশ শতাংশে নামিয়ে আনতে আরও ৭-৮ বছর লেগে যাবে। এর মধ্যে নতুন করে চলমান কর্মসূচী পর্যালোচনা করতে হবে। দেখতে হবে কাক্সিক্ষত হার কমছে কিনা। যদি যথেষ্ট না হয়, তা হলে প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচী নিতে হবে।

বিশ্বে এখন হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৭৭ কোটি। যাদের দৈনিক আয় এক দশমিক ৯০ ডলারের কম। তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশ বা ৩৯ কোটির বসবাস সাহারা অঞ্চলে। আর ৩৪ শতাংশের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। ঠিক এর বিপরীত অবস্থানে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালেও দেশে যেখানে হতদরিদ্রের হার ছিল ৪৩ শতাংশ, দশ বছরের ব্যবধানে তা কমে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বের খুব কম দেশই এমন সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। তাই বাংলাদেশ আজ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দারিদ্র্য এখন আর কবির ভাষার মতো মহীয়ান করে তোলে না। সমাজে দারিদ্র্য সমস্যা হিসেবেই চিহ্নিত। বাংলাদেশের সমাজে এর মূল অনেক গভীরে। দারিদ্র্যে ভুক্তভোগীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সিদ্ধান্তহীনতা, বেকারত্ব ইত্যাদিতে ভুগে থাকেন। এই দারিদ্র্য বিমোচনে শেখ হাসিনা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়ানো, সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন, সামাজিক বিভেদ হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও সূচিত হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশের চেয়ে নিম্ন আয় সত্ত্বেও বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশে এখন হতদরিদ্র তারাই যাদের দৈনিক আয় ১৪৮ টাকার কম। বাংলাদেশ এখন যে হারে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ হতদরিদ্রের হার তিন শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে। শেখ হাসিনার সরকার অসাধ্য সাধন করার কাজটি সূচারুরূপে পালন করায় দারিদ্র্য মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্য হ্রাসের এই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিতে ষোলো কোটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। সচ্ছল বাঙালীর জীবনধারায় প্রবাহিত হবে বাংলাদেশ, সেই প্রত্যাশা চিরায়ত।